মানসিক অস্থিরতা দূর করার ইসলামী ৫টি সহজ আমল
জীবনের ওঠা-নামা, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না—এগুলো থেকে আমাদের মানসিক অশান্তি, দুশ্চিন্তা বা চাপ জন্মায়। তবে ইসলাম এই ধরনের অস্থিরতা দূর করার জন্য সহজ কিছু আমল শেখায়, যা নিয়মিত অভ্যাস করলে মন শান্ত হয় এবং জীবনের ঝড়-ঝাপটা সহজ মনে হয়।
১. দোয়া:
দোয়া হল মুমিনের শক্তিশালী হাতিয়ার। আল্লাহর নৈকট্য ও সাহায্য চাইলে দুশ্চিন্তা, অশান্তি ও দুঃখ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কোরআনে বলা হয়েছে, “যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, আমি তো তাদের কাছে আছি। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে, আমি তার আহ্বানে সাড়া দিই।” (সূরা বাকারা : ১৮৬)
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও দুশ্চিন্তার জন্য বিশেষ দোয়া করতেন।
২. ইখলাস (একনিষ্ঠতা):
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করলে এবং মানুষের প্রশংসা বা স্বীকৃতির আশা না করলে মন শান্ত থাকে। কোরআনে নির্দেশ আছে, “তারা যেন আল্লাহর ইবাদাত করে তাঁরই জন্য দীনকে একনিষ্ঠ করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত দেয়।” (সূরা বাইয়্যেনাহ : ৫)
৩. আল্লাহর নিয়ামত স্মরণ:
আমরা প্রতিনিয়ত আল্লাহর অগণিত নিয়ামতের মধ্যে রয়েছি, কিন্তু প্রায়ই সমস্যার দিকে বেশি মন দিই। নিয়ামত স্মরণ করলে অস্থিরতা কমে এবং মন প্রশান্ত হয়। (সূরা ইবরাহিম : ৩৪)
৪. আল্লাহর ওপর ভরসা:
যার হৃদয় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে, সে অশান্ত হয় না। হজরত ইবরাহিম (আ.) অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হওয়ার সময় বলেছিলেন, “আল্লাহ আমার জন্য যথেষ্ট, তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক।” সাহাবাদের ক্ষেত্রেও আল্লাহর ওপর বিশ্বাস তাদেরকে নিরাপদ রাখে। (সূরা আলে ইমরান : ১৭৩-১৭৪)
৫. ধৈর্য ধরা:
ধৈর্যশীল মানুষ মানসিক অস্থিরতায় ভোগেনা। কারণ আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন। কোরআনে বলা হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।” (সূরা বাকারা : ১৫৩)
এই পাঁচটি সহজ আমল নিয়মিত অভ্যাস করলে মন শান্ত, হৃদয় প্রশান্ত ও জীবনের প্রতিটি ঝড়ের মোকাবিলা সহজ হয়ে ওঠে।
ভোরের আকাশ//হ.র
সংশ্লিষ্ট
আত্মশুদ্ধি ইসলামি বর্ষপঞ্জির সপ্তম মাস রজব-মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মান প্রাপ্ত একটি মাস। যা রমজানের আগমনি বার্তা বহন করে এবং মুমিনের হৃদয়ে ইবাদতের আগ্রহ জাগিয়ে তোলে। গাফিলতির অন্ধকার থেকে আত্মশুদ্ধির আলোয় ফিরে আসার জন্য রজব মাস এক অনন্য সুযোগ।রজব মাস শুরু হলে রসুল (সা.) একটি দোয়া পড়তেন, এর বাংলা অর্থ হলো, হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান মাস পর্যন্ত পৌঁছে দিন। (বায়হাকি-ইমান) এই দোয়ার মাধ্যমে রসুল (সা.) রজব মাসকে রমজানের প্রস্তুতির সূচনা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আবেদন রয়েছে-রজব ও শাবানে বরকত লাভ, নেক আমলের তওফিক বৃদ্ধি, ইমান ও সুস্থতার সঙ্গে রমজান পর্যন্ত পৌঁছার প্রার্থনা।