ছবি: সংগৃহীত
পেটের গ্যাস (ফাঁপা, ঢেকুর, পেটে অস্বস্তি) অনেক সময় খাবারের ধরন, খাওয়ার অভ্যাস বা হজমের সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। ওষুধের বদলে কিছু প্রাকৃতিক উপায় মেনে চললে গ্যাস অনেকটাই কমানো যায়।
১. খাবারের অভ্যাস বদলান
ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান, হঠাৎ গিলে ফেলবেন না – এতে বাতাস কম ঢোকে।
অতিরিক্ত ঝাল, তেল, ভাজা ও প্রসেসড খাবার কমান।
কার্বনেটেড ড্রিঙ্কস (সফট ড্রিঙ্ক, সোডা) এড়িয়ে চলুন।
ডাল, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মটরশুঁটি – এগুলো অনেকের গ্যাস বাড়ায়, প্রয়োজনে কমিয়ে দিন বা ভালোভাবে সেদ্ধ করে খান।
২. প্রাকৃতিক ভেষজ ব্যবহার
আদা চা: হজমে সাহায্য করে, গ্যাস কমায়।
পুদিনা পাতা বা পুদিনা চা: অন্ত্রের পেশি শিথিল করে, ফাঁপা কমায়।
জিরা-ধনিয়া-সৌফের পানি: ১ চা চামচ করে জিরা, ধনিয়া, সৌফ ফুটিয়ে ছেঁকে খেলে গ্যাস কমে।
লেবু পানি: হজমের এনজাইম সক্রিয় করে।
৩. গরম পানি ও হালকা ব্যায়াম
খাওয়ার পর হালকা হাঁটাহাঁটি করুন – খাবার হজম হবে, গ্যাস কম হবে।
দিনে কয়েকবার গরম পানি চুমুক দিয়ে খান।
যোগব্যায়ামের পবনমুক্তাসন (Pawanmuktasana) গ্যাস নিরসনে কার্যকর।
৪. প্রোবায়োটিক খাবার
টক দই, লাচ্ছি, ফারমেন্টেড খাবার – এগুলো অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়িয়ে হজম ভালো করে।
৫. স্ট্রেস কমানো
মানসিক চাপ হজমে প্রভাব ফেলে।
ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস বা হালকা যোগব্যায়াম উপকারী।
টিপস:
একসঙ্গে বেশি খাবেন না, দিনে ৪–৫ বার অল্প করে খান।
খাবারের সময় খুব বেশি কথা বলা বা চুইংগাম খাওয়া এড়িয়ে চলুন (এতে বাতাস ঢোকে)।
খাওয়ার অন্তত ২–৩ ঘণ্টা পরে ঘুমান।
ভোরের আকাশ/তা.কা
সংশ্লিষ্ট
গোলাপ, জবা কিংবা জিনিয়ার পাশাপাশি ঘর সাজাতে এখন বাড়ছে সাকুলেন্ট গাছের কদর। অল্প যত্নে টিকে থাকা এই ‘পাথুরে গাছ’ শুধু ঘরের শোভাই বাড়ায় না, বরং বাগানের রূপেও আনে ভিন্নতা। মরুভূমি বা পাহাড়ি এলাকায় জন্মানো সাকুলেন্ট আজকাল সমতলেও চমৎকারভাবে বেড়ে উঠছে।পাতা, কাণ্ড বা মূল- গাছের প্রতিটি অংশেই পানি ধরে রাখার ক্ষমতা থাকার কারণে এগুলো দীর্ঘদিন সবুজ থাকে। আকর্ষণীয় পাতা, দৃষ্টিনন্দন গঠন ও সহজ পরিচর্যার কারণে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সাকুলেন্ট।সংগৃহীত ছবিসাকুলেন্টের বিশেষত্বকম যত্নে টিকে থাকে: অল্প পানি ও আলোয়ও বেড়ে ওঠে।দৃষ্টিনন্দন পাতা ও আকৃতি: ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায়।ছোট জায়গাতেও মানিয়ে যায়: টেবিল, বারান্দা বা টেরারিয়ামে রাখা যায়।বাতাস পরিশোধনেও সহায়ক: কিছু প্রজাতি ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।দীর্ঘস্থায়ী: সঠিক যত্নে বছরের পর বছর বেঁচে থাকে।সংগৃহীত ছবিকোন সাকুলেন্ট কোথায় রাখবেনজায়গা- উপযোগী সাকুলেন্টঘরের ভেতর- অ্যালোভেরা, হাওরথিয়া, জেড প্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্টবারান্দা- একেভেরিয়া, সেদাম, এগেভঝোলানো টব- ডাঙ্কিজ় টেল, স্ট্রিং অব পার্লসঅনেক সাকুলেন্টে ছোট ছোট রঙিন ফুলও ফোটে, যা গাছকে করে তোলে আরও মোহময়।