ছবি: সংগৃহীত
আইফোনের নতুন মডেল আইফোন ১৭ সিরিজ লঞ্চ করেছে অ্যাপল। নতুন মডেলটি হাতে পেতে এরই মধ্যে অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন দোকানে, আবার কেউ কেউ শুধু দূর থেকে তাকিয়েই কষ্ট পাচ্ছেন।
এই তালিকায় এবার নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মাহি সিং।
আইফোন কেনার জন্য তিনি ভক্তদের কাছে প্রকাশ্যে ‘ভিক্ষা’ চেয়েছেন। একটি ভিডিও বার্তায় মাহি অনুরোধ করেছেন—‘যে যতটুকু পারেন, এক রুপি, দুই রুপি বা তিন রুপি করে সাহায্য করুন।’
মাহি তার ভিডিওতে বলেন, ‘আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স বাজারে এসেছে। এর কালারটি আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। তিন মাস আগে বাবা আমাকে আইফোন ১৬ কিনে দিয়েছেন। কিন্তু আগামী ২১ অক্টোবর আমার জন্মদিনে আমি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স চাই। বাবা আমাকে আর এটি কিনে দেবেন না। তাই যদি আপনারা সবাই সামান্য সামান্য করে দেন, আমি এই ফোন কিনতে পারব। এটি হবে আমার স্বপ্নপূরণ।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ফোনটির প্রতি আমার ভালোবাসা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। যদি আপনারা সাহায্য করেন, আমি হৃদয়ের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ জানাব।’
ইনফ্লুয়েন্সারের এ ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বেশিরভাগ মানুষই তার এ উদ্যোগকে ‘হাস্যকর ও অনুচিত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
একজন লিখেছেন, ‘যারা এমন ভিডিও দেখতে ফোন চাপে, তারাই তাকে ১-২ রুপি দিয়ে সাহায্য করবে। আসলে সে ভিক্ষাই চাইছে।’
তবে অন্য এক নেটিজেন মাহির পক্ষ নিয়ে বলেন, ‘সে গরিব বলে তাকে নিয়ে মজা করা হচ্ছে। অথচ অনেক ধনী ব্যক্তি বিভিন্ন নামে অনলাইনে অনুদান চান, তখন কেউ কিছু বলেন না।’
সূত্র: এনডিটিভি
ভোরের আকাশ/মো.আ.
সংশ্লিষ্ট
ওমান উপসাগরে ছয় মিলিয়ন লিটার চোরাচালানকৃত ডিজেল বহনের অভিযোগে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে ইরান। জাহাজটিতে বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মোট ১৮ জন নাবিক ছিলেন বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম।।ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবারের (১৩ ডিসেম্বর) মধ্যে এটিকে আটক করা হয়।ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানায়, হরমোজগান প্রদেশের উপকূলে জাহাজটি আটক করা হয়। আটককালে জাহাজটির সব নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রায়ই উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি পাচারের অভিযোগে জাহাজ জব্দের ঘোষণা দেয়। ইরানে জ্বালানির দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচার লাভজনক হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হয়।গত মাসেও গালফ অঞ্চলে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছিল ইরান। সে সময় তেহরান জানায়, এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নয়।সর্বশেষ এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই জাহাজটি ইরান ও ভেনিজুয়েলা থেকে তেল পরিবহন করছিল।ভোরের আকাশ/তা.কা
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দুই দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে চলমান সংঘাতে গত ৬ দিনে কমপক্ষে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে সহিংসতার কারণে প্রায় সাত লাখ মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।কম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা এজেন্সি কম্পুচিয়া প্রেস জানিয়েছে, ৭ ডিসেম্বর সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত কম্বোডিয়ায় ১১ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৭৬ জন বেসামরিক নাগরিক। এ ছাড়া সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন দুই লাখ ৭৪ হাজার ৪০৩ জন মানুষ।গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে কম্বোডিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল ম্যালি সোচেতা সাংবাদিকদের জানান, সংঘাতে একজন কম্বোডীয় সেনা নিহত হয়েছেন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নিহতের সংখ্যায় ওই সেনাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।অন্য দিকে শুক্রবার থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও মুখপাত্র সুরাসান্ত কংসিরি এক বিবৃতিতে জানান, সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৯ জন থাই সেনা এবং ৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১৯০ জন। সংঘাতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে বাড়িঘর ছেড়ে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন ৪ লাখ থাই নাগরিক।