বেশকিছু দিন ধরেই কুয়াশার চাদরের সঙ্গে কনকনে হিমেল হাওয়ায় হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে সারা দেশের মানুষ। রাজধানীতে অবশ্য শীত সামান্য কমেছে, কয়েক দিন ধরে দেখা মিলছে সূর্যেরও। তবে দেশের ১৩ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।সংস্থাটির সবশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। এদিন ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।একনজরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রাপঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় আজকের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহীতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, পাবনায় ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, নওগাঁয় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যশোরে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, চুয়াডাঙ্গায় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রংপুর বিভাগের সকল জেলায় ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। তবে, তেঁতুলিয়া সর্বনিম্ন।বিভাগীয় পর্যায়ে তাপমাত্রাঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহীতে সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খুলনায় সর্বনিম্ন ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সিলেটে সর্বনিম্ন ১৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বরিশালে সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রংপুরে সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোরের আকাশ/মো.আ.
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকতে চায় না। বরং সারাবিশ্বের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক রেখেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।সোমবার (১২ জানুয়ারি) জামায়াত ইসলামীর আমিরের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবসের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।তিনি বলেন, সবার জন্য সমতল মাঠ তৈরিতে কোনো চ্যালেঞ্জ আছে কিনা থাকলে সেগুলো কি তারা আমাদের কাছে এগুলো জানতে চেয়েছেন। তারা আরও জানতে চেয়েছেন নির্দিষ্ট করে কোন কোন অঞ্চল নিয়ে আপনারা শঙ্কিত কিনা। প্রধানত দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের এবং নির্বাচন কমিশনকে অর্থবহ সহায়তা করার দায়িত্ব সরকারের। এ দুই অথরিটিকে জানানোর পরে যদি আমরা সমাধান পেয়ে যাই তাহলে এর বাইরে আর কাউকে আমরা জানাবো না।কিন্তু যদি আমরা সমাধান না পাই তাহলে জনগণের জানার অধিকার আছে আমরা তাদের জানাবো। তখন আপনারাও জানবেন।তিনি বলেন, তারা এটাও জানতে চেয়েছেন আগামীতে যদি আমরা সরকার গঠন করি তাহলে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কেমন হবে, আমরা স্পষ্টভাবেই বলেছি বিশ্বের সবগুলো শান্তিকামী, সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেগুলো আছে সবার সঙ্গেই থাকবে আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক।তিনি বলেন, যারা আমাদের প্রতিবেশী তাদের সঙ্গেও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক থাকবে এবং আমরাও প্রত্যাশা করব তারা আমাদের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করবে।এ আচরণটা হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে। আমরা কোনো ক্ষেত্রেই কোনো অসমতা দেখতে চাই না।জামায়াত আমির আরও বলেন, আমাদের ফরেন পলিসি ও নির্বাচনের ব্যাপারে বলেছি যে আমরা কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকতে চাই না। বরং সারাবিশ্বের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক রেখেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।তারা জানতে চেয়েছেন সমাজের কোন সেকশন আমাদের বেশি সাপোর্ট দিচ্ছে।আমরা বলেছি কোন আলাদা সেকশন নয় সবাই সাপোর্ট দিচ্ছে। তবে যুবকরা বিশ্বাস করে তাদের জন্য যদি কেউ কোনো ওয়াদা করে সেই ওয়াদা শুধুমাত্র জামায়াত ইসলামী রক্ষা করে। এ বিশ্বাসের জায়গা থেকেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনগুলোতে নির্বাচনের ফলাফলের প্রতিচ্ছবিতে ফুটে উঠেছে। যুবশক্তির সেখানে রিফ্লেকশন দেখা দিয়েছে।তিনি বলেন, আমরা আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তার বিষয়ে খুবই আন্তরিক। এ কারণে আমরা বিশ্বাস করি মা বোনেরাই আমাদের প্রধানত চয়েস করবেন। এর লক্ষণ আমরা এরই মধ্যে দেখতে পেরেছি। যার কারণ মা-বোনদের নির্বাচনে প্রচারণায় বিভিন্ন জায়গায় বাধা দেওয়া হচ্ছে।এমনকি হিজাব খুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এদের দেখলে তোমরা দেখিয়ে দিবা অথবা তাড়িয়ে দিবা।ভোরের আকাশ/মো.আ.