সংগৃহীত ছবিসাকুলেন্ট বসানো ও পরিচর্যার নিয়ম-সাকুলেন্টের শিকড় ছোট হয়, তাই চ্যাপ্টা টব ভালো। মাটির টব পানি নিষ্কাশনে সাহায্য করে। বড় গাছের জন্য এক টবে একটিই গাছ রাখুন। ছোট গাছ একসঙ্গে বসানো যায়।মাটি তৈরির পদ্ধতি২ ভাগ বাগানের মাটি + ১ ভাগ বালি + ১ ভাগ পিউমাইস (বা চারকোল/কয়লা গুঁড়া)। মাটি যেন পানি জমে না এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে।সংগৃহীত ছবিবসানোর নিয়মনার্সারি থেকে আনা গাছ আলতো করে শেকড়-সহ তুলে নতুন টবে বসান। একাধিক গাছ লাগালে তাদের মাঝে পর্যাপ্ত দূরত্ব রাখুন।সূর্যের আলোপ্রতিদিন অন্তত ৫–৬ ঘণ্টা হালকা রোদ লাগা জরুরি। আলো না পেলে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে।পানি দেওয়ার নিয়মপ্রতিদিন পানি দেওয়ার দরকার নেই। মাটি একেবারে শুকিয়ে গেলে তবেই পানি দিন। অতিরিক্ত পানি দিলে গাছ পচে যেতে পারে।সংগৃহীত ছবিসাকুলেন্টের যত্ন নিতে খুব বেশি ঝামেলা নেই। একটু রোদ, অল্প পানি আর একটু খেয়াল রাখলেই বছরের পর বছর বাড়ির শোভা বাড়াবে এই সবুজ বন্ধুরা। সঠিকভাবে যত্ন নিলে এরা হয়ে উঠতে পারে আপনার টেবিল, বারান্দা বা জানালার পাশে প্রাকৃতিক এক জীবন্ত শিল্পকর্ম।ভোরের আকাশ/তা.কা
বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে দেশ এগিয়ে চলেছে। দিন মজুর থেকে সর্বোচ্চ বিত্তশালী পরিবার পর্যন্ত সবাই যেন সুখ সাচ্ছন্দময় জীবণ কাটাতে আপন পরিবার ঢেলে সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছে।তাইতো অতি দরিদ্র থেকে হতদরিদ্র,নিম্ন আয় থেকে মধ্যবিত্ত এবং সার্বোচ্চ পরিবারেও এখন যে জিনিসটি দৃশ্যমান তাহল ফ্রিজ। ফ্রিজ ছাড়া এখনকার দিনে আমাদের জীবন যেন প্রায় প্রায় অচল। তবে সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ না করলে ফ্রিজে রাখা খাবারের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়।এমনকি বিষাক্তও হয়ে যেতে পারে খাবার।ফ্রিজে কাঁচা খাবার রাখার পদ্ধতি একরকম। আর রান্না করা খাবার সংরক্ষণের পদ্ধতি অন্য রকম। অনেকেরই জানা নেই যে রান্না করা খাবার কত দিন পর্যন্ত ফ্রিজে রাখা যায়। চলুনজেনে নেই, আকিজ কলেজ অব হোম ইকোনমিকসের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাফাত ফারাহ রশীদের কাছ থেকে কোন খাবার কত দিন পর্যন্ত ফ্রিজেসংরক্ষণ করে খাওয়া যায়।আমাদের সবারই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভাত থাকে। অনেকেই আবার বেঁচে যাওয়া ভাত ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখেন। পরে আবার তা বের করে গরম করে খান। ভাতের মধ্যে স্টার্চের ব্যাকটেরিয়া উপস্থিত থাকে। তাই রান্না করার ১ দিনেরমধ্যেই ভাত খেয়ে ফেলা উচিত। ভাতের মতো রুটিও বেঁচে গেলে অনেকেই ফ্রিজে রাখেন। রুটিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খেয়ে ফেলতে হবে।