অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৫ ১১:৫৪ পিএম
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের সুযোগ তৈরি করায় উদ্বেগ জাতিসংঘের হাইকমিশনারের
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নিষিদ্ধ করার সুযোগ রেখে আইন সংশোধনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক। আজ সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ৫৯তম মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হাইকমিশনার টুর্কের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। এতে তিনি ইরান-ইসরায়েল সংঘাতসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং তা উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের চিত্র তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি আশাবাদী যে, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে অগ্রগতি হচ্ছে। আমি রাজনৈতিক সংস্কার এবং অবাধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ তৈরিতে অর্থবহ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।
তবে রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নিষিদ্ধের সুযোগ রেখে সাম্প্রতিক আইনি পরিবর্তন এবং এ–সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড নিয়ে আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এসব পদক্ষেপ সংগঠনের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারে অন্যায্য হস্তক্ষেপ করতে পারে।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বাংলাদেশে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত ব্যক্তি বা সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
এই অধ্যাদেশের আওতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, তার অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালকে রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য ও মানবাধিকার প্রসঙ্গে হাইকমিশনার টুর্ক আরও বলেন, “সাম্প্রতিক শুল্ক বৃদ্ধি ও বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে সুনামির মতো আঘাত হানবে। এতে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশগুলো ও অন্যান্য ছোট উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ভিয়েতনামের মতো রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলো মারাত্মক বিপদের মুখে পড়তে পারে।”
ভোরের আকাশ//হ.র