পরিবেশ দূষণের অভিযানে যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়ন এলাকায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির অবৈধ চুল্লির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগমের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে সিদ্ধিপাশা এলাকার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা একাধিক অবৈধ কয়লার চুল্লির বিরুদ্ধে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় কয়েকটি চুল্লি ভেঙে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যতে পুনরায় এ ধরনের কার্যক্রম চালানো হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এসব চুল্লিতে নির্বিচারে বনজ ও ফলজ গাছ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করা হচ্ছিল। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধিপাশা এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা ও বিভিন্ন শ্বাসযন্ত্রজনিত রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছিল।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়লা চুল্লির ধোঁয়ার কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে ছিলেন। প্রশাসনের অভিযানে তারা স্বস্তি প্রকাশ করলেও নিয়মিত নজরদারির দাবি জানান। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম বলেন, অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা এলাকায় অবৈধভাবে কয়লা তৈরির কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের দায়ে আজ কয়েকটি অবৈধ কয়লার চুল্লি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ পুনরায় এ ধরনের কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।ভোরের আকাশ/আ.ব
দিনাজপুরে হাড়কাঁপানো শীতে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই তার উত্তাপ লেগেছে আলুর বাজারে। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে জেলায় নতুন আলুর দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকছেন পুরাতন আলুর দিকে।গত দুই দিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের খুচরা বাজারে নতুন আলুর দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে বাজারে স্টারিস ৭ জাতের আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজিতে, যা দুই দিন আগেও ছিল মাত্র ১৫ টাকা। দেশি গোল আলু ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা এবং সাদা চল্লিশা ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে। সেখানে জাতভেদে নতুন আলু ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। অথচ এই একই সময়ে পুরাতন আলু স্থির রয়েছে মাত্র ১২ টাকা কেজিতে। বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে তিনটি প্রধান কারণ: দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, জেলাজুড়ে টানা ৭ দিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় শ্রমিকরা ক্ষেতে নামতে পারছেন না।প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশার কারণে আগাম জাতের আলু উত্তোলনের জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাজারে সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমেছে। উত্তোলিত আলুর একটি বড় অংশ সরাসরি ট্রাকে করে ঢাকায় চলে যাচ্ছে, ফলে স্থানীয় বাজারে হাহাকার দেখা দিচ্ছে।ঘুঘুডাঙ্গা কৃষক আফছার জানান, ক্ষেতে আমরা আলু সর্বোচ্চ ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। কিন্তু বাজারে গিয়ে তা দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। মাঝপথে হাতবদলেই দাম বাড়ছে, আমরা কৃষকরা লাভ পাচ্ছি না। নতুন আলুর দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের একমাত্র ভরসা এখন ১২ টাকা কেজির পুরাতন আলু। শহরের বাহাদুর বাজারে আসা ক্রেতা হুছেন আলী জানান, নতুন আলুর যে দাম, তাতে না কিনে ৬০ টাকা দিয়ে ৫ কেজি পুরাতন আলু নিলাম। এতে অন্তত কয়দিন চলা যাবে।পাইকারি ব্যবসায়ী আজগার আলী জানান, সরবরাহ কম থাকায় অনেক দোকানই বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বড় ব্যবসায়ীরা যা সংগ্রহ করছেন, তা ঢাকার চাহিদা মেটাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মেটাতে তাই পুরাতন আলুর ওপরই চাপ বাড়ছে।ভোরের আকাশ/আ.ব
গাইবান্ধার বোনারপাড়ায় ট্রেনের বগি থেকে মোজাহার আলী (৬০) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ।সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বোনারপাড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল উদ্দিন। এর আগে রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গাইবান্ধার বোনারপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের বগি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।নিহত মোজাহার আলী সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের মতরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল সর্দারের ছেলে।রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১০টার দিকে সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা কলেজ ট্রেন নামে ট্রেনটি গাইবান্ধার বোনারপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছিল। এসময় রেলওয়ের ঝাড়ুদাররা ট্রেনের শেষ বগিতে ওই ব্যক্তির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিক জানানো হলে বোনারপাড়া রেলওয়ে থানা পুলিশ ওই ট্রেন থেকে লাশটি উদ্ধার করে।এ বিষয়ে বোনারপাড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।ভোরের আকাশ/আ.ব
