গণভোট ইস্যু
মাজাহারুল ইসলাম
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ১২:০৫ এএম
ছবি- সংগৃহীত
গণভোট প্রশ্নে বিতর্কে জড়িয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি বলছে, গণভোটের চারটি প্রশ্নের মধ্যে কোনো একটির সঙ্গে দ্বিমত থাকলে সেখানে ‘না’ বলার সুযোগ নেই। তাহলে কোনো না কোনো প্রশ্নে দ্বিমত থাকলে ভোটার কীভাবে মতামত জানাবে, তা পরিষ্কার নয় অভিযোগ দলটির। গোঁজামিল দিয়ে কোনো কিছু করা হলে তা টেকসই হবে না। দেশের সাধারণ মানুষ গণভোটের উদ্দেশ্য ঠিকমতো না বুঝতে পারে, তাহলে তারা বিভ্রান্তির মধ্যে থাকবে। কাজেই সাধারণ মানুষ কথা চিন্তা করেই সমর্থনও করতে পারছে না বিএনপি নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট। তবে বিএনপি গণভোটের ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ প্রসঙ্গে চুপচাপ। অন্যদিকে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে জামায়াতে ইসলামী-এনসিপি। সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই গণভোটের পক্ষে হ্যাঁ ভোটের প্রচার শুরু করছেন জামায়াত-এনসিপির নেতারা।
বিএনপির এক সূত্র বলছে, গণভোটে যে চারটি প্রশ্ন রয়েছে, সেখানে ‘না’ অপশন নেই। একমত না হলে জনগণ কীভাবে তাদের মত প্রকাশ করবে, তা প্রশ্নমালায় উল্লেখ নেই। জুলাই সনদ জাতির সামনে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি অভিযোগ দলটির। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একইদিন আয়োজনে প্রধান উপদেষ্টাকে সাধুবাদ জানালেও গণভোটের বিষয়বস্তু নিয়ে দলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সরাসরি বিরোধিতা করতে না পারলেও সমর্থনও করতে পারছে না দলটি। তবে গণভোটে সমর্থন দিয়ে ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র পরিচালনায় নানা জটিলতায় পড়তে পারে দলটি। এটিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারকে অনেকটা ক্ষমতাশূন্য করার প্রক্রিয়াও মনে করছেন দলের কেউ কেউ। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি ‘হ্যাঁ’ নাকি ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারে নামবে, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি দলটির বিশ^স্থ সূত্রে জানা গেছে।
জামায়াত ইসলামী এক সূত্রে জানা যায়, জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা ইতোমধ্যে হ্যাঁ ভোটের প্রচার শুরু করেছেন সামাজিক মাধ্যমে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে সর্বাত্মক প্রচার থাকছে জামায়াতে ইসলামীর। হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারে থাকছে এনসিপিও। তবে দলটি সনদ অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নের আদেশ স্পষ্ট করতে সরকারের কাছে দাবি জানাবে।
জামায়াতে এক শীর্ষ নেতা বলেন, জামায়াত প্রার্থীরা দাঁড়িপাল্লার পাশাপাশি হ্যাঁ ভোট চাওয়া শুরু করে দিয়েছেন। দলের নির্বাচনী প্রচার যেভাবে করা হবে, হ্যাঁ ভোটের প্রচারও একই রকম গুরুত্ব দিয়ে করবে জামায়াত।
এনসিপি নেতা এবং সমর্থকরা সামাজিক মাধ্যমে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বলছেন। তবে গণসংযোগ এবং নির্বাচনী প্রচারে গণভোটের আলোচনা তোলেনি দলটি। একাধিক নেতা বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারে নামার পর আনুষ্ঠানিকভাবে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে নামবে দলটি।
এ প্রসঙ্গে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, পুরো দেশই সংস্কারের পক্ষে। জামায়াতও হ্যাঁ ভোটের পক্ষে। গণভোটের তপশিল ঘোষণার পর সর্বাত্মক প্রচার চালানো হবে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের মনোনীত রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা অনুচিত হয়েছে। তার পরও এনসিপি আদেশকে গ্রহণ করেছে। তারা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে থাকবে।
তবে বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত গণভোটের চার প্রশ্ন এড়িয়ে সই করা জুলাই সনদকে সামনে আনছেন। তারা দাবি তুলছেন, সংসদ নির্বাচনের দিনে যে গণভোট হবে, সেটি হতে হবে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের ওপর। অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি দিয়েছে। সনদে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে।
এর মধ্যে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব নিয়ে গণভোট হবে। প্রস্তাবগুলোকে চারটি বিষয়ে ভাগ করে একটি প্রশ্নে হবে গণভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে নির্বাচনে জয়ী প্রতিনিধি নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে।
