× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাজসাক্ষী মামুনের ৫ বছরের সাজা

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড, সঙ্গী কামাল

মাহমুদ সালেহীন খান

প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১০ এএম

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

গত বছরের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল সোমবার দুপুরে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেন। এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রায় ঘোষণার কার্যক্রম শুরু হয়। ৪৫৩ পৃষ্ঠার এই রায়ে ছয়টি অংশ রয়েছে। রায় ঘোষণার সময় জনাকীর্ণ আদালতে আইনজীবী ছাড়াও জুলাই আগস্টে নিহতদের কয়েকজনের পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির অপরাধ প্রমাণিত। দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একটি অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ে আরও বলা হয়, ‘আমরা ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই মত দিচ্ছি যে, তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নির্বিচারে ও নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা করে যে ঘৃণিত অপরাধ করেছে, তাতে সর্বোচ্চ শাস্তি না দিলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না।’

এই মামলার আসামি শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ভারতে অবস্থান করছেন। গ্রেপ্তার অন্য আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ায় তাকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এদিন ট্রাইব্যুনালে একমাত্র আসামি মামুন উপস্থিত ছিলেন। গত বছর ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই প্রথম কোনো মামলার বিচারের রায় হলো।

গত ১০ জুলাই সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসেবিলিটিসহ পাঁচ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এই প্রথম আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। গত ২ জুলাই আদালত অবমাননার দায়ে শেখ হাসিনাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন একই ট্রাইব্যুনাল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের। অভ্যুত্থানের সময় গত বছর ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত তার সরকারের কঠোর দমননীতিতে বহু মানুষ হতাহত হয়। 

এর মধ্যে দেড় হাজারের বেশি মানুষকে হত্যার উস্কানি, প্ররোচণা ও নির্দেশ, ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি’ এবং ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের’ মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে তিন আসামির বিরুদ্ধে। অভিযোগের পক্ষে আন্দোলনকারীদের ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ-সংক্রান্ত শেখ হাসিনার অডিও টেপ এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ দাখিল করে প্রসিকিউশন। গত ১ জুন প্রসিকিউশনের অভিযোগ আমলে নিয়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

কোন অপরাধে কী সাজা দিলেন ট্র্যাইব্যুনাল : শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আমলে নিয়ে চার্জ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগগুলো হলো-

প্রথম অভিযোগ : গত বছর ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শেখ হাসিনার ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্যের পর আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ তৎকালীন সরকারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ‘প্ররোচনা, সহায়তা ও সম্পৃক্ততায়’ তাদের অধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সশস্ত্র ‘আওয়ামী সন্ত্রাসীরা’ ব্যাপক মাত্রায় ও পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ করে। এরই অংশ হিসেবে হত্যা, হত্যার চেষ্টা, নির্যাতন এবং অন্যান্য অমানবিক আচরণ করার অপরাধ করতে আসামিদের বিরুদ্ধে প্ররোচনা, উস্কানি, সহায়তা, সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগ : শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার ওপর হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ‘হত্যা করে নির্মূলের নির্দেশ’ দিয়েছেন। এ ছাড়া তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ওই নির্দেশ বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রণাধীন ও অধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ, সহায়তা, সম্পৃক্ততা এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগ : রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে গত বছরের ১৬ জুলাই আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে নিরীহ-নিরস্ত্র আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ‘বুক লক্ষ্য করে বিনা উস্কানিতে একাধিক গুলি চালিয়ে’ তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আসামিরা জ্ঞাতসারে এ ধরনের অপরাধ সংঘটনের নির্দেশ, প্ররোচনা, উস্কানি, সহায়তা, সম্পৃক্ততা এবং ষড়যন্ত্রসহ অন্যান্য অমানবিক আচরণ করার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে।

চতুর্থ অভিযোগ : ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনরত নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর তৎকালীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শাহরিয়ার খান আনাসসহ ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করে। এর মাধ্যমে উল্লিখিত আসামিরা তাদের হত্যার নির্দেশ, প্ররোচনা, উস্কানি, সহায়তা, সম্পৃক্ততা এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

পঞ্চম অভিযোগ : ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার সামনে এবং আশপাশের এলাকায় গত বছরের ৫ আগস্ট আন্দোলনরত ছয় শিক্ষার্থীকে তৎকালীন সরকারের পুলিশ সদস্যরা গুলি করে হত্যা করে। তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃতদেহ ও একজনকে জীবিত এবং গুরুতর আহত অবস্থায় আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় হত্যা, নির্যাতন, মৃত ও জীবিত অবস্থায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে অমানবিক আচরণ করার অপরাধ সংঘটনের নির্দেশ, প্ররোচনা, উস্কানি, সহায়তা, সম্পৃক্ততা এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।

শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের যে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে প্রতিটি প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এগুলোর মধ্যে এক নম্বর অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছে পাঁচটি অভিযোগ তিনটি কাউন্টে ভাগ করে সাজা প্রদান করা হয়েছে আসামিদের। 

