কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প
স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৮:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রবক্ষে নির্মিত লাইটিং জেটিসহ বেশ কিছু স্থাপনা অপসারণের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) গঠিত তদন্ত কমিটি।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব বরাবর পাঠানো প্রতিবেদনটিতে জেটি উচ্ছেদসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনটিতে স্বাক্ষর করেন বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফা। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির এক কর্মকর্তা।
নৌচ্যানেলে ৪ কোটি টাকার ক্ষতি
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, “কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ” প্রকল্পের আওতায় মহেশখালী সাগর চ্যানেলের ভেতরে পাইলিংসহ জেটি ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে নৌচ্যানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়েছে ৪ কোটি ১২ লাখ ৬৩ হাজার ৮৩০ টাকা, যা আদায়ের উদ্যোগ নেয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির চারটি সুপারিশ
লাইটিং জেটি অপসারণে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) চিঠি দেওয়া। রানওয়ে সম্প্রসারণে ভবিষ্যতে নৌচ্যানেলে কী প্রভাব পড়বে—তা বেবিচকের অর্থায়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমীক্ষা করা। প্রকল্প কাজে ভূমি ব্যবহার, মালামাল পরিবহন, অস্থায়ী জেটি নির্মাণ ইত্যাদি খাতে বকেয়া ৪ কোটি ১২ লাখ ৬৩ হাজার ৮৩০ টাকা বিআইডব্লিউটিএর অনুকূলে আদায় করা। মহেশখালী চ্যানেল রক্ষায় আন্তমন্ত্রণালয় সভা আয়োজনের সুপারিশ।
বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ইউনুস ভূঁইয়া বলেন, “সরকারি অর্থে রানওয়ে ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে। উচ্ছেদ করতে হলে সরকার করবে। ক্ষতিপূরণের টাকাও সরকার দেবে। এখানে আমার করার কিছু নেই।
তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রের তলদেশ ভরাট করে ১ হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ে নির্মাণ শেষ হয়েছে। এখন রানওয়ের শেষ প্রান্তে মহেশখালী সাগর চ্যানেলের ওপর প্রায় এক কিলোমিটার ‘লাইট ব্রিজ’ জেটি নির্মাণ চলছে, যা বাতির সাহায্যে বিমান চলাচলে সহায়ক হবে। রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের ৮৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাঁধ, সীমানাপ্রাচীরসহ বাকি কাজ শেষ করতে আরও ১৫–২০ দিন লাগবে বলে জানান তিনি।
৩৭০৯ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার বিমানবন্দর আধুনিকায়নে মোট ব্যয় হচ্ছে ৩ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঝিনুক আকৃতির দৃষ্টিনন্দন আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন নির্মাণে ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে ২৭৭ কোটি টাকা। গত ১২ অক্টোবর কক্সবাজার বিমানবন্দরকে ‘আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ ঘোষণা করা হলেও ১২ দিনের মাথায় সেই ঘোষণা বাতিল করা হয়।
ভোরের আকাশ/এসএইচ