সংশ্লিষ্ট
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, জলবায়ু সংকটের ক্ষেত্রে “ন্যায্যতা” শব্দটি আর যথেষ্ট নয়-এখন প্রয়োজন জলবায়ু সুবিচার। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তা এখন আর শুধু পরিবেশগত বিষয় নয়; এটি একটি মানবাধিকার ইস্যু।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ২১টি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনের শুরুতে পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও ঘোষণা দেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে যে ক্লাইমেট ফাইন্যান্স দেওয়ার কথা বলা হয়, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়, যা একটি স্পষ্ট অবিচার। আমরা যে ক্ষতির শিকার, তা আমাদের দোষে নয়। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমাদের কেন ঋণ নিতে হবে?-প্রশ্ন তোলেন তিনি।উপদেষ্টা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর পরিবর্তন নয়, এটি একটি দুর্যোগ। শিল্পায়নকেন্দ্রিক উন্নয়ন ভাবনা এই দুর্যোগকে ত্বরান্বিত করেছে। অথচ বাংলাদেশ বিশ্বের মোট কার্বন নিঃসরণের মাত্র প্রায় ০.৪ শতাংশের জন্য দায়ী, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ অবস্থান করছে।তিনি বলেন, কিছু কিছু শব্দ ব্যবহার করে আমাদের অনেক সময় বিভ্রান্ত ও নিয়ন্ত্রিত করা হয়। খুব সহজভাবে ‘নেট জিরো’ বলা হয়, কিন্তু ‘নেট জিরো’ বলে আসলে কিছু নেই। ‘জিরো’-এর আগে ‘নেট’ বসার অর্থ হলো একটি প্লাস ও একটি মাইনাসের সমন্বয়, যেখানে কার্বন নিঃসরণ একদিকে বাড়তে পারে এবং অন্যদিকে কিছু প্রযুক্তির মাধ্যমে তা সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, আমাদের প্রয়োজন প্রকৃত অর্থে জিরো কার্বন, কোনো বিভ্রান্তিকর শব্দ নয়। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ধোঁকা গ্রহণযোগ্য নয়।তিনি আরও বলেন, ‘নেচার বেইজড সল্যুশন’ শব্দটিও আজ বিভিন্ন কর্পোরেট স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রকৃতির সঙ্গে যুগ যুগ ধরে বসবাস ও সমাধান খোঁজার যে অভিজ্ঞতা জনগণের ছিল, সেটিকে এখন নানা প্রযুক্তি ও কৃত্রিম ধারণার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা প্রকৃত অর্থে নেচার বেইজড নয়।মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, দেশের হাওড়, বাওড়, ওয়েটল্যান্ড ও বিভিন্ন জলাশয় আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবে এসব জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে মৎস্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে।তিনি বলেন, বাজারে ইলিশের দাম বাড়লে আমরা প্রতিবাদ করি, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকটের কারণে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল-সমুদ্র থেকে নদীতে আসা এবং নদী থেকে সমুদ্রে ফিরে যাওয়ার পথে যে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে-সে বিষয়ে আমরা খুব কমই কথা বলি। সম্মেলনের আহ্বায়ক এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদারের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্যে আদিবাসী জনগোষ্ঠী ফোরাম-এর সাধারণ সম্পাদক ও ধরা (DHORA)-এর সদস্য সঞ্জীব দ্রং।মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশিয়ান পিপলস মুভমেন্ট অন ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (APMDD)-এর সমন্বয়ক এবং এশিয়ান এনার্জি নেটওয়ার্ক (AEN)-এর আহ্বায়ক লিডি নাকপিল (Lidy Nacpil)। মূল প্রবন্ধের ওপর প্রতিক্রিয়ায় ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ (FOE) যুক্তরাজ্যের প্রধান নির্বাহী আসাদ রেহমান (Asad Rehman)। সংহতি বক্তব্যে রাখেন অক্সফাম ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আশিস দামলে (Ashish Damle) এবং টারা ক্লাইমেট ফাউন্ডেশনের ডেপুটি রিজিওনাল প্রোগ্রাম ডিরেক্টর সাইনান হটন (Cynan Houghton)।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সম্মলন ও ধরার সদস্য সচিব শরীফ জামিল। সম্মেলনে বাংলাদেশসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ১৪টি দেশের পরিবেশবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও সামাজিক আন্দোলনের নেতারা অংশ গ্রহণ করেন।