কাঁচা ফল ও সবজি দিয়ে তৈরি সালাদ বেশি হয়ে গেলে অনেকেই ফ্রিজে রেখে দেন। কাঁচা সালাদ ফ্রিজে রাখলে ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। তাইতো কাটার ১ থেকে দু’ঘণ্টার মধ্যে সালাদ খেয়ে ফেললেভালো। পাস্তা যদি চিজ ও সস দিয়ে তৈরি করা হয়, তাহলে কখনো ফ্রিজে রাখবেন না। পাস্তা সেদ্ধ করে আলাদাভাবে ফ্রিজে রাখুন। রান্না করা পাস্তা ফ্রিজে রাখলে তা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।ফ্রিজে খাবার রাখুন বক্সে ভরে :বেশ কয়েক দিনের জন্য একবারে ডাল রান্না করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন কমবেশি সবাই। সে ক্ষেত্রে বাতাস ঢুকতা রবে না, এমন বাক্সে ডাল সংরক্ষণ করতে হবে। পরবর্তী সময় বের করলেও ঠিক যতটুকু খাবেন ততটুকুই গরম করতে হবে। বাকিটা আবারও তুলে রাখুন ফ্রিজে। ৩ দিন পর্যন্ত ডাল ফ্রিজে রাখা যাবে।সবজির তরকারি ৩ দিনের বেশি ফ্রিজে রাখা উচিত নয়।তবে চেষ্টা করতে হবে দু’দিনেই যেন শেষ হয়ে যায়। মাছ-মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। তাই এসব খাবারও রান্না করা অবস্থায় ১-২দিনের বেশি ফ্রিজেরাখা উচিত নয়। তবে অনেকে রান্না করা মাছ-মাংস ১ বেলার মতো করে আলাদা আলাদা বাক্সে রাখেন। এভাবে রাখা খাবারও সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলা খুবি ভালো।ডিপ ফ্রিজ অথবা ফ্রিজে রাখা খাবার:ডিপ ফ্রিজে সাধারণত কাঁচা মাছ বা মাংস রাখা হয়। ফ্রিজের এই অংশের তাপমাত্রা ১ ডিগ্রির নিচে রাখা হয়। তাই ডিপ ফ্রিজে খাবারের পুষ্টিমান আনুপাতিকহারে অনেকটাই বজায় থাকে।মাছ ভালো করে ধুয়ে, টুকরা করে যতটুকু একবারে রান্না করা হবে, ততটুকুন করে বায়ুরোধী প্যাকেটে রেখে দিতে হবে। এতে করে স্বাদ ও পুষ্টিমান বজায় থাকবে অনেকটাই। আর এভাবে এক থেকে দু’মাস রাখা যাবে ফ্রিজে।মুরগি ভালো করে পরিষ্কার করে রাখলে ৬ মাস পর্যন্ত রাখা যায় ফ্রিজে। তবে ১ মাসের মধ্যেই খেয়ে ফেলা ভালো। গরু বা খাসির মাংস না ধুয়ে রক্তটা ভালো করে মুছে নিয়ে রাখতে হবে ফ্রিজে । ১ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব।তবে ৬ মাসের মধ্যে খেয়ে ফেলাটাই ভালো।অনেকেই শীতের সবজি সারা বছরের জন্য ফ্রিজে সংরক্ষণ করি। সেক্ষেত্রে হালকা ভাপিয়ে নিয়ে বায়ুরোধী বক্সে বা প্যাকেটে রাখলে বছর খানেক ভালো থাকলেও পুষ্টিগুন এবং স্বাদ অনেকটাই নষ্ট হবে।খাবার ফ্রিজে ভালো রাখার উপায়:রন্ধনবিশেষজ্ঞ সিতারা ফেরদৌস জানিয়ে দিলেন ফ্রিজে খাবার ভালো রাখার কিছু উপায়: খাবার ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে অবশ্যই বায়ুরোধী পাত্র বা প্যাকেট ব্যবহান করুন। খাবার ওপরের তাকগুলোয় রাখুন। কারণ, সেখানে খাবার বেশি বাতাস পায় এবং ঠান্ডা থাকে। প্রথমে যে খাবারগুলো রাখা হয়েছে, সেগুলো আগে খেয়ে নিন।