ছবি: ভোরের আকাশ
গোপালগঞ্জে মুখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম আবির সাহা (৩৫)। তিনি পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলেন। নিহত আবির সাহা গোপালগঞ্জ পৌরসভার সাহাপাড়া এলাকার গৌর সাহার ছেলে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে গোপালগঞ্জ শহরতলীর ঘোষেরচর উত্তরপাড়া নাম এলাকার একটি বাগান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু জানান, স্থানীয় লোকজন বাগানের ভেতর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। নিহতের মুখ ও হাত বাঁধা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, উদ্ধার হওয়া লাশের হাত ও মুখ বাঁধা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরিচয় শণাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
ভোরের আকাশ/জাআ
সংশ্লিষ্ট
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের রংচী গ্রামের শতবর্ষী হিজল বাগান রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের পরও দখলদারদের তৎপরতা থামেনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায়ের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে বর্তমানে বাগানের ভেতরে প্রকাশ্যেই ধান চাষ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ ডিসেম্বর দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনও উজ্জ্বল রায় সরেজমিন অভিযান পরিচালনা করে হিজল বাগানের ভেতরে সব ধরনের কৃষিকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। অভিযানের সময় অবৈধ মাটি অপসারণ, গাছ কাটার চিহ্ন এবং চাষাবাদের প্রস্তুতির আলামত দেখে সংশ্লিষ্টদের কড়া ভাষায় সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।কিন্তু অভিযানের কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবারও বাগানের ভেতরে চাষাবাদ শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, রংচী গ্রামের আব্দুল হেলিম, মকবুল হোসেন বকুল, শুক্কুর আলী, লাল মিয়া, রহিছ মিয়া, সাদ্দাম মিয়া, ফসর আলীসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে বাগানের জমিতে ধান রোপণ করছেন। প্রতিদিন প্রকাশ্যেই কৃষিকাজ চললেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি এলাকাবাসীর।উপজেলা রংচী গ্রামের বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, হিজল বাগানটিকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য দ্রুত সীমানা নির্ধারণ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণেরও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, দ্রুত পুনরায় অভিযান চালিয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে শতবর্ষী এই হিজল বাগান রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী বলেন, ইউএনও স্যার নিজে এসে নিষেধ করে গেছেন। এরপরও দখলদাররা প্রকাশ্যে ধান লাগাচ্ছে। প্রশাসনের নীরবতায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তাদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ‘ম্যানেজ’ করেই দখলদাররা প্রকাশ্যে কৃষিকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বলেন, হিজল বাগানে কোনো ধরনের চাষাবাদের অনুমতি নেই। এখানে কিছু আইনগত জটিলতা রয়েছে। খুব শিগগিরই আমি সরেজমিনে যাব। তবে কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ভোরের আকাশ/আ.ব
পরিবেশ দূষণের অভিযানে যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়ন এলাকায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির অবৈধ চুল্লির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগমের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে সিদ্ধিপাশা এলাকার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা একাধিক অবৈধ কয়লার চুল্লির বিরুদ্ধে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় কয়েকটি চুল্লি ভেঙে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যতে পুনরায় এ ধরনের কার্যক্রম চালানো হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এসব চুল্লিতে নির্বিচারে বনজ ও ফলজ গাছ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করা হচ্ছিল। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধিপাশা এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা ও বিভিন্ন শ্বাসযন্ত্রজনিত রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছিল।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়লা চুল্লির ধোঁয়ার কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে ছিলেন। প্রশাসনের অভিযানে তারা স্বস্তি প্রকাশ করলেও নিয়মিত নজরদারির দাবি জানান। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম বলেন, অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা এলাকায় অবৈধভাবে কয়লা তৈরির কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের দায়ে আজ কয়েকটি অবৈধ কয়লার চুল্লি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ পুনরায় এ ধরনের কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।ভোরের আকাশ/আ.ব
দিনাজপুরে হাড়কাঁপানো শীতে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই তার উত্তাপ লেগেছে আলুর বাজারে। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে জেলায় নতুন আলুর দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকছেন পুরাতন আলুর দিকে।গত দুই দিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের খুচরা বাজারে নতুন আলুর দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে বাজারে স্টারিস ৭ জাতের আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজিতে, যা দুই দিন আগেও ছিল মাত্র ১৫ টাকা। দেশি গোল আলু ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা এবং সাদা চল্লিশা ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে। সেখানে জাতভেদে নতুন আলু ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। অথচ এই একই সময়ে পুরাতন আলু স্থির রয়েছে মাত্র ১২ টাকা কেজিতে। বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে তিনটি প্রধান কারণ: দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, জেলাজুড়ে টানা ৭ দিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় শ্রমিকরা ক্ষেতে নামতে পারছেন না।প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশার কারণে আগাম জাতের আলু উত্তোলনের জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাজারে সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমেছে। উত্তোলিত আলুর একটি বড় অংশ সরাসরি ট্রাকে করে ঢাকায় চলে যাচ্ছে, ফলে স্থানীয় বাজারে হাহাকার দেখা দিচ্ছে।ঘুঘুডাঙ্গা কৃষক আফছার জানান, ক্ষেতে আমরা আলু সর্বোচ্চ ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। কিন্তু বাজারে গিয়ে তা দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। মাঝপথে হাতবদলেই দাম বাড়ছে, আমরা কৃষকরা লাভ পাচ্ছি না। নতুন আলুর দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের একমাত্র ভরসা এখন ১২ টাকা কেজির পুরাতন আলু। শহরের বাহাদুর বাজারে আসা ক্রেতা হুছেন আলী জানান, নতুন আলুর যে দাম, তাতে না কিনে ৬০ টাকা দিয়ে ৫ কেজি পুরাতন আলু নিলাম। এতে অন্তত কয়দিন চলা যাবে।পাইকারি ব্যবসায়ী আজগার আলী জানান, সরবরাহ কম থাকায় অনেক দোকানই বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বড় ব্যবসায়ীরা যা সংগ্রহ করছেন, তা ঢাকার চাহিদা মেটাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মেটাতে তাই পুরাতন আলুর ওপরই চাপ বাড়ছে।ভোরের আকাশ/আ.ব
গাইবান্ধার বোনারপাড়ায় ট্রেনের বগি থেকে মোজাহার আলী (৬০) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ।সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বোনারপাড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল উদ্দিন। এর আগে রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গাইবান্ধার বোনারপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের বগি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।নিহত মোজাহার আলী সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের মতরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল সর্দারের ছেলে।রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১০টার দিকে সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা কলেজ ট্রেন নামে ট্রেনটি গাইবান্ধার বোনারপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছিল। এসময় রেলওয়ের ঝাড়ুদাররা ট্রেনের শেষ বগিতে ওই ব্যক্তির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিক জানানো হলে বোনারপাড়া রেলওয়ে থানা পুলিশ ওই ট্রেন থেকে লাশটি উদ্ধার করে।এ বিষয়ে বোনারপাড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।ভোরের আকাশ/আ.ব