মাজাহারুল ইসলাম
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:১০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট আয়োজনের সব প্রস্তুতিসম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ ধরেই সব প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণে এমন তথ্য মিলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নিদের্শনা অনুয়ায়ী সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে নিয়েছে ইসি। ঘোষিত সম্ভাব্য সময়ে নির্বাচন করতে হলে ডিসেম্বরের ১০ অথবা ১১ তারিখে তফসিল ঘোষণা করার ইঈিত রয়েছে ইসির সূত্রে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এক দুদিন পরে কিংবা ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এক দুদিন আগেও হতে পারে। অর্থাৎ মাঝা-মাঝি কোনো সময় হতে পারে। ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখ রোববার এবং ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখ বৃহস্পতিবার। সে হিসেবে মঙ্গলবারের দিকে সংসদ নির্বাচন হতে পারে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ইসির সূত্রে জানা যায়, আগামী সপ্তাহের রোববার (৭ ডিসেম্বর) ভোট নিয়ে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই সব তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে দু-তিন দিন সময় রেখে বা বৃহস্পতিবারের দিকে (১১ ডিসেম্বর) তফসিল ঘোষণা করা হবে পারে। অন্যদিকে ভোটগ্রহণের সময়ও একটা বাড়ানোর কথা ভাবছে ইনি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, যেহেতু গণভোট ও সংসদ নির্বাচন একদিনে হবে, তাই গোপন কক্ষের সংখ্যা বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। আবার ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে নয় ঘণ্টা করা হতে পারে। এজন্য সকাল-বিকেলে দুই দিকেই সময় বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। এখন সকাল ৮ থেকে ভোট শুরু হয়, সেটা সাড়ে সাতটা হতে পারে। আবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট হয়, সেটা সাড়ে চারটা করার কথা ভাবা হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের রমজানের আগে সম্পন্ন করতে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে ইসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু। কাজেই ভোটগ্রহণের ৬০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন কমিশন।
এ প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট করা চ্যালেঞ্জ। পূর্ববর্তী নির্বাচন কমিশন কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি।
সিইসি বলেন, আগের নির্বাচন কমিশনকে এতটা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়নি যা বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। কারণ আইন মেনেই সব প্রক্রিয়া হচ্ছে। আমাদের ২য় কোনো অপশন নেই।
নির্বাচন ঘিরে জনগণের প্রত্যাশা বিশাল উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে চ্যালেঞ্জই সামনেই আসুক আমাদের মূল লক্ষ্যই জাতিকে স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেওয়া। এই প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক দলগুলোকেও দেওয়া রয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্যই ফ্রি এবং ফেয়ার ইলেকশন। এর বেশিও নয়, কমও নয়। এ ব্যাপারে আমাদের প্রবল আত্মবিশ্বাস রয়েছে বললেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
ইসি সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে ইসি। নতুন তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ১ হাজার ২৩৪ জন।
এ প্রসঙ্গে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর হয়েছে, তাদের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে আমরা ভোটার তালিকা হালনাগাদ করেছি। তিনি বলেন, পুরুষ ভোটার বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ২৯ শতাংশ, আর নারী ভোটার বৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ।
এছাড়া, ভোটার তালিকা তৈরি, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় কেনাকাটা, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ও দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন দেওয়ার মতো কাজগুলো প্রায় শেষ। প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের এবার ভোট দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ইসি। তারা ভোট দেবেন পোস্টাল ব্যালটে।
এক্ষেত্রে ভোট দেওয়ার জন্য আগে প্রবাসী ভোটারদের ইসির নির্দিষ্ট অ্যাপে নিবন্ধন করা হচ্ছে। ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে ইসি। নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় কেনাকাটার কাজও প্রায় শেষ। নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে এখন প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুতির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে নির্বাচন কর্মকর্তা চূড়ান্ত করা ও তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে তপশিল ঘোষণার পর। নির্বাচন আয়োজন করার জন্য যেসব কাজকর্ম জড়িত তার সবকিছুর জন্য একটি সময় বেঁধে দেওয়া হয় তপশিলে।
এ প্রসঙ্গে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, খুব সহজ ভাষায় এটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখের একটি আইনি ঘোষণা। প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতার মনোনয়নের কাগজ কত তারিখ জমা দেওয়া শুরু করতে পারবেন, মনোনয়নের কাগজ নির্বাচন কমিশন কতদিনের মধ্যে বাছাই করবে, বাছাই প্রক্রিয়ায় যদি সেটি বাতিল হয়ে যায় তাহলে প্রার্থিতাপ্রত্যাশী ব্যক্তি কতদিন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবে তার সময় বেঁধে দেয় কমিশন। যারা প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাবেন তাদের তালিকা কবে নাগাদ ছাপানো হবে, নির্বাচনী প্রচারণা কবে থেকে শুরু করা যাবে, কতদিন পর্যন্ত তা চালানো যাবে- সেটির উল্লেখ থাকে তফসিলে। সাধারণত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতীক ঘোষণার সঙ্গে প্রচারণা শুরুর তারিখ সম্পর্কিত থাকে। নির্বাচন কত তারিখ হবে, কোন সময়ে শুরু হবে আর কোন সময় পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে তার বিস্তারিত এবং ভোটের পর ভোট গণনা কীভাবে এবং কোথায় হবে তারও পরিষ্কার উল্লেখ থাকে। এই পুরো বিষয়টির সমষ্টিকেই নির্বাচনের তপশিল বলা হয়।
ভোরের আকাশ/এসএইচ