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় একটি রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় শ্রমিকবাহী একটি পিকআপ ভ্যানে থাকা তিন জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ছয়জন শ্রমিক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার সুতাসি নামক রেলক্রসিংয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্র জানায়, কালুখালী থেকে ছেড়ে আসা ভাটিয়াপাড়া গামী একটি লোকাল ট্রেন দুপুর আড়াইটার দিকে সুতাসি রেলক্রসিং অতিক্রম করছিল। ঠিক সেই সময় স্থানীয় ‘জনতা জুট মিল’-এর শ্রমিকবাহী পিকআপ ভ্যান ক্রসিং পার হওয়ার চেষ্টা করলে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। আহত ছয়জনকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ও আহত শ্রমিকদের বাড়ি ময়না ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে ঈদগাহ মানবিক ফাউন্ডেশন।সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের মধ্যম গজালিয়া হযরত আবু ওবাইদা (রা.) মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের হাতে খাতা, কলম, স্কেল, পেন্সিল বক্সসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ এবং একটি বোর্ড উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়।উপকরণ বিতরণ করেন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মনির আহমদ। এসময় তিনি বলেন, উপজেলায় শিক্ষার আলো প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।বিতরণকালে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ জোবাইর, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসতিহার হোসাইন ফাহিম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ রেজাউল কবির রাকিব, পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন ভুট্টু, জাফর আলমসহ মানবিক ফাউন্ডেশনের অন্যান্য প্রতিনিধি, শিক্ষক ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।ঈদগাহ মানবিক ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক মানবিক-সামাজিক সংগঠন, যা আধুনিক সমাজ গঠন ও আর্তমানবতার সেবায় সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ যেমন খাতা, কলম, পেন্সিল ও স্কুলব্যাগ নিয়মিত বিতরণ করে আসছে। ভোরের আকাশ/আ.ব
মাদারগঞ্জের বহুল আলোচিত সমবায় সমিতির গ্রাহকদের মাঝে আমানতকৃত টাকার বিনিময়ে জমির দলিল হাস্তান্তর করেন শতদল সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান।সমবার জেলা সমবায় সমিতির কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলিল হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান, সহকারী জেলা সমবায় কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, মাদারগঞ্জ বিএসসি টিচার্স ফ্রেন্ড এসোসিয়েশনের সভাপতি ইমামুর রশিদ বাবুল, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম ময়নাসহ এসোসিয়েশনের অন্যান্য সদস্যরা। এদিন মাদারগঞ্জ বিএসসি টিচার্স ফ্রেন্ডস এসোসিয়েশনের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম ময়না ৩০ লাখ টাকা মূল্যের পাঁচ শতাংশ এবং বজলুর রহমান নামে এক গ্রাহক ১৮ লাখ মূল্যে তিন শতাংশ জমির দলিল গ্রহণ করেন। গত ডিসেম্বর মাসের ১৯ তারিখে ৭২ লাখ টাকার জমির দলিল গ্রহণ করেন আট জন গ্রাহক।শতদলের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জানান আমাদের সমিতিতে মোট ২৫৭ কোটি টাকা আমানতের মধ্যে এ যাবৎ ৬৫ কোটি টাকা গ্রাহকদের মাঝে ফেরত দেয়া হয়েছে। সমিতির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমরা পর্যায়ক্রমে টাকা ফেরত দেই। তিনি বলেন আন্দোলন, মামলা, জেল, জুলুম এবং আমরা চরম হয়রানীর মধ্যে না থাকলে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে গত দুই বছরের মধ্যে আমরা গ্রাহকদের সমুদ্বয় টাকা ফেরত দিতে পারতাম।আমাদের কাছে গ্রাহকরা পাবেন ১৯২ কোটি টাকা আর আমাদের মোট সম্পদ আছে ১৯৪ কোটি টাকা। এখনো যদি গ্রাহক, আন্দোলনকারী এবং স্থানীয় প্রশাসন সহায়তা করে আগামী এক বছরের মধ্যে সব টাকা ফেরত দিতে পারবো। টাকা ফেরত পাওয়া ৩৭ জন গ্রাহকের পক্ষে রেজাউল করিম ময়না বলেন আমরা বিশ্বাস করি সহযোগিতা করলে সকল গ্রাহক টাকা ফেরত পাবেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গ্রাহক বলেন, স্থানীয় প্রশাসন এবং আন্দোলনকারী নেতৃবৃন্দ সাবরেজিস্ট্রি অফিসকে জমি বিক্রির ক্ষেত্রে সহযোগিতা করলে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রাহকরা টাকা ফেরত পাবেন।মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাকেরুজ্জামান বলেন মাদারগঞ্জ থানায় রক্ষিত শতদল সমবায় সমিতির এক কোটি টাকা এবং আল আকাবার ৫০ লাখ টাকা রক্ষিত আছে। সবাই সমঝোতায় আসলে টাকা ফেরত দেয়া হবে। আমরা আশা করি গ্রাহকরা মালিক পক্ষের সাথে সহযোগিতা করে টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করবেন। জেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান দলিল হস্তান্তর করতে গিয়ে বলেন আমরা মনে করি শতদলের মত অন্যান্য সমবায়ের মালিকরা গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নিবেন।ভোরের আকাশ/আ.ব