যদিও সংবিধান সংস্কারবিষয়ক প্রস্তাবগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদে বিএনপি সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি), ন্যায়পাল, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিয়োগে সাংবিধানিক কমিটি গঠনের প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) দিয়েছে। তবে গণভোটের প্রথম প্রশ্নে এসব ‘নোট অব ডিসেন্ট’ না রেখে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
একইভাবে দ্বিতীয় প্রশ্নে দুই কক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদে পিআর এবং উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদনে সংবিধান সংশোধনের বিধানেও বিএনপির আপত্তি ছিল। কিন্তু গণভোটে এটাকেও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেখানে পৃথকভাবে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। গণভোটের প্রশ্নের তৃতীয় ও চতুর্থ বিষয়বস্তু নিয়ে তেমন আপত্তি নেই দলটির।
এর মধ্যে সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে এবং জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করার বিষয় রয়েছে। তবে গণভোটের প্রশ্নের প্রথম দুই বিষয়বস্তু নিয়ে জোর আপত্তি বিএনপির। এই দুই বিষয়বস্তু পরিবর্তনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাবে দলটি।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা স্বাক্ষরিত জুলাই সনদকেই রাষ্ট্র সংস্কারের ভিত্তি হিসেবে দেখছি। সেখানে গণভোটে যেসব বিষয় উত্থাপন করা হয়েছে, যেসব বিষয়ে গণভোট আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। সেসব বিষয়ের সঙ্গে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থা থাকলে, তা পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হবে।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবে ক্ষুণ্ন হোক, তা আমরা চাই না। তাই আমরা কোনো আরোপিত আইন দিয়ে, আদেশ দিয়ে, কোনো জবরদস্তিমূলক প্রস্তাব দিয়ে জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করতে দিতে চাই না। স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের বাইরে জবরদস্তিমূলক কোনো প্রস্তাব যদি দেওয়া হয়, সেটি জনগণ গ্রহণ করবে না।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, গণভোটের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন হয়ে যাবে না, সংবিধানও সংশোধন হয়ে যাবে না। তার জন্য অবশ্যই একটি নির্বাচিত সংসদ গঠিত হতে হবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট, নাকি ‘না’ ভোটে বিএনপির অবস্থান থাকবে- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা সই করা জুলাই সনদের মধ্যেই থাকব। এর বাইরে যাব না। গণভোটের প্রশ্নের বিষয়বস্তু নিয়ে তাদের মনে দ্বিধা তৈরি হয়েছে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে বেশ কিছু জায়গায় বিএনপির দ্বিমত ছিল। সেসব স্থানে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে দলটি। কিন্তু জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশে সেই ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সুবিধা রাখা হয়নি। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ দলটি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছে, সই করা জুলাই সনদের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত সনদে স্বাক্ষরকারী কোনো দলের মান্য করার বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, গণভোটের প্রশ্নের মধ্যে যে চারটি বিষয়বস্তু রাখা হয়েছে, সেখানে অসম্মতির সুযোগ নেই। মানুষ যদি একমত না হয়, সেই মতামত কীভাবে দেবে তার উল্লেখ নেই। এতে নাগরিকদের প্রকৃত মতামত জানানোর পথ রুদ্ধ হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যাতে সহজে বুঝতে পারে, সেভাবে প্রশ্নগুলো সাজানো উচিত ছিল।
রিজভী বলেন, গোঁজামিল দিয়ে কোনো কিছু করা হলে তা টেকসই হবে না। গণভোটের উদ্দেশ্য কী, ৯০ ভাগ লোক যদি তা বুঝতে না পারে, তাহলে মানুষ সে তিমিরেই থেকে যাবে। সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবে- সেই আলোকে গণভোটের প্রশ্নমালা করার পরামর্শ দেন এই নেতা।
