শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রহস্যময় বগা লেক, প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বপ্নের গন্তব্য

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মেঘের রাজ্য বান্দরবান। আর এই বান্দরবানের রুমা উপজেলায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,২৪৬ ফুট উঁচুতে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এক প্রাকৃতিক বিস্ময়—বগা লেক (Boga Lake)। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘বগাকাইন হ্রদ’ নামেও পরিচিত। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা এই হ্রদের নীলাভ শান্ত পানি আর চারপাশের সবুজের সমারোহ যেকোনো পর্যটককে মুহূর্তেই এক মায়াবী দুনিয়ায় নিয়ে যায়।

বগা লেক কেবল তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই বিখ্যাত নয়, এর গভীরতা, সৃষ্টি রহস্য এবং ভূ-তাত্ত্বিক গঠনকে ঘিরে রয়েছে নানা রহস্য ও রোমাঞ্চকর উপকথা। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই নীলাভ জলের হ্রদের ভেতরের কিছু অজানা গল্প:

বগা লেকের সৃষ্টি রহস্য: বিজ্ঞান বনাম উপকথা

বগা লেকের উৎপত্তি নিয়ে বিজ্ঞানীদের ধারণা এবং স্থানীয় বম ও ম্রো উপজাতিদের প্রচলিত বিশ্বাসের মধ্যে রয়েছে এক বিশাল ও আকর্ষণীয় তফাত।

  • বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা: ভূ-তাত্ত্বিকদের মতে, বগা লেক আসলে একটি মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ (Volcanic Crater)। প্রায় ২ হাজার বছর আগে কোনো প্রলয়ঙ্কারী ভূ-কম্পন বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে এই পাহাড়ের চূড়ায় এক বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বৃষ্টির পানি জমে এবং মাটির নিচের প্রাকৃতিক স্প্রিং বা ঝরনা থেকে পানি এসে এটি একটি স্থায়ী হ্রদে পরিণত হয়।
  • বম উপজাতির ড্রাগন উপকথা: স্থানীয় আদিবাসীদের গল্পটি বেশ রূপকথার মতো। তাদের বিশ্বাস, অনেক বছর আগে এই পাহাড়ে একটি বিশাল সুড়ঙ্গ ছিল এবং সেখানে এক ‘বগা’ বা ড্রাগন বাস করত। বম ভাষায় ‘বগা’ মানে ড্রাগন বা পৌরাণিক দেবতা। সেই ড্রাগন নাকি স্থানীয় গ্রামবাসীদের গবাদিপশু এবং মানুষ ধরে খেয়ে ফেলত। একদিন ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীরা সেই ড্রাগনকে আক্রমণ করে পুড়িয়ে মেরে ফেলে। ড্রাগনের মৃত্যুর সাথে সাথেই পাহাড়ে এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে এবং পাহাড়ের চূড়া ধসে গিয়ে এই গভীর হ্রদের সৃষ্টি হয়। সেই ড্রাগনের নামানুসারেই এর নাম হয় ‘বগা লেক’।

কেন রহস্যময় এই লেক?

বগা লেকের পানি ও তার চারপাশের পরিবেশকে ঘিরে বেশ কিছু অদ্ভুত ও রহস্যময় ঘটনা পর্যটক এবং গবেষকদের ভাবিয়ে তোলে:

১. পানির অদ্ভুত রঙ পরিবর্তন: বগা লেকের পানির মূল আকর্ষণ হলো এর গাঢ় নীল রঙ। তবে রহস্যের বিষয় হলো, বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে (সাধারণত শীত বা বর্ষার আগে) হ্রদের পানি প্রাকৃতিকভাবে সম্পূর্ণ ঘোলাটে বা বেগুনি রঙ ধারণ করে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, হ্রদের তলদেশে থাকা কোনো মৃত আগ্নেয়গিরির ফাটল থেকে সালফার বা রাসায়নিক গ্যাস নির্গত হওয়ার কারণে পানির রঙ এভাবে বদলে যায়। পানি রঙ বদলানোর সময় লেকের সব মাছ মারা যায় বলেও স্থানীয়রা জানান। 2. অজানা গভীরতা: হ্রদের আয়তন প্রায় ১৫ একর হলেও এর আসল গভীরতা নিয়ে আজও ধোঁয়াশা রয়েছে। সরকারি তথ্যমতে এর গভীরতা প্রায় ১৫০ থেকে ২৫০ ফুট। তবে স্থানীয়দের দাবি, রশি বা কোনো আধুনিক যন্ত্র দিয়ে এর একদম তলদেশের নিখুঁত পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি। ৩. বাহ্যিক কোনো 

  • উৎস নেই: বগা লেকের চারপাশে কোনো নদী বা বড় ঝরনা নেই, যেখান থেকে পানি এসে হ্রদে পড়বে। অথচ তীব্র গরমেও এই লেকের পানি কখনো শুকিয়ে যায় না। লেকের তলদেশের অদৃশ্য প্রাকৃতিক পানির উৎসই একে সবসময় পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ রাখে।

অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের স্বর্গরাজ্য

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ ‘তাজিংডং’ এবং দুর্গম ‘কেওক্রাডং’ জয় করতে যাওয়া ট্রেকারদের জন্য বগা লেক হলো একটি আদর্শ ট্রানজিট পয়েন্ট। পাহাড়ি কায়াকিং বা নৌকায় চড়ে লেকের নীল পানিতে ঘুরে বেড়ানো, কিংবা রাতে লেকের পাড়ে বসে চাঁদের আলো আর ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনার অভিজ্ঞতা জীবনভর মনে রাখার মতো। লেকের চারপাশের বম পাড়ার কাঠের তৈরি ঘর এবং তাদের সরল জীবনযাত্রা পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

আরও পড়ুন

দেশের রাস্তায় এখন ১ হাজারের বেশি বিওয়াইডি এনইভি গাড়ি

ভ্রমণের উপযুক্ত সময় ও জরুরি টিপস:

  • সেরা সময়: শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) বগা লেক ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। এই সময় পাহাড়ি রাস্তাগুলো নিরাপদ থাকে এবং লেকের পানি সবচেয়ে সুন্দর নীল দেখায়। বর্ষাকালে পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় রাস্তা অত্যন্ত দুর্গম ও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
  • অনুমতি: বগা লেক একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল পাহাড়ি এলাকা এবং ভারতের সীমান্তবর্তী হওয়ায় রুমা আর্মি ক্যাম্প থেকে পর্যটকদের বাধ্যতামূলকভাবে ভ্রমণের লিখিত অনুমতি ও এনট্রি নিতে হয়। সাথে জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের কপি রাখা আবশ্যক।

শহুরে কোলাহল থেকে দূরে, মেঘ আর পাহাড়ের মিতালিতে ঘেরা বগা লেক যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত ক্যানভাস। আপনি যদি অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসেন এবং প্রকৃতির শান্ত, রহস্যময় রূপ নিজের চোখে দেখতে চান, তবে বান্দরবানের এই নীলাভ জলের হ্রদ আপনার ভ্রমণ তালিকায় শীর্ষে থাকা উচিত।

ভোরের আকাশ/জেআ

বান্দরবানবগা লেক

শেয়ার করুন: