নিরাপত্তা শঙ্কায় অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত আইপিএল
ভারত-পাকিস্তানের চলমান সংঘাতের মধ্যেই অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে ২০২৫ আইপিএল। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে। নিরাপত্তা শঙ্কা থাকায় গতকাল ধর্মশালায় আইপিএলের একটি ম্যাচ মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার (৯ মে) আইপিএলের ১৮তম আসর স্থগিত করেছে বিসিসিআই। এক জরুরি সভায় ভারত সরকারের পরামর্শে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার আইপিএলে স্থগিত হয় পাঞ্জাব কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের ম্যাচ। ধর্মশালায় ব্ল্যাকআউট হয়ে যাওয়ায় দ্রুতই মাঠ ছাড়তে বলা হয় দর্শকদেরও। এখানেই শেষ নয়, দুই দলের ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ, সম্প্রচারকর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের নিরাপদে সরিয়ে আনা নিয়েও দেখা দেয় বিপত্তি। বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়েই বিকল্প হিসেবে ব্যবস্থা করা হয় বিশেষ ট্রেনের। এই ম্যাচের পর প্রশ্ন ওঠে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো মাঠে গড়াবে তো?
বার্তা সংস্থা পিটিআই জানায়, আইপিএলের বিদেশি খেলোয়াড়েরা ভারতে অবস্থান করাটা আর নিরাপদ মনে করছেন না। যত দ্রুত সম্ভব, দেশে ফিরতে চান তারা। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা আর কোনো ম্যাচই খেলতে চান না, এমনটাও এসেছে বিভিন্ন মাধ্যমে। শুধু তাই নয় নিরাপত্তা ইস্যুতে বেশিরভাগ দর্শকই চান আপাতত টুর্নামেন্ট স্থগিত করতে। তাতেই দেখা যায় আইপিএলের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা। তাই শেষ পর্যন্ত আইপিএল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই।
এদিকে রাওয়ালপিন্ডিতে ড্রোন হামলার পর পাকিস্তান থেকে পিএসএল সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। পিসিবি এক ঘোষণায় জানিয়েছে, মৌসুমের বাকি আট ম্যাচের সূচি ও ভেন্যু শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হবে।
ভোরের আকাশ/এসএইচ
সংশ্লিষ্ট
দুর্নীতির অভিযোগে চার ক্রিকেটারকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে ভারতের আসাম ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এসিএ)। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) অমিত সিনহা, ইশান আহমেদ, আমান ত্রিপাঠি ও অভিষেক ঠাকুরি- এই চারজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায় সংস্থাটি।২০২৫ সালের সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চার ক্রিকেটারের নামে রাজ্য পুলিশের অপরাধ শাখায় এফআইআরও দায়ের করেছে এসিএ। অভিযুক্ত চারজনই বিভিন্ন সময়ে আসামের হয়ে খেলেছেন।এসিএর অভিযোগ, ওই চার ক্রিকেটার টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া আসামের কয়েকজন খেলোয়াড়কে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন এবং দুর্নীতিতে জড়াতে উসকানি দেন।এসিএর সম্পাদক সনাতন দাস জানান, অভিযোগ সামনে আসার পর বিসিসিআইয়ের অ্যান্টি করাপশন অ্যান্ড সিকিউরিটি ইউনিট (এএসসিইউ) বিষয়টি তদন্ত করে। একই সঙ্গে ফৌজদারি প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে গুরুতর অসদাচরণে সংশ্লিষ্টদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।চলতি মৌসুমে সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফির লিগ পর্বের ম্যাচগুলো হয় ২৬ নভেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর। গতকাল থেকে শুরু হয়েছে সুপার লিগ পর্ব, টুর্নামেন্টের ফাইনাল হবে ১৮ ডিসেম্বর।নিষেধাজ্ঞার সময়কালে অভিযুক্ত চার ক্রিকেটার এসিএ পরিচালিত কোনো রাজ্য পর্যায়ের টুর্নামেন্ট বা ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন না। পাশাপাশি জেলা সংস্থা বা সংযুক্ত ক্লাবের কোনো ক্রিকেট কার্যক্রমেও তাঁরা যুক্ত থাকতে পারবেন না।ভোরের আকাশ/মো.আ.