ভোরের আকাশ/এসএইচ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা নতুন বই পাবে। ইতিমধ্যে সব বই হাতে পৌঁছেছে, জেলায় জেলায় যাচ্ছে।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) কার্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, ইনস্ট্রাক্টর ও নেপের সহকারী বিশেষজ্ঞদের বনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন।গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, যে দেশগুলো শিক্ষায় ভালো করছে, সেখানে প্রাথমিকের শিক্ষক হওয়ার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও জ্ঞানের প্রয়োজন হয়, লাইসেন্স নিতে হয়।চিকিৎসকেরা যেমন এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর বিএমডিসি থেকে লাইসেন্স নেন, তা না হলে প্র্যাকটিস করতে পারেন না। শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও অনেক দেশে এ নিয়ম চালু আছে। আমাদের দেশে সেটি ভবিষ্যতে চালুর পরিকল্পনা করছি।প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন ও ১১তম গ্রেড নিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বেতন কমিশন আছে, তারা বিষয়টি নির্ধারণ করবে। সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত সবার সঙ্গে কথা বলেছি, যেন এটি কার্যকর করা হয়। আশা করতে পারি, এটি বাস্তবায়ন হবে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেপের মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী।বিকেলে তিনি বিভাগীয় বইমেলার অনুষ্ঠানে যোগ দেন।ভোরের আকাশ/এসএইচ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীর শেকড় যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তা উপড়ে ফেলা হবে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, হাদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক। আজ তিনি সন্ত্রাসীদের গুলিতে চিকিৎসাধীন। আমরা তার জন্য কায়মানো বাক্যে দোয়া করি।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মালিথিয়া গ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।হাদির ওপর গুলির ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বকে ধ্বংস করতে পতিত স্বৈরাচারের সন্ত্রাসী বাহিনী টার্গেট করেছে। কিন্তু তারা সফল হবে না।আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে দাবি করে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন বদ্ধ পরিকর। আগামী নির্বাচনে মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে। জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে এবারের নির্বাচনে।এ সময় তিনি বেগম খালেদা জিয়া ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির সুস্থতায় সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।ভোরের আকাশ/এসএইচ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ১৫ জন চিকিৎসকের সমন্বয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) এক বিবৃতির মাধ্যমে এ তথ্য জানান এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউ অ্যান্ড এইচডিইউ বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর ডা. মো. জাফর ইকবাল।বিবৃতিতে জানানো হয়, ওসমান হাদিকে গতকাল শুক্রবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে অপারেশনের পরে এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকার ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয় অপারেশন-পরবর্তী চিকিৎসার জন্য। বিবৃতিতে ১১টি অবজারভেশন ও সিদ্ধান্ত তুলে ধরে মেডিক্যাল টিম। সেগুলো হলো—১. ওসমান হাদির ব্রেন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেহেতু অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে সেহেতু এখন কনজার্ভেটিভভাবেই ম্যানেজ করতে হবে। ব্রেন প্রোটেকশন প্রোটোকল ফলো করে অন্যান্য সব সাপোর্ট চালিয়ে যেতে হবে।যদি একটু স্টেবল হয় তাহলে ব্রেনের রিপিট সিটি স্ক্যান করানো যেতে পারে। ২. ফুসফুসে ইনজুরি আছে ও চেস্ট ড্রেইন টিউবে যেহেতু অল্প ব্লাড আসছে সেহেতু সেটা কন্টিনিউ করতে হবে। ‘ফুসফুসে সংক্রমণ’ ও ‘এ আর ডি এস’ যাতে ডেভেলপ না করে সেদিকে খেয়াল রেখে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট চালিয়ে যেতে হবে।৩. কিডনির কার্যক্ষমতা ফেরত এসেছে, সেটাকে ধরে রাখার জন্য ফ্লুইড ব্যালেন্স যেভাবে ঠিক রাখা হচ্ছে সেভাবেই কন্টিনিউ করতে হবে।৪. শরীরে রক্ত জমাট বাঁধা ও রক্তক্ষরণ হওয়ার মধ্যে যে অসামঞ্জস্যতা দেখা দিয়েছিল (ডিআইসি) সেটা অনেকটাই ঠিক হয়ে এসেছে। এটাকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করে রক্ত ও রক্তের বিভিন্ন উপাদান ট্রানফিউস করতে হবে।৫. ব্রেন স্টেমে ইনজুরির কারণে ব্লাড প্রেসার ও হার্ট বিট ওঠানামা করছে। ব্লাড প্রেসারের জন্য সাপোর্ট যেভাবে দেওয়া আছে সেটা সেভাবেই চলবে। যদি হার্ট রেট কমে যায় তাহলে টেম্পোরারি পেস মেকার লাগানোর জন্য টিম সার্বক্ষণিক রেডি আছে, সেটা লাগানো হবে।৬. ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে, রেডিওলজি, আইসিইউ, এনেসথেসিয়া, সমস্ত ইউরো সার্জারিসহ ও অন্যান্য ডিসিপ্লিনের চিকিৎসকগণ ও সাপোর্টিভ স্টাফগণ যে হিরোইক কাজ করেছেন তার জন্য এই মেডিক্যাল বোর্ড সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।৭. বর্তমানে তার সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।৮. মেডিক্যাল বোর্ড এই সামারিটি রোগীর ভাই ও তার আপনজনকে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তারা চাইলে মিডিয়ার মাধ্যমে তার আপডেট দেশবাসীকে জানাতে পারেন। মেডিক্যাল টিমের পক্ষ থেকে আমাদের সবার প্রিয় শরীফ ওসমান হাদির জন্য বিনীতভাবে দোয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।৯. অযথা কেউ হাসপাতালে এসে ভিড় করবেন না। কোনো ভিজিটির এখানে এলাউড না।১০. আমরা আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি কোনো অনুমান বা ভুল তথ্য প্রচার না করে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতি আস্থা রাখুন। রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষায় সবাই সহযোগিতা করুন।১১. আমাদের মেডিক্যাল টিম সর্বোচ্চ পেশাদারি ও আন্তরিকতার সঙ্গে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য মেডিক্যাল বোর্ড ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে দোয়া করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।ভোরের আকাশ/তা.কা
উপকূল বাঁচাতে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৃষিজমিকে সংরক্ষণ করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খাদ্য নিরাপত্তা সংকট ও দারিদ্র্য বৃদ্ধির মতো চ্যালেঞ্জের মুখে স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করে দ্রুত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিজয় সরণিতে বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় উপকূল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, উপকূলীয় এলাকার সমস্যা প্রতিদিন নতুন মাত্রা পাচ্ছে।প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে, খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে, এবং দারিদ্র্য ও পানি সংকট বেড়ে চলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে জলবায়ু, উদ্বাস্তু, মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ এবং কার্বন শোষণ হ্রাসের মতো সমস্যা, যা দ্রুত মোকাবেলা করা জরুরি।তিনি আরো বলেন, আগের পরিকল্পনা বাতিল হলেও অনেক ক্ষয়ক্ষতি থেকে গেছে। চিংড়িঘের ভাঙন পুনরায় কোটি টাকার বেশি ব্যয় সাপেক্ষ।এই ক্ষতির দায় সরকারকেই নিতে হচ্ছে। নীতিগত অবস্থান বাস্তবতায় রূপ না পেলে কোনো কাজে আসবে না।সম্মেলনে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন, নৌযান চলাচলে বাধা এবং স্থানীয় জনগণের আয় হ্রাসের বিষয়ও তুলে ধরা হয়। উপদেষ্টা জানান, কোস্ট, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন সংস্থা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমর্থনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।