রজব মাস আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়-যাতে রমজানে সর্বোচ্চ ফায়দা অর্জন করা যায়।রজব মাসের মর্যাদা : রজব মাস চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারো, এর মধ্যে চারটি সম্মানিত মাস’ (সুরা তওবা-৩৬)। হাদিসে এই চার মাসের নাম নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে। রসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘বছর বারো মাসে; এর মধ্যে চারটি সম্মানিত, এর একটি হলো মুদার গোত্রের রজব’ (সহিহ বুখারি)। ইসলামের ইতিহাসে রজব মাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।অধিকাংশ আলেমের মতে, এই মাসেই সংঘটিত হয়েছিল মহান মেরাজ-যেখানে রসুল (সা.) আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য লাভ করেন। গ্রহণ করেন উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। এটি রজব মাসকে আরও মর্যাদাসম্পন্ন করে তোলে। মেরাজ একটি অলৌকিক, গৌরবময় ও শিক্ষাপূর্ণ ঘটনা।এটি শুধু রসুল (সা.)-এর জীবনের এক বিস্ময়কর অধ্যায় নয়; বরং সমগ্র উম্মতের জন্য ইমান, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির এক চিরন্তন দিকনির্দেশনা। শারীরিক ও আত্মিক-উভয় দিক থেকেই মেরাজ ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীজি (সা.)-এর জন্য এক বিশেষ সম্মান এবং কষ্ট জর্জরিত সময়ে সান্ত্বনার অনন্য নিদর্শন।মানব ইতিহাসের আকাশে এমন কিছু ঘটনা আছে, যা কেবল সময়ের সীমা অতিক্রম করে না-মানব বুদ্ধি ও কল্পনার সীমাকেও অতিক্রম করে যায়। পবিত্র শবে মেরাজ তেমনি এক অলৌকিক ও আধ্যাত্মিক ঘটনা। যা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনে যেমন অনন্য, তেমনি সমগ্র মানবজাতির জন্যও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। এই ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও নবুয়তের মর্যাদার এক উজ্জ্বল নিদর্শন।মেরাজ সংঘটিত হয় হিজরতের পূর্বে, মক্কা জীবনের অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত সময়ে। প্রিয় স্ত্রী খাদিজা (রা.) ও স্নেহশীল চাচা আবু তালিবের ইন্তেকালের পর রসুল (সা.) ছিলেন গভীর শোক ও কষ্টে নিমজ্জিত। তায়েফে দাওয়াত দিতে গিয়ে তিনি অপমানিত ও নির্যাতিত হন। এমন চরম বেদনাবিধুর মুহূর্তে আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবীকে দিলেন এক অনন্য সম্মান-আসমানের সফর। যা ইতিহাসে ইসরা ও মেরাজ নামে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।এক রাতে আল্লাহর কুদরতে রসুল (সা.)-কে মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে পবিত্র বাহন বুরাক-এ আরোহণ করিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বায়তুল মুকাদ্দাসে মসজিদুল আকসায়। আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘পবিত্র তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে এক রাতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় ভ্রমণ করিয়েছেন’ (সুরা আল-ইসরা-১)।নবীজি (সা.)