ছবি- সংগৃহীত
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ রাজশাহীতে বিচারকের পরিবারের ওপর মর্মান্তিক হামলার ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাজশাহীর মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহমানের বাসভবনে ঘাতকের আঘাতে তার ছেলে নিহত এবং স্ত্রী আহত হওয়ার ঘটনায় এক শোক বার্তায় এ মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।
বিচার বিভাগের একজন সদস্যের পরিবারের ওপর এ নৃশংস আক্রমণ নিন্দনীয়, অমানবিক এবং গভীরভাবে বেদনাদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্ট ও সমগ্র বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন এবং আহতের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন।
সুপ্রিম কোর্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় সুপ্রিম কোর্ট এ ঘটনা সংশ্লিষ্ট সকল অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দ্রুততার সঙ্গে একটি যথাযথ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের যথাযথ পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে যাতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হয় এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা হয়। প্রধান বিচারপতি তদন্তের সততা ও স্বচ্ছতা প্রতিটি ধাপে অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়ে জোর প্রদান করেছেন।
ভোরের আকাশ/এসএইচ
সংশ্লিষ্ট
সচিবালয়ে ভাতা দাবিতে সরকারি আচরণবিধি অমান্য করে মিছিল, মিটিং ও আন্দোলন করার পাশাপাশি অর্থ উপদেষ্টাকে অবরুদ্ধ রাখার অভিযোগে ১৪ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ডিএমপি শাহবাগ থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। এফআইআর নং-৮, জি আর নং-৩৫০, খারা-৬/১২।মামলার আসামিরা হলেন-স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রোমান গাজী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পার্সোনাল অফিসার ও বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদীউল কবির, স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সংযুক্ত পরিষদের সহ-সভাপতি শাহীন গোলাম রব্বানী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক ও সংযুক্ত পরিষদের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক ও সংযুক্ত পরিষদের প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন।এছাড়া মামলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আবু বেলাল, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক মোঃ কামাল হোসেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক বিপুল রানা বিপ্লব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আলিমুজ্জামান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র রায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ইসলামুল হক, মহসীন আলী, তায়েফুল ইসলাম এবং মন্ত্রী-পরিষদ বিভাগের অফিস সহায়ক মোঃ নাসিরুল হক নাসির।মামলার পর সকল আসামীকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কোর্টে চালান করা হয়েছে।এর আগে গত বুধবার সচিবালয়ে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তারা ২০ শতাংশ সচিবালয় ভাতা দাবিতে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে ছয় ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রাখেন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় দাবি মেনে জিও (সরকারি আদেশ) জারি করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এরপর সচিবালয়ের বাদামতলায় আন্দোলন পরিচালনা করা হয়। এই সময় সরকারি আচরণবিধি অমান্য করায় অন্তত চারজনকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।ডিএমপির ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি ডিভিশনের যুগ্ম কমিশনার সানা শামীনুর রহমান বলেন, রোববার থেকে সচিবালয় বন্ধের হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। যেসব কর্মচারী আইন ভঙ্গ করবে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। গতকালকের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা দায়িত্ব অনুযায়ী চারজনকে অন দা স্পট গ্রেপ্তার করেছি। পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ ঘটনায় সচিবালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় এলাকায় পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা চালুর ঘোষণা দেওয়ার পরও তা কার্যকর হয়নি। নতুন বেতন কমিশনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অর্থ উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, বেতন কমিশন বাস্তবায়ন করবে নির্বাচিত সরকার। এর আগে ২২ জুনও সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে অর্থ বিভাগের সামনে কর্মচারীরা বিক্ষোভ করেছিলেন।সরকার সচিবালয়ে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে নিয়মিত আদেশ জারি করলেও, কর্মচারীরা বারবার তা অমান্য করে বিভিন্ন দাবিতে সমাবেশ ও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।ভোরের আকাশ/তা.কা
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলো জোটবদ্ধভাবে ভোটে অংশ নিলেও নিজেদের পৃথক দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার বিধানের বৈধতা নিয়ে দায়ের করা রুল খারিজ করেছে হাইকোর্ট।বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। এর ফলে নির্বাচনী জোট গঠনের পরও প্রতিটি দলকে তাদের নিজস্ব দলীয় প্রতীকে ভোটে অংশ নিতে হবে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার সাহেদুল আজম।এর আগে, গত ২৬ নভেম্বর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধ নির্বাচন করলেও স্ব স্ব দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান চ্যালেঞ্জ করে রিটটি দায়ের করা হয়। রিটে নির্বাচনে নিবন্ধিত একাধিক দল জোটভুক্ত হলেও ভোট করতে হবে নিজ নিজ দলের প্রতীকে— এমন বিধান যুক্ত করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) বাতিল চাওয়া হয়। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ববি হাজ্জাজের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন এনডিএমের মহাসচিব মোমিনুল ইসলাম এ রিট দায়ের করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।ভোরের আকাশ/এসএইচ
বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের উদ্বোধন করেছেন। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বিকালে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এ উদ্বোধনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে ভবিষ্যত সরকারের সমর্থন লাগবে। শুধু তাই নয় স্বাধীন বিচার বিভাগের সফলতা ও ব্যর্থতা—দুটিই আমাদের মানতে হবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি আরও বলেন, সবার সম্মিলিত প্রয়াসেই পৃথক সচিবালয় করা সম্ভব হয়েছে। এখন থেকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে বিচার বিভাগ কাজ করতে পারবে, এ ক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণ স্বাধীন।এর আগে গত ৩০ নভেম্বর বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়। এর ফলে নির্বাহী বিভাগ থেকে পুরোপুরি পৃথক হয় বিচার বিভাগ। রাষ্ট্রপতির নির্দেশে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়। গত ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ কর্তৃক সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।প্রসঙ্গত, বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বতন্ত্রীকরণ নিশ্চিত করতে প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হতে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাব আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এই প্রস্তাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ যথাযথরূপে পালনের উদ্দেশ্যে একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি অধ্যাদেশের খসড়া, প্রস্তাবিত সচিবালয়ের অর্গানোগ্রাম এবং রুলস অব বিজনেস ও এলোকেশন অব বিজনেস এর সম্ভাব্য সংস্কার সম্পর্কে পরিপূর্ণ প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়।ভোরের আকাশ/এসএইচ
সরকার উৎখাতের অভিযোগে রমনা মডেল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব শওকত মাহমুদকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খন্দকার আন্না শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতে অন্য দেশের এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগে যে মামলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই মামলায় শওকত মাহমুদকে গত রোববার গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিন বিকেলে মালিবাগ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।গ্রেপ্তারের পরদিন সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে ওইদিন মামলার মূল নথি না থাকায় রিমান্ডের বিষয়ে শুনানি হয়নি। রিমান্ড আবেদেনর শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।এদিন দুপুর ১টা ৫ মিনিটের দিকে তাকে আদালতে তোলা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হারুনুর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তার রিমান্ড নামঞ্জুর ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের এ আদেশ দেন।রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, শওকত মাহমুদসহ আরও অজ্ঞাত আসামিরা এনায়েত করিম চৌধুরীর সঙ্গে যোগসাজশে বিভিন্ন সময়ে দেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জন্য জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বর্তমান সরকারকে উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে এবং উচ্চপদস্থ লোকজন ও ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে গোপনে সভা-সমাবেশ, পরামর্শ করেছে।আবেদনে আরও বলা হয়, অন্যান্য আসামির সঙ্গে যোগসাজশ করে শওকত মাহমুদ একটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রের পক্ষে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চান। এ জন্য তিনি কোন কোন দল বা সংগঠনের সঙ্গে গোপনে ‘সলাপরামর্শ করছেন’, সেসব তথ্য উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন।ঢাকার মিন্টো রোডের মন্ত্রীপাড়ায় গাড়িতে করে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে আটক করা হয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরীকে। বিকেলে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয় তাকে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে তাকে রমনা মডেল থানার এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর মিন্টো রোডের মন্ত্রীপাড়া এলাকায় প্রাডো গাড়িতে করে সন্দেহজনক চলাচল করতে দেখা যায় আসামি এনায়েত করিম চৌধুরীকে। এ সময় তার গাড়ি থামানো হয় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে না পারায় তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তার কাছে পাওয়া ২টি আইন ফোন জব্দ করা হয়। প্রাথমিকভাবে তার ফোন বিশ্লেষণ করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানান যে, তিনি বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক। তিনি গত ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে নিউইয়র্ক থেকে কাতার এয়ারওয়েজ যোগে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তিনি বিশেষ একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার চুক্তিভিত্তিক এজেন্ট। বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার খুব নাজুক অবস্থায় আছেন এবং সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তিনি বর্তমান সরকারকে পরিবর্তন করে নতুন জাতীয় সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নিমিত্তে কাজ করার জন্য বাংলাদেশে এসেছেন বলে জানান।তিনি গত ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁও হোটেলে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে গুলশানের বর্তমান ঠিকানায় অবস্থান করতে থাকেন। ইতোমধ্যে তিনি সরকারি উচ্চ ও নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এবং বিভিন্ন বাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা, ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন বলে জানান। তিনি জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আমেরিকান সরকার হতাশ। আগামী ২১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় বাতিল করবেন বলে জানান তিনি। তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে সেনাবাহিনী সমর্থিত নতুন জাতীয় সরকার, অথবা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে। নতুন এই সরকারে কারা অংশগ্রহণ করবেন এবং সরকারপ্রধান কে হবেন, তা আমেরিকা নির্ধারণ করে দেবে বলে জানান। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটের আলোকে সরকারি ও বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বর্তমান অবস্থান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের তথ্য সংগ্রহ করে তাকে নিয়ন্ত্রিত গোয়েন্দা সংস্থার কাছে হস্তান্তর করতেন বলে জানান।অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামি এনায়েত করিম চৌধুরী বর্তমানে বাংলাদেশের বৈধ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার জন্য অন্য দেশের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশে এসে জননিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত আছেন, যা ধর্তব্য অপরাধ।রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধ আইনে মামলাটি দায়ের করেন পুলিশের উপপরিদর্শক আজিজুল হাকিম।এদিকে মামলার অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তার সহযোগী এসএম গোলাম মোস্তফা আজাদ, জাতীয় পার্টির রওশনপন্থি অংশের মহাসচিব কাজী মো. মামুনুর রশীদ, সাংবাদিক মো. আজহার আলী সরকার, যুব সংহতির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব রিফাতুল ইসলাম পাভেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন।ভোরের আকাশ/তা.কা