চলতি অর্থবছরের জন্য সরকারের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। মূল এডিপির তুলনায় এতে প্রায় ১৩ শতাংশ কাটছাঁট করা হয়েছে, যার ফলে মোট বরাদ্দ কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা। এই কাটছাঁটের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।সোমবার (১২ জানুয়ারি) শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংশোধিত এডিপিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত এডিপিতে সরকারি অর্থায়ন এবং বিদেশি ঋণ ও অনুদান—উভয় খাতেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। সরকারি অর্থায়নের অংশে বরাদ্দ কমেছে ১৬ হাজার কোটি টাকা, যা মূল বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ। অন্যদিকে বিদেশি ঋণ ও অনুদানের ক্ষেত্রে কাটছাঁট হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা, যা প্রায় ১৬ শতাংশের বেশি।ফলে সরকারি অর্থায়ন নেমে এসেছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকায়, আর বিদেশি ঋণ ও অনুদান কমে হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা।পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, সংশোধিত এডিপিতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর চাহিদাই ছিল তুলনামূলকভাবে কম। সংশোধনের সময় তারা মোট বরাদ্দ চেয়েছিল প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে চলতি অর্থবছরে প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি।অনেক প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প পরিচালক না থাকা, নতুন পরিচালক নিয়োগে বিলম্ব এবং বড় কয়েকটি প্রকল্প সরকারিভাবে পুনর্মূল্যায়নের আওতায় থাকা—এসব কারণে প্রকল্প ব্যয় কম চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছর নির্বাচন বছর হওয়ায় মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোও তুলনামূলকভাবে রক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।খাতভিত্তিক বরাদ্দের দিকে তাকালে দেখা যায়, সংশোধিত এডিপিতে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। এই খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। এর পরেই রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, যেখানে বরাদ্দ হয়েছে ২৬ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা।এছাড়া বাসস্থান ও কমিউনিটি সুবিধা, শিক্ষা এবং স্থানীয় সরকার ও গ্রামীণ উন্নয়ন খাতও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ পেয়েছে।তবে সংশোধিত এডিপিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে স্বাস্থ্যখাত। দুর্বল বাস্তবায়ন সক্ষমতার কারণে এই খাতে বরাদ্দ প্রায় ৭৪ শতাংশ কমানো হয়েছে। মূল এডিপিতে যেখানে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা, সেখানে সংশোধনের পর তা নেমে এসেছে মাত্র ৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকায়। শিক্ষা খাতেও বড় ধরনের কাটছাঁট হয়েছে। এই খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ।পরিবহন ও যোগাযোগ খাত মূল এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেলেও সংশোধিত এডিপিতে এখানেও প্রায় ৩৫ শতাংশ অর্থ কমানো হয়েছে। একইভাবে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ কমে এসেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এই খাতে মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ১৮ কোটি টাকা, যা সংশোধনের পর কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৪৫ কোটি টাকায়।বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ, আর কৃষি খাতে কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে উঠে এসেছে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ খাত। সংশোধিত এডিপিতে এই খাতে বরাদ্দ প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এই বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৭ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা, যদিও এটি মূল এডিপির তুলনায় কিছুটা কম। এরপর রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ পেয়েছে।সংশোধিত এডিপিতে বিশেষ উন্নয়ন সহায়তার জন্যও আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনগুলোর নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো যুক্ত করলে সংশোধিত এডিপির মোট আকার দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা।এই সংশোধিত এডিপিতে মোট ১ হাজার ৩৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্পের সংখ্যাই বেশি। পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে এসব প্রকল্পের মধ্য থেকে ২৮৬টি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।ভোরের আকাশ/মো.আ.