-এর এই পর্যন্ত ভ্রমণকে ইসরা বলা হয়। মসজিদুল আকসায় তিনি পূর্ববর্তী নবী-রসুলদের ইমামতি করেন। এটি ছিল নবুয়তের ধারাবাহিকতা ও নেতৃত্বের এক ঐতিহাসিক ঘোষণা। এরপর শুরু হয় প্রকৃত মেরাজ-আসমানে আরোহণ। মেরাজ শব্দের অর্থ-ঊর্ধ্বগমন। হজরত জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে রসুলুল্লাহ (সা.) একে একে সাত আসমান অতিক্রম করেন। প্রতিটি আসমানে তিনি পর্যায়ক্রমে সাক্ষাৎ লাভ করেন আদম (আ.), ঈসা (আ.), ইয়াহইয়া (আ.), ইউসুফ (আ.), ইদ্রিস (আ.), হারুন (আ.), মুসা (আ.) ও ইব্রাহিম (আ.)-এর মতো মহান নবীদের।এসব সাক্ষাৎ ছিল ইমানের উত্তরাধিকার ও তাওহিদের এক মহাসম্মিলন। সবশেষে রসুল (সা.) পৌঁছে যান সিদরাতুল মুনতাহায়- সৃষ্টির সীমান্তে। সেখানে তিনি লাভ করেন আল্লাহর সান্নিধ্য, যা কোনো মানবের কল্পনায়ও ধরা দেয় না। এই মহিমান্বিত মুহূর্তেই উম্মতের জন্য ফরজ করা হয় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ-যা মেরাজের শ্রেষ্ঠ উপহার।মেরাজ শুধু একটি অলৌকিক ভ্রমণের কাহিনি নয়; এটি বিশ্বাস, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থার এক চিরন্তন শিক্ষা। দুঃখের রাতের পর যে আলোর সকাল আসে, মেরাজ তারই জীবন্ত প্রমাণ।এই ঘটনা মুসলমানদের স্মরণ করিয়ে দেয়-পৃথিবীর সব সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে রয়েছে আল্লাহর করুণা ও রহমতের অসীম আকাশ। মেরাজ আল্লাহর অসীম ক্ষমতার প্রমাণ করে, প্রমাণ করে-আল্লাহর ক্ষমতার কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই। সময় ও স্থানের সীমা তিনি ইচ্ছামতো অতিক্রম করাতে পারেন।ভোরের আকাশ/মো.আ.
ভোট গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ‘ভোট বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, অত্যাচারী, পাপাচারী ও বেঠিক লোককে ভোট দিলে পাপের কারণ হয়ে থাকে; ঠিক তেমনি একজন সত্ ও যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেওয়াতে সওয়াবও রয়েছে। শুধু তাই নয়, বরং তা একটি শরিয়ত নির্দেশিত যৌথ বা সামষ্টিক ফরজও বটে’ (মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.) : জাওয়াহিরুল ফিকহ :খ-২, পৃ-২৯৩, মাকতাবা দারুল উলুম, করাচি)।পবিত্র কুরআন যেভাবে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকে হারাম করেছে, একইভাবে সত্য সাক্ষ্য দেওয়াকে জরুরি ও আবশ্যকীয় বলে নির্ধারণ করে দিয়েছে। আল্লাহ ইরশাদ করেন : ‘তোমরা ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকো, আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সংগত সাক্ষ্য দান করো।’ (নিসা :১৩৫) ‘তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে অবিচল থাকবে।’ (মায়িদা :৮) আয়াতে মুসলমানদের প্রতি সত্য সাক্ষ্যদানকে ফরজ করে দেওয়া হয়েছে, যেন কেউ তা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা না করে। আল্লহর সন্তুষ্টির জন্য, তার নির্দেশ মনে করে সত্য সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে সব সময়।সুরা তালাকে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য দেবে।’ (তালাক :০২)। এই আয়াতে সাক্ষ্যদানের ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠিত করতে বলা হয়েছে, যা কিনা যৌথভাবে হয়ে থাকে। আরেকটি আয়াতে ইরশাদ হয়েছে : ‘তোমরা সাক্ষ্য গোপন করবে না; আর যে তেমনটি করবে তার অন্তর পাপরাশিতে বিষাক্ত হয়ে পড়বে।’ (বাকারা : আয়াত নং-২৮৩)।অর্থাৎ সত্য সাক্ষ্য না দিয়ে তা গোপন করা হারাম ও পাপ। সব আয়াতে সত্য সাক্ষ্য দেওয়াকে মুসলমানের প্রতি ফরজ বলে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং কোনোভাবেই মুসলমানেরা সত্য সাক্ষ্য দিতে পিছপা হবেন না। এ জন্য প্রতিটি অঞ্চলে-কেন্দ্রে-আসনে যাকে অপরাপর প্রার্থীর তুলনায় নেককার বা সৎ মনে হয়, তাকে ভোট দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। এমনকি কোনো আসনে যদি কোনো একজন প্রার্থীও সঠিক অর্থে পুরো সৎ ও আমানতদার না পাওয়া যায়; তবে যে কজন প্রার্থী রয়েছেন, তাদের মধ্যে দিন-ধর্ম, সততা-যোগ্যতায় এবং আল্লাহভীতিতে যিনি কিছুটা অগ্রগামী অর্থাৎ, যিনি অপকর্ম কম করবেন, তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করা বৈধ এবং উত্তমও বটে। যেমন—মন্দ কমাতে সচেষ্ট হওয়া এবং জুলুম-নির্যাতন কমাতে চেষ্টা করা, শরিয়তেরই আরেকটি আইনি নীতিমালা হিসেবে প্রমাণিত, এমনটাই ফকিহ ইমাম ও ইসলামি আইন গবেষকদের ব্যাখ্যা।এই আলোচনার সারসংক্ষেপ হচ্ছে, নির্বাচনগুলোয় ভোট প্রদানের বিষয়টি শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে ন্যূনতম সাক্ষ্য প্রদান কর্মের অন্তর্ভুক্ত, যা গোপন করা হারাম এবং তাতে মিথ্যার আশ্রয় নেয়াও হারাম। আপনি যাকে ভোট দিচ্ছেন, শরিয়তের মাপকাঠিতে তার অর্থ হচ্ছে- আপনি এই মর্মে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন যে, এই ব্যক্তি নিজের বোধ-বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা জ্ঞান-অভিজ্ঞতা এবং সততা ও আমানতদারির প্রশ্নে এই দায়িত্ব পালনে উপযুক্ত এবং অন্য সব প্রার্থীদের চেয়ে উত্তম।মোদ্দাকথা হলো : (১) আপনার ভোট ও সাক্ষ্যদানে যে জনপ্রতিনিধি সংসদ বা আইনসভায় পৌঁছাবেন, তিনি যত রকম ভালো-মন্দ পদক্ষেপ নেবেন, তার দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহি আপনার-আমার ওপরও বর্তাবে। আমরাও তার সঙ্গে একই পাপ-পুণ্যের অংশীদার হব।(২) ব্যক্তিগত পর্যায়ে বা কারও একার কর্মকাণ্ডে কোনো ভুল হয়ে গেলে তার ভালো-মন্দ প্রভাব ব্যক্তি ও সীমিত পর্যায়ে পড়ে থাকে; পাপ-পুণ্যও সীমিত হয়ে থাকে। অন্যদিকে ভোটের মাধ্যমে জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে পুরো জাতি তাতে প্রভাবান্বিত হয়ে থাকে। তাই তার সওয়াব বা শাস্তিও অনেক বেশি ও বড়।(৩) টাকা-পয়সার বিনিময়ে ভোট প্রদান সর্বনিকৃষ্ট পর্যায়ের 'ঘুষ গ্রহণ' হিসেবে গণ্য এবং কয়েকটি টাকার খাতিরে ইসলামবিরুদ্ধ ও রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। অন্যদের জাগতিক জীবন জৌলুসপূর্ণ করতে গিয়ে নিজের দিন-ধর্ম কোরবানি করা, চাই তা যত বেশি মাল-সম্পদের বিনিময়েই হোক না কেন; কোনো বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না। মহানবি (স.) ইরশাদ করেছেন : ‘ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, যে অপরের দুনিয়া অর্জনের স্বার্থে নিজের ধর্ম বিকিয়ে দিল।’ (প্রাগুক্ত : পৃ-২৯৫)।ভোরের আকাশ/মো.আ.