এ প্রসঙ্গে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোট হলে আবার কীসের নোট অব ডিসেন্ট। একটি দলের ভিন্নমত নয়, জনগণ গণভোটে যে রায় দেবে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি জনগণ না ভোট দেয়, জামায়াত তা মেনে নেবে। হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে সনদ এবং আদেশে যেভাবে রয়েছে, সেভাবেই সংস্কার করা হবে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সংস্কার থেকে একচুল সরবে না। সংস্কারবিরোধী কোনো দল ক্ষমতায় গেলেও একচুল সরতে দেবে না। তবে সরকারের উচিত, আদেশটি আরও স্পষ্ট করে নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন; যাতে আগেই সংস্কার বাস্তবায়ন করা যায়।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদের আইনিভিত্তি দেওয়ার জন্য যে গণভোট হবে, সেখানে তার দলসহ আট দল সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলবে। জনগণকেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আট দল শুরু থেকেই সংস্কারের পক্ষে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক সংস্কারের অনেক বিষয়ে একটি দল বিরোধিতা করেছে। তাই জাতিকে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। সরকারও যেন আগে কী ছিল, নতুন করে কী কী সংস্কার হচ্ছে, সেটি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করে, প্রচারপত্র বিলি করে, জাতীয় প্রচারমাধ্যমে প্রচার করে জনগণকে জানায়।
গণভোটে ‘না’ বিজয়ী হলে কী হবে? : গণভোটে বিএনপির ভিন্ন মতের বিষয়গুলো হ্যাঁ ভোটে পাস হলেও তা পরবর্তী সরকারের জন্য তেমন কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে না বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন লেখক এবং দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক গবেষক আলতাফ পারভেজ।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে যেসব বিষয় রয়েছে তার সবকিছু পরবর্তী সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে- এমন বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না। তারপরও সেখানে তেমন মৌলিক কিছু নেই। শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন, করারোপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ভূমি সংস্কার-এমন বিষয় থাকলে তা নিয়ে সবার মাথা ব্যথা থাকত। এখন যা জুলাই সনদে আছে বা যেসব গণভোটে যাচ্ছে- তা নিয়ে সাধারণ মেহনতী মানুষের কিছু যায় আসে না। এজন্য এটা নিয়ে জনগণের তেমন কোনো মাথাব্যথা নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর মাথা-ব্যথা রয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই আদেশ ও গণভোটের প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করলে মনে হয় জামায়াতসহ তাদের মিত্রদের কথা বেশি শোনা হয়েছে। এটা এক ধরনের রাজনৈতিক সংকট তৈরি করছে। তবে এটা রাজনৈতিক দলগুলো মেনে নিলেও পরবর্তী সরকারের জন্য তেমন কোনো বাধা হবে না।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভিন্ন মতের কিছু বিষয় গণভোটে গেছে। সেখানে যদি হ্যাঁ জয়যুক্ত হয় এবং সংসদে বিএনপি দুই তৃতীয়াংশ আসন পায়, তখন বিএনপি চাইলে তো নতুন করে সংবিধান সংশোধনেরও উদ্যোগ নিতে পারে। পাশাপাশি ভূমিধস বিজয় অর্জন করলে উচ্চকক্ষেও বিএনপি বা যেকোনো একটি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। তখন তারা যা চাইবে, সেই পরিবর্তনতো করতে পারবেন।
গণভোটের বিষয়গুলো পরিবর্তনের সুযোগ আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আলতাফ পারভেজ বলেন, এখনো জুলাই আদেশ, গণভোটসংক্রান্ত বিষয়ে অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। কোনো দলকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করা মানেও জনগণ তাকে ম্যান্টেড দিল। তখন ওই সরকার তাদের মতো করে পরিবর্তন কেন করতে পারবে না? সামনে এ বিষয়ে আরও আলোচনা হবে। তারপর সবকিছু পরিষ্কার হবে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বিএনপি যদি গণভোটে ‘না’ ভোট দেয়, তবে সেই গণভোট অর্থহীন হয়ে পড়বে। এতে গণভোটের রায় নিয়ে নতুন সংকট সৃষ্টি হবে। তাই এ বিষয়ে বাস্তবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভাবা প্রয়োজন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর ঐকমত্য কমিশন যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, সেখানে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। আরও কিছু বিষয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে। এসব কারণেই ঐক্যের পরিবর্তে অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বে এমন কোনো নজির নেই যেখানে সংসদে আলোচনা ছাড়া এ ধরনের বিষয় চাপিয়ে দেওয়া হয়।
ভোরের আকাশ/এসএইচ