পরিবেশ উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বিপুল জনগোষ্ঠী বসবাস করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাস্তব রূপ নিলে এই জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্টে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নেই। পানি সম্পদ, নদী রক্ষা, পরিবহন ও কৃষি সব খাতকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হবে।সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আহ্বায়ক গওহার নঈম ওয়ারা, সঞ্চালনা করেন প্রাণের প্রধান নির্বাহী নুরুল আলম মাসুদ। উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ, বন অধিদপ্তরের উপপ্রধান বন সংরক্ষক মো. জাহিদুল কবির, ঢাকায় সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ডিপাক এলমার এবং কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী প্রধান রেজাউল করিম চৌধুরী।দেশের উপকূলীয় ১৯ জেলার কৃষি, পরিবেশ, খাদ্য নিরাপত্তা, জেলে সম্প্রদায়, অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করা তিন শতাধিক প্রতিনিধি, গবেষক, শিক্ষার্থী ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সদস্যরা এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।সম্মেলনের লক্ষ্য উপকূলীয় অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান রক্ষা করা, যেখানে বনায়ন ও কৃষি সংরক্ষণকে কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।ভোরের আকাশ/তা.কা
দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল আগামীকাল রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরের পর প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি এ তথ্য জানান।অধ্যাপক নাজমুল হোসেন বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সমন্বয়ে মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রস্তুতের কাজ চলছে। বিপুলসংখ্যক খাতা মূল্যায়নের কাজ করতে হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল দুপুরের পর ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে।এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত দেশের ১৭টি কেন্দ্রের ৪৯টি ভেন্যুতে একযোগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. মহিউদ্দিন মাতুব্বর জানান, এ পরীক্ষায় ৯৮ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।শুক্রবার তিনি বলেছিলেন, সার্বিকভাবে ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষায় মোট ৯৮.২২ শতাংশ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন এবং অনুপস্থিতির হার ছিল ১.৭৮ শতাংশ। দ্রুত সময়ের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হবে।উল্লেখ্য, সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল এবং ডেন্টাল কলেজে মোট আসন সংখ্যা ১৩ হাজার ৫১টি। এর মধ্যে সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন রয়েছে ৫ হাজার ১০০টি এবং সরকারি ডেন্টাল ইউনিটে ৫৪৫টি। বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ৬ হাজার ১টি এবং বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে ১ হাজার ৪০৫টি আসন রয়েছে।এ বছর ভর্তি পরীক্ষায় মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২২ হাজার ৬৩২ জন। এর মধ্যে ৪৯ হাজার ২৮ জন পুরুষ এবং ৭৩ হাজার ৬০৪ জন নারী আবেদনকারী ছিলেন।ভোরের আকাশ/তা.কা
কেরানীগঞ্জের বাবুবাজারে জাবালে নূর টাওয়ারে লাগা আগুন সাড়ে ১১ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট। আগুন লাগা ভবনে আটকেপড়া ৪৫ জনকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টা ৩ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণ আসে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম। তিনি জানান, ২১টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় বিকেল ৫টা ৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।এর আগে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার জানান, অগ্নিদুর্ঘটনাকবলিত জাবালে নূর টাওয়ারটি কয়েকটি স্বতন্ত্র ভবন নিয়ে গঠিত; কিন্তু এগুলোর বেজমেন্ট মাত্র একটি। এটি বাণিজ্যিক কাম আবাসিক ভবন। প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় বিভিন্ন গার্মেন্টস পণ্যের দোকান ও ছোট ছোট ঝুট গোডাউন। ওপরে আবাসিক কোয়ার্টার। বেজমেন্টে প্রবেশপথ মাত্র দুটি। বেশিরভাগ দোকানের তালা ও সাটার কেটে কেটে আগুন নেভাতে হচ্ছে। এ কারণে আগুন নেভাতে সময় লাগছে।