শেষ ১৮ বলে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ৭২ রান। কাজটা যে অসম্ভব ম্যাচ শেষে তার প্রমাণই পাওয়া গেল। শেষে শুধু পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছেন ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রানের ইনিংস খেলা তিলক ভার্মা। বাঁহাতি ব্যাটার ফিফটি না করলে ৫১ নয়, আরো বড় ব্যবধানে হয়তো হারত ভারত।ভারতের হার নিশ্চিত হয় রান তাড়ার শুরুতেই। ২১৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ৬৭ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। এমন ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে পঞ্চম উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়ে আশা দেখাচ্ছিলেন তিলক ও হার্দিক পান্ডিয়া। তবে আশা পরে আর আলোর মুখ দেখেনি।শেষে ১৬২ রানে অলআউট হয়ে ৫১ রানের পরাজয় দেখেছে ভারত। প্রোটিয়াদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছেন ওটনিল বার্টম্যান। যার তিনটিই নিয়েছেন ১৯তম ওভারে। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন লুঙ্গি এনগিডি-মার্কো ইয়ানসেন-লুথো সিপামলা।এ জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তৃতীয় ম্যাচ আগামী ১৪ ডিসেম্বর, ধর্মশালায়।এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেছেন কুইন্টন ডি কক। ব্যক্তিগ ৯০ রানে রান আউট হয়েছেন বাঁহাতি ওপেনার। ১৯৫.৬৫ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ৫ চার ও ৭ ছক্কায়।যেভাবে ব্যাটিং করছিলেন তাতে সেঞ্চুরিটা প্রাপ্যই ছিল ডি ককের। কিন্তু বরুণ চক্রবর্তীর করা ১৬তম ওভারের প্রথম বলে ডাউন দ্য উইকেট আসলে ব্যাট-বলের হালকা স্পর্শ হলে পেছনে চলে যায় বল। ভারতের উইকেটরক্ষক জিতেশ শর্মা বল ধরে স্ট্যাম্প ভাঙার আগে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার সুযোগ পেয়েছিলেন ক্রিজের মধ্যে ঢোকার। কিন্তু তিনি একটু বেশিই দেরি করে ফেলেন। তাতে ড্রেসিংরুমের পথই ধরতে হয় তাকে।দল জেতায় সেই আক্ষেপ হয়তো ডি ককের আর এখন নেই। কেননা তার বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করেই নির্ধারিত ওভার শেষে ৪ উইকেটে ২১৩ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ দিকে অবশ্য দুটি ছোট্ট ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন ডনোভান ফেরেইরা (১৬ বলে ৩০ রান) ও ডেভিড মিলার (১২ বলে ২০ রান)। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন বরুণ।ভোরের আকাশ/তা.কা
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বগুড়া প্রেসক্লাবের আয়োজনে ক্রিকেট টুর্ণামেন্টে শিমুল একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শহীদ আব্দুল মান্নান একাদশ।বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালেয়র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. কুদরত-ই-জাহান।খেলা শেষে বিকেলে পুরস্কার প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পি এম ইমরুল কায়েস। এ টুর্নামেন্টে শহীদ রাতুল একাদশ, শহীদ সিয়াম-শুভ একাদশ, শহীদ শিমুল মন্ডল একাদশ ও শহীদ আব্দুল মান্নান একাদশ অংশগ্রহণ করে।