স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ০৩:৩১ পিএম
ছবি : ভোরের আকাশ
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, দিনাজপুরের মানুষ বেগম খালেদা জিয়াকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে, তাদের ভোটের ঋণ শোধ করা হবে। এ বার্তা ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে পৌঁছে দেওয়া জন্য দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে নিদর্শনা প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দিনাজপুর সদর আসনে নির্বাচন উপলক্ষে জেলা বিএনপি আয়োজিত সভায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এসব কথা বলেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, কোনো অবস্থাতেই ভোট চাইতে গিয়ে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান বৌদ্ধসহ কোনো ধর্মের লোকের বিষয়ে নিয়ে সাম্প্রদায়িক কথাবার্তা বলা যাবে না। সব ভোটারই এ দেশের নাগরিক, তাদের মর্যাদা দিয়ে সম্মানের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীকে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে ধানের শীষ মার্কায় বিনয়ের সাথে ভোট চাইতে হবে।
যাতে প্রত্যেক ভোটার মনে করেন, তারা যোগ্য স্থানে বেগম খালেদা জিয়াকে ভোট দিয়ে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। গণমানুষের আস্থাও ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। যারা শ্রমিক দল করেন তারা শ্রমিকের কাছে, যারা ছাত্রদল করেন তারা নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে, যারা যুবদল করেন তারা যুবকদের কাছে এবং যারা মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন, তারা তাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাইদের কাছে ভোট চাইবেন। শুধু ভোট চাইলে হবে না-এবারে ভোটে অনেক নতুন প্রজন্মের ভোটার রয়েছে, তাদের নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে সফল হয়। এভাবে যারা মহিলা দলের নেতাকর্মী রয়েছেন, তারা এ আসনের প্রত্যেক মা-বোনদের ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষ মার্কায় ভোট চেয়ে নিশ্চিত করবেন। ভোট চাইতে গিয়ে কারও উসকানিতে কোনোভাবে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হবেন না।
মনে রাখতে হবে, একটি দল এই ভোটকে কেন্দ্র করে ধুম্রজাল সৃষ্টি করে ভোটকে বিলম্বিত করতে চাচ্ছেন।
তিনি একটি দলকে উদ্দেশে বলেন, কেউ কেউ ধমক দিয়ে, প্রেস কনফারেন্স করে, নির্বাচন বিলম্ব করতে চায়, চেষ্টা করে দেখুন পারবেন না। দেশের মানুষ তারেক জিয়ার ডাকে জেগে উঠেছে।
১৪, ১৮ ও ২৪ সালের নির্বাচনকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সে সময় দেশের মানুষ নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। দিনের ভোট রাতে হয়েছে; কিন্তু যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলছেন, এবারের নির্বাচন হবে ঈদের উৎসবের মতো, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দেবেন। কিন্তু একটি মহল নির্বাচনকে বিলম্বিত করতে চায়, আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে চাই, আনন্দঘন পরিবেশে এই নির্বাচন নিশ্চিত করতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবেন ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ ১৭৪ দিন হরতাল করে, গান পাউডার দিয়ে মানুষ হত্যা করেছিল। অসংখ্য নেতাকর্মী জেল-জুলুমের শিকার হয়েছিল। আবার কয়েকদিন আগে লকডাউন ঘোষণায় আগুন দিয়ে গাড়ি পুড়েছে, মানুষ মেরেছে। আমরা ওইসব দিন আর দেখতে চাই না, ফিরে যেতে চাই মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের ব্রত নিয়ে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোকসেদ আলী মঙ্গোলিয়া, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোকারম হোসেন,সহ-সভাপতি মাহবুব আহমেদ, সহ-সভাপতি নাজমা মুশির ও মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শাহীন সুলতানা বিউটি প্রমুখ। এ সময় সভায় জেলা বিএনপি, সদর উপজেলা, পৌর বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যাক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/মো.আ.