তাদের বিরুদ্ধে গঠন করা প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্যে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা, রাজাকারের নাতি-পুতি বলে উল্লেখ করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ তৎকালীন সরকারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ‘প্ররোচনা, সহায়তা ও সম্পৃক্ততায়’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সশস্ত্র ‘আওয়ামী সন্ত্রাসী’ ব্যাপক মাত্রায় ও পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ করে। প্ররোচনা, উস্কানি, অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে ব্যর্থতা, ষড়যন্ত্রের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে এতে।  এই অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। কারণ, তিনি অপরাধ সংঘটনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তা প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল তাকে ‘ইমপ্রিসনমেন্ট টিল ন্যাচারাল ডেথ’ অর্থাৎ আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন। তিনটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

এর মধ্যে দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ‘হত্যা করে নির্মূলের নির্দেশ’ দিয়েছেন। চার নম্বর অভিযোগে, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা ছয় জনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাঁচ নম্বর অভিযোগ আশুলিয়াতে জীবিত একজনকেসহ মোট ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার চাঁনখার পুলে ছয়জনকে হত্যা এবং আশুলিয়াতে জীবিত একজনসহ ছয়জনকে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এদিকে, এই মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি ও ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে প্রথম অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষী হয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু অপরাধের ব্যাপকতা এবং যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যেসব অপরাধ তিনি করেছেন সেগুলোর জন্য তিনি সর্বোচ্চ শাস্তিযোগ্য। কিন্তু, যেহেতু তিনি এই মামলাকে অর্থবহ করে তোলার জন্য সাহায্য করেছেন সে বিষয় বিবেচনায় তিনি ন্যূনতম সাজা পাবেন।

ট্রাইব্যুনাল রায়ে আরও বলেছে, তিনি সব এট্রোসিটিজের জন্য দায়ী। কিন্তু ঘটনার বিবরণ পূর্ণাঙ্গভাবে ডিসক্লোজ করেছেন তিনি। এসব বিষয় বিবেচনায় সাবেক এই আইজিপিকে ট্রাইব্যুনাল পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘আজ বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি রায় হয়েছে। এই রায়ে শহীদরা ন্যায়বিচার পেয়েছে, রাষ্ট্র ন্যায়বিচার পেয়েছে, প্রসিকিউশন ন্যায়বিচার পেয়েছে। শহীদদের প্রতি, দেশের প্রতি, এদেশের মানুষের প্রতি, সংবিধানের প্রতি, আইনের শাসনের প্রতি এবং আগামী প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এ রায় যুগান্তকারী।’

গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার মামলার রায়ে শহীদরা ন্যায়বিচার পেয়েছে, রাষ্ট্র ন্যায়বিচার পেয়েছে। প্রসিকিউশন পক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে। সেই ন্যায়বিচারের মানদণ্ড হলো- এই মামলার দুইজন আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একজন আসামি, যিনি রাজসাক্ষী হিসেবে নিজেকে আদালতের সামনে উপস্থাপন করেছেন, সার্বিক বিবেচনায় আদালত তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি শহীদদের প্রতি, দেশের প্রতি, এদেশের মানুষের প্রতি, সংবিধানের প্রতি, আইনের শাসনের প্রতি এবং আগামী প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতা পূরণের স্বার্থে এ রায় একটি যুগান্তকারী রায়। এই রায় প্রশান্তি আনবে, এ রায় ভবিষ্যতের জন্য একটি বার্তা। এ রায় বাংলাদেশের ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসনের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, পাঁচটা অভিযোগকে তিনটা কাউন্টে এনে তারা সাজা দিয়েছেন। আইনের বিধান মোতাবেক যেদিন থেকে গ্রেপ্তার হবে সেদিন থেকে সাজা কার্যকর হবে। রাষ্ট্র আইনিভাবে যা করণীয়, সব করবে। শহীদদের পরিবারকে, আহতদেরকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য একটা নির্দেশনা আদালত দিয়েছেন। এই মামলার মধ্যে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের ইস্যু ছিল না বলে ওই বিষয়ে তারা কোনো কমেন্ট করেননি। শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পলাতক থাকা অবস্থায় আপিল করার সুযোগ বাংলাদেশে না, বিশ্বের কোনো দেশে আছে বলে আমার জানা নেই।

বাংলাদেশ সাফল্যের সঙ্গে বিচার কাজ করেছে বলে উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। গতকাল দুপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির মামলায় ফাঁসির রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ সব আন্তর্জাতিক নর্মস, আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করে ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটির মতো কমপ্লেক্স অপরাধের বিচার করতে সক্ষম এবং বাংলাদেশ সাফল্যের সঙ্গে সেটা করেছে।’

রায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, যে ধরনের সাক্ষ্যপ্রমাণ এই আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে, বিশ্বের যেকোনো আদালতের স্ট্যান্ডার্ডে এই সাক্ষ্য প্রমাণগুলো উতরে যাবে।

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর যেকোনো আদালতে এই সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হলে আজকে যেসব আসামিকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে তারা প্রত্যেকেই একই শাস্তি প্রাপ্ত হবে।’