উৎসব মুখর পরিবেশে উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, সাবেক সভাপতি ওয়াসিকুর রহমান বেচান, সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া সভাপতি গনেশ দাস, সাধারণ সম্পাদক এসএম আবু সাঈদ, প্রেসক্লাবের সাবেক সদস্য সচিব সবুর শাহ লোটাস, বগুড়া বীট মডেল স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠতা অধ্যক্ষ প্রকৌশলী সাহাবুদ্দিন সৈকত, জেলা ক্রিড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম আর সিদ্দিক লেমন, বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক এ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল, বগুড়া প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সভাপতি রাহাত রিটু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহবায়ক কমিটির সদস্য সাংবাদিক মমিনুর রশিদ সাইন।প্রেসক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি রাহাত আহমেদ রিটু, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক তোফাজ্জাল হোসেন প্রমুখ। খেলা শেষে টুর্নামেন্টের বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।ক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় টুর্নামেন্টে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ ও ম্যান অফ দ্যা টুর্ণামেন্ট হয়েছেন শাহ নেওয়াজ শাওন।ভোরের আকাশ/এসএইচ
বাংলাদেশের হকি ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে অনূর্ধ্ব-২১ দলের যুবারা। প্রথমবারের মতো হকি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই শুধু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করাই নয়, অস্ট্রিয়াকে ৫-৪ গোলে হারিয়ে চ্যালেঞ্জার্স কাপ জয়ের অসাধারণ কীর্তি গড়েছে আমিরুল-মেহরাবরা। বিশ্ব আসরে এই জয় শুধু দলের জন্য নয়, দেশের খেলাধুলার ইতিহাসেও এক গৌরবময় সাফল্য। মাঠের লড়াইয়ে ‘হকির হামজা’ খ্যাত আমিরুল ইসলামের হ্যাটট্রিক আলো কেড়ে নিয়েছে বিশ্বমঞ্চেও।কিন্তু মাঠের উজ্জ্বল সাফল্যের পাশে দাঁড় করালে দেশের হকির বাস্তবতা হয়ে ওঠে নিষ্ঠুর। ঘরোয়া হকির ভয়াবহ অনিয়মিত কাঠামো, টুর্নামেন্টের অভাব এবং খেলোয়াড়দের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ-মোট কথা বড় অর্জনের পরও তারা যেন ছায়ার ভেতরেই বন্দি।অসম্পূর্ণ প্রস্তুতি, সীমিত সুযোগ-তবু বিস্ময় বাংলাদেশের জুনিয়র বিশ্বকাপের আগে পরিকল্পনা ছিল ছয় মাসের অনুশীলন ক্যাম্প, যেখানে শারীরিক-মানসিক প্রস্তুতি থেকে কৌশলগত দক্ষতা-সবকিছু শাণিত করার কথা। কিন্তু অর্থ সংকট এই পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দেয়। ক্যাম্পের মেয়াদ কমে দাঁড়ায় চার মাসে। নেদারল্যান্ডস থেকে অভিজ্ঞ কোচ সিগফ্রায়েড আইকম্যানকে আনা হলেও ইউরোপে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়।শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় কয়েকটি ম্যাচ এবং দেশে সিনিয়র দলের বিপক্ষে কিছু প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে দল বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়ায়। প্রস্তুতিহীন অবস্থায় বড় মঞ্চে ওঠা যে কতটা কঠিন, তা বলাই বাহুল্য। তবু জুনিয়ররা মাঠে এমন লড়াকু মনোবল দেখিয়েছে, যা বাংলাদেশের হকি ইতিহাসে বিরল। গ্রুপপর্বে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে শুরুর লড়াই, এরপর দক্ষিণ কোরিয়াকে রুখে দেওয়া, ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে হার-বাংলাদেশের তরুণরা নিজেদের প্রতিভা ও সম্ভাবনার ইঙ্গিত রেখেছে সবার সামনে।স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ওমানকে হারানো, তারপর দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস আকাশে তুলে নেয় লাল-সবুজের যোদ্ধারা। সবশেষে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে ১৭তম স্থান নিশ্চিত করে তারা, যা এনে দেয় চ্যালেঞ্জার্স কাপের শিরোপা-একবারও না হওয়া এই লড়াইয়ে প্রথমবারেই এমন সাফল্য সত্যিই অভূতপূর্ব।