শাহজাহান শিকদার আরও বলেন, ধোঁয়ার কারণে তিনটি ব্রিদিং টেন্ডার, একটি হ্যাজম্যাট টেন্ডারসহ এখন মোট ২১টি ইউনিট আগুনে কাজ করছে। ভবনে আটকে পড়া আরও তিনজনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মোট উদ্ধার ৪৫ জন।সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আশপাশের ভবনগুলো আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিক্সড ভবন। এখানে অসংখ্য দোকান রয়েছে, সবগুলো সাটার দিয়ে আটকানো। ভবনের নিচতলায় আগুনের সূত্রপাত, দোতলা ও তিনতলায় আগুনের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। এ কারণে আমাদের আগুন নেভানোর কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। এখানে ঝুট গোডাউনসহ অন্যান্য মালামাল রয়েছে। ভবনের বেজমেন্টেও দোকানপাট রয়েছে। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লাগছে।তিনি বলেন, ভবনের দোকানের সাটার ও কলাপসিবল গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে কাজ করতে হচ্ছে। আগুনের সোর্সের কাছে পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। আমরা চারদিক থেকে অ্যাটাক করছি, যাতে আগুন অন্যান্য ভবনে না ছড়িয়ে যায়।আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, এখনই সূত্রপাত বলা যাবে না, আগে আগুন নিয়ন্ত্রণ করবো, তারপর সূত্রপাত বলা যাবে।ভবনে কেমিক্যালের কোনো অস্তিত্ব আছে কি না প্রশ্ন করা হলে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক বলেন, এখানে কেমিক্যালের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অযথা কেউ প্যানিক ক্রিয়েট না করি। এখানে যে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে তা ব্যাক ড্রাফট। ব্যাক ড্রাফট হলো একটা জায়গায় আগুন অথবা ধোঁয়া আটকে থাকলে খোলার পর যে শব্দ হয় সেটির শব্দ হয়েছে।ভোরের আকাশ/তা.কা
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আইনের শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নিহত শিক্ষক, চিকিৎসক, লেখক, সাংবাদিক, শিল্পীসহ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।১৪ ডিসেম্বর মূলত: জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ। শহীদ বুদ্ধিজীবীরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন, স্বাধীনতার পক্ষে কলম ধরেছিলেন। তাদের জীবন ও কর্ম আজও আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে।দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা দেশকে মেধাশুন্য করার গভীর চক্রান্ত। কারণ স্বাধীনতার বিজয়কে বাধাগ্রস্ত করা। বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা আজও সারা জাতিকে বেদনা বিধুর করে। তবে তাদের রেখে যাওয়া আদর্শ অর্থাৎ জ্ঞান বিজ্ঞান, মুক্ত চিন্তা, ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সম্প্রীতির চেতনা উন্নত ও প্রগতিশীল দেশ গড়ার প্রত্যয় জাগিয়ে তোলে। একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ ছিল যাদের অভিষ্ট লক্ষ্য। কিন্তু অর্ধশতাব্দি পার হলেও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। গণতন্ত্র বারবার মৃত্যুকুপে পতিত হয়েছে। একদলীয় দু:শাসনের বাতাবরণ তৈরী করে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশ প্রতিহত করা হয়েছে। অনেক রক্ত ঝরলেও মত প্রকাশ, লেখা ও বলার স্বাধীনতা সংকটের দুর্বিপাক থেকে আজও মুক্ত হতে পারেনি। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পর আইনের শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং বহু পথ ও মতের রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলেই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ বাস্তবায়িত হবে।আজকের এই শোকাবহ দিনে আমি দেশবাসীর প্রতি আহবান জানাই, আসুন শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা একসাথে কাজ করি।আমি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।আল্লাহ্ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।ভোরের আকাশ/তা.কা