আইপিএল ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন। একইভাবে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়ী কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে বলেও জানান তিনি।রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে নতুন আমদানি নীতি আদেশ সংক্রান্ত এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, সামগ্রিকভাবে আমরা উদার বাণিজ্যে বিশ্বাসী। সব দেশের সঙ্গে আমাদের সেভাবেই বাণিজ্য কার্যক্রম চালু রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত না হয়, সে পর্যন্ত আমরা সুনির্দিষ্ট কোনো দ্বিপক্ষীয় সিদ্ধান্ত নিই না।তবে তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে আমাদের বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, এটার কোনো প্রভাব এসেছে কি না সেটা দেখছি।এসময় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, দৈনন্দিন ঘটনাগুলো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে তেমন প্রভাব ফেলে না। তবে, গত মে মাসে ভারত বিভিন্ন স্থলবন্দর বন্ধ করে দেওয়ায় বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে আমাদের রপ্তানি কমেছে। কিন্তু আমরা সে ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নিইনি।তিনি বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ও জোগান ঠিক রাখার জন্য ভারতে পাট রপ্তানি বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্য দেশের ক্ষতি করার জন্য কিছু করা হয়নি।বাণিজ্য সচিব বলেন, আমাদের নীতিগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে নেওয়া। আরেকটি দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য কখনও করা হয়নি।ভোরের আকাশ/এসএইচ
বেনাপোল কাস্টমস হাউসে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে লক্ষমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা। বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং মিথ্যা ঘোষনায় রাজস্ব ফাঁকি বাড়ায় এ পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে বলছেন বাণিজ্য সংশিষ্টরা। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বছর শেষে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্র অর্জিত হওয়ার সম্ভবনা ব্যক্ত করেছেন।বেনাপোল আমদানি,রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, দেশের চলমান ১৪ টি বন্দরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি,রফতানি হয়ে থাকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। প্রতি অর্থবছর শুরুতেই আমদানি পণ্য থেকে নিদিষ্ট পরিমানে রাজস্ব আয়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বেনাপোল কাস্টম হাউসকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা দেয় ৮ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা ।আর অর্থবছরটির প্রথম ৬ মাসে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) এই এই লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। তবে ৬ মাসে মাত্র আদায় হয়েছে ৩ হাজার ১২০ দশমিক ০৫ কোটি টাকা। প্রথম ছয় মাসে দেখা গেছে লক্ষমাত্রার চেয়ে ঘাটতি হয়েছে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা।আমদানিকারক হাবিবুর রহমান জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি রাজস্ব আঢ হবার কথা। তবর ০৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাণিজ্যর নিরাপত্তা ঘাটতির সুযোগে আমদানি পণ্য পাচার করে শুল্কফাঁকি এবং আমদানি বাণিজ্য বেশ কিছু পণ্যের উপর নিষেধাজ্ঞায় রাজস্ব ঘাটতির কবলে পড়ে কাস্টমস হাউস।বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী সংঠনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, বৈধ সুবিধা না পেয়ে বেনাপোল বন্দর ব্যবহার কমিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ীরা। এছাড়া বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কারনেও আমদানি কমেছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দ্রুত পণ্য খালাস ও বৈধ সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হলে এপথে আমদানির ও রাজস্ব আয় বাড়বে।বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক শহীদ আলী জানান, বন্দরে আমদানি কমায় বেকার হয়ে পড়েছে শ্রমিকরা। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে দুই দেশের সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আজিম উদ্দীন বলেন, বন্দরে আমরাও নিরাপত্তা চাই। তবে নিরাপত্তার নামে দির্ঘক্ষন ধরে ট্রাক আটকে তল্লাশীতে এপথে ব্যবসায়ীরা আমদানি কমিয়েছেন। যতি ভারতের মত বেনাপোল বন্দরে পণ্য প্রবেশ দ্বারে স্কানিং মেশিন থাকে তবে হয়রানি কুমবে।বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারি কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, বেনাপোল কাস্টমস হাউজে ২০২৫- ২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেন ৫০৮ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৫৪৪:০৪ কোটি টাকা। আগস্ট মাসের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৪৯৩ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৪৪৭'৯৩ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০১ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৫১৩' ৫৮ কোটি টাকা। অক্টোবর মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৪৫ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৪৪৯.২৮ কোটি টাকা। নভেম্বর মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫৫ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৫৬৪.