তারপরও আক্ষেপের সুর-‘নিয়মিত খেলার সুযোগ কোথায় : বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা রাকিবুল হাসান রাকিব বলেন, বিশ্বকাপে বড় দলগুলোর সঙ্গে খেলে দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু এই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে হলে নিয়মিত খেলা দরকার। নিয়মিত না খেললে এই অর্জন কোনো কাজে আসবে না। বাংলাদেশের ঘরোয়া হকির চিত্র সত্যিই হতাশার।সর্বশেষ প্রিমিয়ার হকি লীগ হয়েছে ২০২৩ সালে, সেটিও শেষ হয়নি-আবাহনী ও মেরিনার্সকে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয় :গত ২৭ বছরে প্রিমিয়ার লীগ হয়েছে মাত্র ১৩ বারপ্রথম বিভাগ হকি হয়েছে মাত্র ১২ বারদ্বিতীয় বিভাগ লীগ হয়েছে মোটে ৫ বারযেখানে নিয়মিত টুর্নামেন্টই নেই, সেখানে প্রতিভা ধরে রাখা তো দূরের কথা, নতুন প্রতিভা উঠে আসার পথও দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে।ফিটনেস, ফর্ম ও ভবিষ্যৎ-সবই অনিশ্চয়তায় গত বছরের নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া অ্যাডহক কমিটি গত ১৩ মাসে আয়োজন করতে পেরেছে মাত্র তিনটি টুর্নামেন্ট। সামনে খেলোয়াড়দের বড় ছুটি। মার্চে এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বের আগে অনেকদিন খেলাধুলার বাইরে থাকতে হবে জুনিয়র ও সিনিয়রদের। এ অবস্থায় খেলোয়াড়রা শঙ্কার কথাই বেশি বলছেন। খেলা ছাড়া ফিটনেস ধরে রাখা কঠিন। দক্ষতা হারিয়ে যায়, ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়, আর ক্রীড়াঙ্গনে এটাই সবচেয়ে বড় ধস। আমিরুল বলেন, বেশি ম্যাচ খেললে বেশি শেখা যায়। ভুল-ত্রুটিও ধরা পড়ে। যেখানে খেলার সুযোগই কম, সেখানে উন্নতি করব কীভাবে?যত্ন পেলে বিশ্বকাপের মূল পর্বেও যেতে পারবে বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জার্স কাপ জেতা দলের তারকা ওবাইদুল হাসান বিশ্বাস করেন- এই দলটাকে যদি নিয়মিত পরিচর্যা, অনুশীলন ও খেলার সুযোগ দেওয়া যায়, আমরা সোজা সিনিয়র বিশ্বকাপেও জায়গা করে নিতে পারবো। তরুণদের মুখে এই আত্মবিশ্বাস সহজেই বলে দেয়Ñসুযোগ পেলেই বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে আরও বড় বিস্ময় উপহার দিতে পারে।দায় চাপানোর খেলায় ব্যস্ত ফেডারেশন : ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) রিয়াজুল হাসান বলেন, অর্থ সংকটে দলগুলো লীগ খেলতে চায় না। ভারত যাওয়ার আগে একবার বসেছিলাম। এ মাসে আবারো চিঠি দেবো। তবে প্রিমিয়ার লীগ শুরু হবে কবে-সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি। ফলে তরুণদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও ঝুলে আছে অনিশ্চয়তার দোলাচলে।এই সাফল্যের আলো টিকিয়ে রাখতে হলে এখনই দরকার সঠিক সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২১ হকি দলের সাফল্য প্রমাণ করেছে-দেশে প্রতিভার অভাব নেই, অভাব শুধু সঠিক পরিচর্যা, পরিকল্পনা ও ধারাবাহিকতার। নিয়মিত লীগ চালু করা, আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা, ক্লাবগুলোকে খেলায় উৎসাহিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্প সচল রাখা-এই চারটি দিকেই এখন নজর দিতে হবে। অন্যথায় জুনিয়র হকি বিশ্বকাপের এই ঐতিহাসিক অর্জন সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাবে, যেমন হারিয়ে গেছে দেশের অনেক সম্ভাবনার গল্প। বাংলাদেশ হকি বাঁচাতে এখনই দরকার শক্ত সিদ্ধান্ত-নইলে চ্যালেঞ্জার্স কাপের এই উজ্জ্বল সাফল্যও হবে কেবল অতীতের আরেকটি স্মৃতি।ভোরের আকাশ/এসএইচ