স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৫ ১১:২৬ পিএম
লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর কিছু অভ্যাস পরিবর্তন
বিশ্বজুড়ে লিভার ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ হলো হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাস। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গ্রহণ এবং ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগ করলে লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
‘দি ল্যানসেট কমিশন’-এর একটি নতুন গবেষণায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষকেরা বলেন, অতিরিক্ত মদ্যপান পরিহার এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার বা ‘মেটাবলিক ডিসফাংশন অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়েটোহেপাটাইটিস’ (এমএএসএইচ) রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব, যা লিভার ক্যান্সারের অন্যতম কারণ।
গবেষণায় জানা গেছে, ২০৫০ সালের মধ্যে এমএএসএইচের প্রকোপ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। তবে সঠিক সময় ও পদক্ষেপ নিলে আগামী ২৫ বছরে প্রায় ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ লিভার ক্যান্সার রোগী সৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।
ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের অধ্যাপক স্টিফেন লাম চ্যান বলেন, “ডায়াবেটিস ও স্থূলতার মতো রোগীরা লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকায় তাদের জন্য বিশেষ সচেতনতা প্রয়োজন। মদ্যপান কমানো এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।”
তাঁর মতে, “প্রতি পাঁচজনের মধ্যে তিনজন লিভার ক্যান্সার রোগীর পেছনে হেপাটাইটিস, স্থূলতা বা মদ্যপানের প্রভাব রয়েছে। তাই এসব দিক নিয়ে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।”
২০২২ সালের ‘জার্নাল অফ হেপাটোলজি’ অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর ৪৬টি দেশে প্রথম তিন ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে একটি লিভার ক্যান্সার। আর ২০৪০ সালের মধ্যে এ রোগীর সংখ্যা ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে শিশুদের হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস থেকে রক্ষার জন্য টিকার আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মদ্যপান, ফ্যাটি লিভার ও হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণে রাখলে লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় অভ্যাস পরিবর্তন:
মদ্যপান পরিহার: অতিরিক্ত মদ্যপান লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের প্রধান কারণ, তাই এ থেকে বিরত থাকা উচিত।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: স্থূলতা লিভার ক্যান্সার ঝুঁকি বাড়ায়। স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়াম জরুরি।
হেপাটাইটিস প্রতিরোধ: ভাইরাস সংক্রমণ রোধে টিকা নেওয়া এবং সুরক্ষা মেনে চলা অপরিহার্য।
সুষম খাদ্যাভ্যাস: ফল, সবজি, শস্য জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া; ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: লিভার ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণের জন্য নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।
এই পদক্ষেপগুলো অবলম্বন করলে লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
ভোরের আকাশ//হ.র