শুরু হয়েছে হিজরি ক্যালেন্ডারের সপ্তম মাস রজব। ইসলামে রজব সম্মানিত মাস। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে যে ৪টি মাসকে ‘আশহুরে হুরুম’ বা সম্মানিত মাস ঘোষণা করেছেন রজব মাস সেগুলোর অন্যতম।আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয়ই আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে আল্লাহর বিধানে মাস বারটি। এর মধ্যে চারটি মাস বিশেষভাবে হচ্ছে সম্মানিত। এটাই হচ্ছে সুপ্রতিষ্ঠিত ধর্ম। (সুরা তওবা: ৩৬)।বিদায় হজের সময় মিনা প্রান্তরে প্রদত্ত ভাষণে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্মানিত মাসগুলোকে চিহ্নিত করে বলেন, তিনটি মাস হলো ধারাবাহিক— জিলকদ, জিলহজ ও মহররম, অপরটি হলো রজব। (সহিহ বুখারি: ৩১৯৭, সহিহ মুসলিম: ১৬৭৯)।ইমাম আবু বকর জাসসাস (রহ.) বলেন, এসব মাসে ইবাদতের প্রতি যত্নবান হলে বাকি মাসগুলোতে ইবাদত করা সহজ হয়। আর এ মাসগুলোয় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকলে অন্য মাসেও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা সহজ হয়। (আহকামুল কুরআন লিল জাসসাস: ৩/১১১) তাই সম্মানিত মাসসমূহের অন্যতম রজব মাসের মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে যত্মবান হতে হবে।আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, যখন রজব মাস শুরু হতো, নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ দোয়াটি পড়তেন—اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ وَشَعْبَانَ وَبلغنا رَمَضَانَউচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবান ওয়াবাল্লিগনা রমাদান।অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসকে বরকতময় করুন এবং আমাদের রমজান মাস পর্যন্ত হায়াত দিন। (আল-মু’জামুল আওসাত: ৩৯৩৯)।সাহাবি ও তাবেইদের কিছু বক্তব্যে বছরের পাঁচটি রাতকে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ বলা হয়েছে; যে রাতগুলোতে জেগে ইবাদত করা ও দোয়া করা মুস্তাহাব এবং যে রাতগুলোতে আল্লাহ দোয়া কবুল করেন। রাতগুলো হলো, জুমার রাত, রজবের প্রথম রাত, শাবানের ১৫ তারিখের রাত, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার রাত।সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, পাঁচটি রাত এমন আছে, যেগুলোতে বান্দার দোয়া আল্লাহ তাআলা ফিরিয়ে দেন না, অর্থাৎ অবশ্যই কবুল করেন। রাতগুলো হলো—জুমার রাত, রজবের প্রথম রাত, শাবানের ১৫ তারিখের রাত, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার রাত। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক: ৭৯২৭)তবে রজবের প্রথম রাতের বিশেষ ফজিলত সম্বলিত কোনো বক্তব্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত নয়।ভোরের আকাশ/মো.আ.
বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হবে পবিত্র রজব মাস গণনা। সে হিসাবে আগামী ১৬ জানুয়ারি (শুক্রবার) দিবাগত রাতে সারা দেশে পবিত্র শবেমেরাজ উদযাপিত হবে।রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।শবেমেরাজ উপলক্ষে বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে এদিন থাকে ঐচ্ছিক ছুটি। এবারের শবেমেরাজ সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে পড়েছে।ধর্ম উপদেষ্টা জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরির রজব মাসের চাঁদ দেখার খবর পাওয়া গেছে। সে জন্য সোমবার থেকে রজব মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ১৬ জানুয়ারি পবিত্র শবেমেরাজ পালিত হবে বলেও জানান তিনি।সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানসহ কমিটির সদস্যরা।শবেমেরাজ মুসলমানদের কাছে বিশেষ মর্যাদার। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে এ মূল্যবান রাত কাটান। এই দিন অনেকে নফল রোজাও রাখেন।রজব হিজরি সনের বিশেষ ও মহিমান্বিত একটি মাস। এ মাস আসে রমজানের আগমনী বার্তা নিয়ে।তাই এই রজব মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নিতে হবে। এ মাসের বড় বৈশিষ্ট্য হলো— এ মাস আল্লাহপ্রদত্ত চারটি সম্মানিত মাসের (আশহুরে হুরুমের) একটি।‘শবেমেরাজ’ অর্থ ঊর্ধ্ব গমনের রাত। মুসলমানদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, ২৬ রজব দিবাগত রাতে ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহ তায়ালার সাক্ষাৎ লাভ করেছিলেন।ভোরের আকাশ/মো.আ.