দীর্ঘ ১১৮ বছর ধরে ‘এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গল’ বা পান্না ত্রিভুজ নামে পরিচিত একটি ভূখণ্ড নিয়ে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও লাওস—এই তিন দেশের সীমান্ত মিলিত হয়েছে পান্না ত্রিভুজ এলাকায়। প্রাচীন মন্দির ও ধর্মীয় স্থাপনায় সমৃদ্ধ এই অঞ্চলটিকে উভয় দেশই নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে।এই সংকটের সূচনা হয় গত শতকের প্রথম দশকে, যখন কম্বোডিয়া ছিল ফ্রান্সের উপনিবেশ। ১৯০৭ সালে ফ্রান্স প্রকাশিত এক মানচিত্রে পান্না ত্রিভুজকে কম্বোডীয় ভূখণ্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তখন থেকেই থাইল্যান্ড এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।১৯৫৩ সালের ৯ নভেম্বর ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে কম্বোডিয়া। তবে স্বাধীনতার পরও পান্না ত্রিভুজের দখল ধরে রাখে দেশটির সরকার, ফলে থাইল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি।দীর্ঘদিনের সীমান্ত সংঘাতের পর ১৫ বছর আগে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে গত বছরের মে মাস থেকে আবারও উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় গত জুলাইয়ের শেষ দিকে থাই ও কম্বোডীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে পাঁচ দিনের সংঘাতে উভয় দেশের ৪৮ জন নাগরিক নিহত হন এবং ৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় দুই দেশ।চার মাসেরও বেশি সময় শান্ত থাকার পর গত ৭ ডিসেম্বর রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পর সীমান্তবর্তী থাই প্রদেশ সি সা কেত এলাকায় আবারও থাই ও কম্বোডীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাত শুরু হয়।সূত্র: আনাদোলু এজেন্সিভোরের আকাশ/মো.আ.
জাপানের উত্তর–পূর্বাঞ্চলে আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে উপকূলীয় অঞ্চল। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৪ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭, যা আওমোরি উপকূলে ২০ কিলোমিটার গভীরে উৎপত্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি (জেএমএ)। ভূমিকম্পের পরই সতর্কতামূলক সুনামি সতর্কতা জারি করেছে সংস্থাটি।প্রাথমিক তথ্যে জানানো হয়েছে, কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল সমুদ্রের প্রায় ২০ কিলোমিটার গভীরে। কয়েকদিন আগেই ওই এলাকায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। পরপর শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।গত সোমবারের ভূমিকম্পের পর থেকেই সরকার উত্তরের হোক্কাইডো থেকে শুরু করে রাজধানী টোকিও–সংলগ্ন চিবা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে জনগণকে সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে এক সপ্তাহের মধ্যে আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে স্থানীয়দের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থান করায় দেশটিতে ভূমিকম্প নিয়মিত ঘটনা। ২০১১ সালের তোহোকু ভূমিকম্প ও সুনামি দেশটির আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত, যেখানে ২২ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান বা নিখোঁজ হন এবং ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক কেন্দ্রে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে।সূত্র: আল জাজিরার।ভোরের আকাশ/তা.কা
মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের একটি হাসপাতালে বোমা হামলা চালিয়েছে দেশটির জান্তা সরকার।এতে কমপক্ষে ৩১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা এক সহায়তাকর্মী জানিয়েছেন, একটি হাসপাতালে বিমান হামলা চালিয়েছে সামরিক বাহিনী। ওই হামলায় ৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। চলতি মাসে শুরু হতে যাওয়া নির্বাচনের আগে বিভিন্ন স্থানে আক্রমণ চালাচ্ছে সামরিক বাহিনী।সংঘাত বিষয়ক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ২০২১ সালে বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে বছরের পর বছর ধরে বিমান হামলা জোরদার করেছে জান্তা। সেনাবাহিনী ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে।ঘটনাস্থলে উপস্থিত সহায়তাকর্মী ওয়াই হুন অং জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিম রাখাইন রাজ্যের ম্রাউক-ইউ-এর জেনারেল হাসপাতালে একটি সামরিক বিমান থেকে বোমা হামলা চালানো হয়।তিনি বলেন, পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। এখন পর্যন্ত আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে, ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আমাদের আশঙ্কা আরও প্রাণহানি হতে পারে। এছাড়া ৬৮ জন আহত হয়েছেন এবং এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।ভোরের আকাশ/তা.কা