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে দেওয়া রায় প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জাতির প্রতিজ্ঞা। আমি মনে করি, এই রায় কোনো ধরনের অতীতের প্রতিশোধ নয়। এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জাতির প্রতিজ্ঞা। এটি ন্যায়বিচারের জন্য যাত্রা। এই রায় প্রমাণ করেছে অপরাধী যত বড় হোক, যত ক্ষমতাশালী হোক, সে আইনের ঊর্ধ্বে নয়। বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে যত বড় অপরাধী হোক, অপরাধের জন্য তাকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে, বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। এটাও প্রমাণিত হয়েছে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্রথা, মান বজায় রেখে মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো জটিল অপরাধের বিচার করতে সক্ষম। বাংলাদেশ সাফল্যের সঙ্গে সেটা করতে পেরেছে।’

এ রায়ের ফলে যে এক হাজার ৪০০ তরতাজা তরুণ প্রাণ দেশে স্বৈরশাসন অবসান করার জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের পরিবারে যদি সামান্য একটু স্বস্তি আসে, সেটাই প্রসিকিউশনের প্রাপ্তি বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, ‘একটি বিচারিক প্রক্রিয়াকে সম্পন্ন করার মাধ্যমে এই জাতিকে বিচারহীনতার কলঙ্ক থেকে মুক্ত করার আমাদের যে ক্ষুদ্র প্রয়াস, সেটা যদি সফল হয় সেটাতেই আমাদের সাফল্য।’

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একইসঙ্গে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় শুনিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল দুপুরে এ রায় দেওয়া হয়। এ রায়ে রাষ্ট্র নিযুক্ত শেখ হাসিনার পক্ষের আইনজীবী আমির হোসেন গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডের রায়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই রায়ে আমার মনের ভেতরে কষ্ট রয়েছে। এর বাইরে আর কিছু বলতে চাই না।

রায়ে তিনি অসন্তুষ্ট কিনা এমন প্রশ্নে আমির হোসেন বলেন, আমি আসলে খুব কষ্ট পাচ্ছি। আমার ক্লায়েন্ট সর্বোচ্চ সাজা পাচ্ছে এ বিষয় তো আমাকে কষ্ট দেবেই।

এই মামলায় আপিলের সুযোগ আছে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনার পক্ষে নিয়োজিত এই আইনজীবী পরিষ্কারভাবে জানান, আমার পক্ষে এই মামলায় আপিল করার সুযোগ নাই। আমার ক্লায়েন্ট স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ না করা কিংবা গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত আপিলের কোনো সুযোগ নেই।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

আইনি লড়াইয়ে বিদেশি আইনজীবী চাইলেন সালমান-আনিসুল

আইনি লড়াইয়ে বিদেশি আইনজীবী চাইলেন সালমান-আনিসুল

শেখ হাসিনার ‘হেভিওয়েট’ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ট্রাইব্যুনালে ১৭

শেখ হাসিনার ‘হেভিওয়েট’ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ট্রাইব্যুনালে ১৭

গুমের নির্দেশ দিতেন শেখ হাসিনা, বাস্তবায়ন করতেন তারিক: চিফ প্রসিকিউটর

গুমের নির্দেশ দিতেন শেখ হাসিনা, বাস্তবায়ন করতেন তারিক: চিফ প্রসিকিউটর

শেখ হাসিনা ও তিন সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

শেখ হাসিনা ও তিন সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে দুই সেনা কর্মকর্তা

কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে দুই সেনা কর্মকর্তা

 স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত লাগসই প্রযুক্তির প্রয়োগ ও সম্প্রসারণ শীর্ষক সেমিনার

স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত লাগসই প্রযুক্তির প্রয়োগ ও সম্প্রসারণ শীর্ষক সেমিনার

 হাদির উপর গুলির ঘটনায় নওগাঁয় বিক্ষোভ

হাদির উপর গুলির ঘটনায় নওগাঁয় বিক্ষোভ

 থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ায় চলমান সংঘাতে ঝরল ২৩ প্রাণ, বাস্তুচ্যুত ৭ লাখ

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ায় চলমান সংঘাতে ঝরল ২৩ প্রাণ, বাস্তুচ্যুত ৭ লাখ

 ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে নতুন নির্দেশনা

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে নতুন নির্দেশনা

সংশ্লিষ্ট

সচিবালয়ে আন্দোলনকারী ১৪ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা

সচিবালয়ে আন্দোলনকারী ১৪ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা

নির্বাচনে জোট করলেও নিজ দলের প্রতীকেই ভোট করতে হবে: হাইকোর্টের রায়

নির্বাচনে জোট করলেও নিজ দলের প্রতীকেই ভোট করতে হবে: হাইকোর্টের রায়

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন করলেন প্রধান বিচারপতি

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন করলেন প্রধান বিচারপতি

সাংবাদিক শওকত মাহমুদ ৫ দিনের রিমান্ডে

সাংবাদিক শওকত মাহমুদ ৫ দিনের রিমান্ডে