৪১ কোটি টাকা। অথ্যাৎ ডিসেম্বর মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১৩১ কোটি টাকা। এ মাসে আদায় হয়েছে মাত্র ৬০০. ৮১ কোটি টাকা। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে প্রথম ৬ মাসে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। এই ছয় মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ হাজার ১২০ দশমিক ০৫ কোটি টাকা। যারা শুল্কফাঁকির সাথে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে জরিমানাসহ কাস্টমস আইনে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। প্রথম ৬ মাসে রাজস্ব কুমলে ও বছর শেষে লক্ষমাত্রা পুরণ হতে আশা করছি।বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন জানান, সবশেষ ১০ জানুয়ারি বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ২৫৬ মাত্র ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য এবং রফতানির পরিমান ছিল ৮০ ট্রাক। অথচ স্বাভাবিক সময়ে আমদানি হতো ৬ থেকে ৭০০ ট্রাক পণ্য এবং রফতানি ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক। বাণিজ্যে নিরাপত্তা বাড়াতে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারনে অনেকের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।ভোরের আকাশ/মো.আ.
আইপিএল থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেট সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই সিদ্ধান্তের পর দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে সফর না করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সিদ্ধান্তটি নিয়ে দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।এ ঘটনায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টা প্রকাশ্যে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে এটিকে বাংলাদেশের ক্রীড়া মর্যাদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করেছেন।বিএনপি মহাসচিব মনে করেন, মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার মাধ্যমে অপমান করা হয়েছে। আর তাকে অপমান করা বাংলাদেশকে অপমান করার সামিল বলেই মনে করেন তিনি। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথেমতবিনিময়কালে এসব মন্তব্য করেন তিনি।মির্জা ফখরুলের ভাষ্য, ‘ক্রিকেটের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক রাজনীতি জড়িত আছে, দেশের সম্মান জড়িত আছে। নিঃসন্দেহে আমাদেরএকজন ক্রিকেটারকে (মুস্তাফিজ) অপমান করা হয়েছে। আমরা মনে করি এটা আমাদের দেশকে অপমান করা। ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তের (ভারতে খেলতে না যাওয়া) সাথে আমরা একমত। তবে এটাও মনে করি যে, ছোট ছোট বিষয়গুলো নিয়েও আমাদের একমত হওয়া উচিত।’বাংলাদেশ চায় বিপিএলের ভেন্যু পরিবর্তন করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আরেক আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় খেলতে। বিষয়টি নিয়ে আইসিসিকে চিঠিতে জানিয়েছে বিসিবি। আজ সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যে চিঠির জবাব দেয়ার কথা আইসিসির।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কারফিউ দিয়ে গণহত্যায় উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।সোমবার (১২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন-বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।রাষ্ট্রপক্ষ-আসামিপক্ষের শুনানি শেষে এ বিষয়ে আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। ৬ জানুয়ারি সালমান ও আনিসুলের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। শুনানিতে নিজের ক্লায়েন্টদের নির্দোষ বলে দাবি করেন তিনি। চার্জ গঠন না করার জন্য নানা যুক্তিও তুলে ধরেন আসামিপক্ষ।এছাড়া প্রসিকিউশনের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে শোনানো ফোনালাপটি সালমান-আনিসুলের নয় বলে অস্বীকার করেন মুনসুরুল হক। বিদেশি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে ভয়েস রেকর্ডটি পরীক্ষা করার আবেদনও করা হয়। ৪ জানুয়ারি করা আবেদনটি নাকচ করে দেন আদাল।সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রয়েছে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি-প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্র। তাদের ধারাবাহিক এসব কর্মকাণ্ডে মিরপুর-১, ২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ আওয়ামী লীগের সশস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বহু ছাত্র-জনতা। কিন্তু নির্যাতন বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি তারা।এ ছাড়া চব্বিশের জুলাই আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতেন সালমান ও আনিসুল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ জুলাই (২০২৪ সাল) ফোনে কথা বলেন তারা। তাদের কথোপকথনের একপর্যায়ে শোনা যায় ‘ওদের শেষ করে’ দেওয়া হবে। অর্থাৎ আজ রাতেই কারফিউ জারির মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের শেষ করে দিতে হবে বলে জানান সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।গত ২২ ডিসেম্বর শুনানির সময় তাদের কথোপকথনের সেই অডিও রেকর্ডসহ এসব অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের সামনে আনেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। একইসঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আর্জি জানানো হয়। গত ৪ ডিসেম্বর অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১। একই দিন সকালে ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।ভোরের আকাশ/মো.আ.
