ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মাদক কেনাবেচা নিয়ে মাদক কারবারি মো. রুবেলের ছুরির আঘাতে হৃদয় খান (২৬) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সকালে আশুগঞ্জ উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের রানী পুকুরের পাড়ে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ঘাতক রুবেলকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত হৃদয় খান যাত্রাপুর গ্রামের ইমানদির বাড়ির জসীম খানের ছেলে। ঘাতক রুবেল এই গ্রামের রানী পুকুর পাড়ের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে মাদক নেয়ার জন্য রুবেলের বাড়িতে যায় হৃদয়। সেখানে মাদকের টাকা দেয়া নেয়া নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে রুবেল হৃদয়কে ছুরিকাঘাত করে। এসময় হৃদয় চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পরে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত হৃদয়কে উদ্ধার করে প্রথমে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় প্রেরণ করেন। ঢাকা নেওয়ার পথে গুরুতর আহত হৃদয়ের মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে নিহতের পিতা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে আমার ছেলে হৃদয়কে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় রুবেল। কিছুক্ষণ পরে আমার মেয়ের জামাইয়ের ফোনে জানতে পারি আমার ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় উপজেলা হাসপাতালে। পরে ঢাকা নেয়ার পথে হৃদয় মারা যায়। আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
এদিকে ঘাতক রুবেলের মা লালু বেগম জানান, বাড়ির উঠানেই হৃদয়ের সঙ্গে রুবেলের হাতাহাতির এক পর্যায়ে রুবেল হৃদয়কে ছুরিকাঘাত করে। আমার এই ছেলে মাদকাসক্ত, তার অত্যাচারে আমার পরিবারটি ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে বার বার পুলিশকে বলেও এর কোনো প্রতিকার পায়নি। তার জন্য আমার স্বামী স্ট্রোক করে মারা গেছেন। আমি নিজে স্ট্রোক করে চিকিৎসাধীন আছি। সে যেন জেল থেকে বেরিয়ে আসতে না পারে। নিজের ছেলের কঠিন শাস্তি দাবি করেন মা লালু বেগম।
আশুগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ নাহিদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে মাদক কেনাবেচা নিয়ে রুবেল ও হৃদয়ের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মাদক কারবারি রুবেল তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে হৃদয়কে একাধিক আঘাত করে। এসময় হৃদয় লুটিয়ে পড়লে রুবেল পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক রুবেলকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভোরের আকাশ/ সু
মন্তব্য