নিয়ম মেনে ফ্রিজে মাংস রাখুন:কাঁচা খাবার এবং রান্না করা খাবার অবশ্যই আলাদা তাকে রাখতে হবে। ফ্রিজের দরজা খোলার আগে ঘরে ফ্যান চালু থাকলে বন্ধ করে নিন। ফ্যানের বাতাস ফ্রিজের ভেতরে ঢুকে খাবারে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া তৈরি করতে সহায়তা করে। যদি ফ্রিজের দরজা বারবার খোলা ও বন্ধ করা হয়, তাহলে খাবার দ্রুত নষ্ট হবে। রেফ্রিজারেটরের মান বা অবস্থার ওপরও নির্ভর করে রেফ্রিজারেটরে খাবার কত দিন ভালো থাকবে। ফ্রিজের কম্প্রেশর যদি ভালো না থাকে, তাহলে খাবার দ্রুত নষ্ট হবে। ফ্রিজে খাবার সব সময় ঢেকে রাখুন,ফ্রিজে সব সময় এক টুকরা কাটা লেবু রাখলে ও মাঝেমধ্যে বেকিং সোডা মেশানো পানি দিয়ে ফ্রিজ মুছে নিলে এক খাবারের গন্ধ অন্য খাবারে প্রবেশ করবে না। এ কারণে ফ্রিজে দুর্গন্ধওহবে না।ঝুঁকিপূর্ণ খাবার:ভাত: ফ্রিজে রাখা ভাতে ব্যাসিলাস সিরিয়াস নামক ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, যা ডায়রিয়া ও বমির কারণ হয়, তাই ২ দিনের মধ্যে খাওয়া ভালো। কাটা পেঁয়াজ: কাটা পেঁয়াজ ফ্রিজে রাখলে ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর ঝুঁকি থাকে, তাই কম রাখা উচিত।যেসব খাবার ফ্রিজে রাখা উচিত নয়: আলু, টমেটো, পেঁয়াজ (পুরো), রসুন, মধু, শসা ইত্যাদি ফ্রিজে রাখলে স্বাদ ও মান নষ্ট হয় বা ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে।পুনরায় গরম করা: ফ্রিজ থেকে বের করা খাবার (বিশেষ করে ভাত) খাওয়ার আগে ভালোভাবে গরম করতে হবে (পুরোপুরি গরম হওয়া পর্যন্ত)।যেভাবে বাঁচাবেন:দ্রুত ঠান্ডা করুন: রান্না করা খাবার ২ ঘণ্টার মধ্যে ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখুন।পর্যাপ্ত পরিমাণে রান্না করুন: অতিরিক্ত রান্না করা খাবার এড়ানো।বারবার প্রিজে রখা খাবার বের করা থেকে বিরত থাকুন: এতে তাপমাত্রার পরিবর্তন হয় ও ব্যাকটেরিয়া বাড়ে।ভোরের আকাশ/মো.আ.
শীতকালে ত্বকের যত্নের পদ্ধতি বদলে যায়। ড্রেসিং টেবিলে জায়গা করে নেয় লোশন, অলিভ অয়েল, ময়েশ্চারাইজার। সঙ্গে থাকে হাতের ক্রিম, পায়ের ক্রিম, ঠোঁটের ক্রিম। তবে অনেকেই এখনও ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে ভরসা রাখেন প্রাচীন ও সাধারণ পণ্যে, যেমন পেট্রোলিয়াম জেলি বা গ্লিসারিন। এগুলো ব্যবহার করলেও কোনো ক্ষতি হয় না, বরং ত্বককে উপকারও করে।শীতকালে ত্বকের শুষ্কতা কমাতে এবং আর্দ্রতা বাড়াতে প্রশ্ন আসে— পেট্রোলিয়াম জেলি ভালো নাকি গ্লিসারিন? আসুন, এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিই।সংগৃহীত ছবিপেট্রোলিয়াম জেলি ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে। এই স্তর ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা বাইরে বের হতে দেয় না। পেট্রোলিয়াম জেলি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা প্রায় ৯৯ শতাংশ। ফলে শীতের রুক্ষ আবহাওয়ায় এটি ত্বককে চরম শুষ্কতা থেকে রক্ষা করে।অপরদিকে, গ্লিসারিন ত্বকে বাইরে থেকে আর্দ্রতা টেনে আনে। এটি ত্বকে মাখলে পরিবেশ থেকে জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে এবং ত্বকের ভেতরে নিয়ে আসে। বিশেষত হালকা ভেজা ত্বকের ওপর গ্লিসারিন ব্যবহার করলে এর কার্যকারিতা বেশি হয়।উভয় উপাদানই শীতকালে হাইড্রেশন বা আর্দ্রতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, কিন্তু কাজ করার পদ্ধতি ভিন্ন। পেট্রোলিয়াম জেলি ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা ধরে রাখে, আর গ্লিসারিন বাইরে থেকে আর্দ্রতা টেনে আনে। কখনও কখনও পেট্রোলিয়াম জেলি ত্বকের গভীর স্তর থেকে আর্দ্রতা টেনে শুষ্ক অংশে পৌঁছে দিতে পারে। অন্যদিকে, গ্লিসারিন সেই অঞ্চলে আর্দ্রতার অভাব মেটাতে সহায়ক।সংগৃহীত ছবিকোনটি কোন ত্বকের জন্য উপযুক্ত—পেট্রোলিয়াম জেলি: মাখার পর ত্বকে আঠালো বা চটচটে ভাব তৈরি হয়। তাই প্রচণ্ড শুষ্ক, খসখসে বা ছাল ওঠা ত্বকের জন্য এটি সর্বোত্তম। ফাটা ঠোঁট, কনুই, গোড়ালি, এগজিমা বা চুলকানি থাকলে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা উচিত।গ্লিসারিন: হালকা, তেলচিটে বা আঠালো ভাব তৈরি করে না। সাধারণ থেকে হালকা শুষ্ক ত্বকের জন্য এটি উপযুক্ত। তবে খুব শুষ্ক আবহাওয়ায় গ্লিসারিনের কারণে ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা টেনে আনা ক্ষতি করতে পারে। ব্রণপ্রবণ ত্বকে গ্লিসারিন পেট্রোলিয়াম জেলির চেয়ে ভালো কাজ করে।শীতকালে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো উভয় উপাদানের সমন্বয়। প্রথমে গ্লিসারিন মেখে আর্দ্রতা বাড়ান, এরপর পেট্রোলিয়াম জেলি মেখে তার ওপর সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করুন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বাইরে বের হবে না এবং ত্বক থাকবে সুস্থ ও নরম।ভোরের আকাশ/তা.কা
ভেটকি মাছের নরম স্বাদে, আচারের টকঝাল স্বাদে এক অনন্য পদ, ফিশ আচারি কাবাব। এই বিশেষ রেসিপিতে একসঙ্গে মিলেছে দই, কাসুন্দি, আমের আচার ও মসলার ঝাঁজ। রেস্টুরেন্টের মতো স্বাদ এবার ঘরেই সহজে তৈরি হবে। পুষ্টিকর, মুখরোচক ও নতুন স্বাদের এই কাবাব যে কোনও বিশেষ অনুষ্ঠানে বা সন্ধ্যার নাস্তা হিসেবে জমে উঠবে দারুণভাবে।চলুন জেনে নিই রেসিপি…উপকরণ:ভেটকি মাছের কাঁটামুক্ত, চেপ্টা ও পরিষ্কার টুকরো – ২৩০ গ্রামলবণ – ১০ গ্রামভিনেগার – ২ টেবিলচামচআদা বাটা – ১০ গ্রামরসুন বাটা – ১০ গ্রামআচার ম্যারিনেশনের জন্য:পানি ঝরানো দই – ২০০ গ্রামকাঁচামরিচ বাটাকাজুবাটা – ১০ গ্রামরোস্ট করা বেসন – ১ টেবিলচামচধনে গুঁড়া – ২ চাচামচজিরে গুঁড়া – ২ চাচামচলাল মরিচ গুঁড়া – ১ চা চামচলেবুর রস – ২টি লেবুসরিষার তেল – ১ টেবিল চামচ + ১ চা চামচবিট লবণ – ১ চাচামচআমের আচার (তেলসহ) – ১ টেবিল চামচকাসুন্দি – ২ চা চামচপ্রস্তুত প্রণালি:১. মাছটিকে আটটি মোটা টুকরোয় কেটে নিন।২. লবণ ও ভিনেগার মিশিয়ে মাছ মাখিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট রেখে দিন।৩. এর মধ্যে আচারি ম্যারিনেশনের সব উপকরণ একসঙ্গে ভালো করে ফেটিয়ে নিন।৪. প্রথম ম্যারিনেশন শেষে মাছ সেই আচারি মিশ্রণে ডুবিয়ে অন্তত ৩০ মিনিট মেরিনেট করুন।৫. মাছের টুকরোগুলিতে সামান্য মাখন ব্রাশ করে ভেজে নিন।৬. সোনালি রং ধরলে নামিয়ে নিন।৭. পুদিনার চাটনি ও সালাদের সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন।আচারের ঝাঁজ আর ভেটকির নরম স্বাদ সব মিলিয়ে এই ফিশ আচারি কাবাব হবে একেবারে অনবদ্য।ভোরের আকাশ/তা.কা