শীত এলেই ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায়। উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়। চামড়ায় টান ধরে। এই শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় সঠিক সমাধান দরকার হয়। প্রয়োজন পড়ে ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়ার। তাই সঠিক ময়শ্চারাইজার, ক্রিম, টোনার বেছে নেওয়া জরুরি।কিন্তু শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় কোন ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করবেন, তাতে কী কী উপাদান থাকবে, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। ভুল প্রসাধনী ব্যবহারে ত্বক আরও খসখসে হয়ে উঠতে পারে।শুষ্ক ত্বকের যত্নে কেন প্রসাধনী ব্যবহার করা জরুরিশীতকালে ত্বক যতই শুষ্ক হয়ে যাক, নিয়মিত পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিদিন ক্লিনজার বা ফেসওয়াশ ব্যবহার করা আবশ্যক।টোনার ত্বকের উপরে জমে থাকা মৃত কোষ সরিয়ে দেয় এবং ত্বকের পিএইচ স্তরের ভারসাম্য বজায় রাখে। তাই স্কিন কেয়ার রুটিনে টোনার রাখা জরুরি।যদি ত্বক বেশি শুষ্ক হয়, সিরাম ব্যবহার করুন। এটি ত্বককে গভীরভাবে পুষ্টি দেয়। আর শীতের দিনে ত্বককে উজ্জ্বল ও নরম রাখার জন্য ময়শ্চারাইজার ছাড়া উপায় নেই। রোদে বের হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন, যাতে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ত্বককে আরও শুষ্ক না করে দেয়।শুষ্ক ত্বকের জন্য প্রসাধনীতে থাকা উচিত গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো হলো-১. হায়ালুরোনিক অ্যাসিডএই উপাদান ত্বককে গভীরভাবে ময়েশ্চারাইজ করতে সাহায্য করে। তাই হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত ক্লিনজার ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ সিরামও শীতকালে ত্বককে উজ্জ্বল ও নরম রাখতে সাহায্য করে।২. শিয়া বাটারত্বকের শুষ্ক ভাব এড়াতে শিয়া বাটার ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ত্বককে দীর্ঘক্ষণ আর্দ্র রাখে এবং নরম ও কোমল রাখে। ময়েশ্চারাইজার বা বডি লোশন কেনার সময় যাচাই করুন যে পণ্যের মধ্যে শিয়া বাটার রয়েছে কি না, যাতে শীতের দিনে ত্বক সুস্থ ও সতেজ থাকে।৩. গ্লিসারিনগ্লিসারিন শুষ্ক ত্বকের যত্নে অত্যন্ত কার্যকর। এটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে আর্দ্রতা যোগ করে এবং ত্বককে কোমল রাখে। তাই ফেসওয়াশ বা ময়েশ্চারাইজার বাছাই করার সময় নিশ্চিত করুন এতে গ্লিসারিন রয়েছে। এছাড়া শুষ্ক ত্বকের যত্ন আরও বাড়াতে সিরামাইড, ভিটামিন ই, এবং অ্যালোভেরা জেল জাতীয় উপাদানও ব্যবহার করতে পারেন, যা ত্বককে পুষ্টি এবং সুরক্ষা প্রদান করবে।প্রসাধনীতে এড়িয়ে চলতে হবে যে উপাদানশুষ্ক বা সংবেদনশীল ত্বকের জন্য কিছু উপাদান থেকে দূরে থাকা জরুরি। যেসব প্রসাধনীর মধ্যে অ্যালকোহল, স্যালিসিলিক অ্যাসিড, প্যারাবেন, বা সালফেট থাকে, সেগুলো ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। এই ধরনের উপাদান ত্বককে আরও শুষ্ক ও সংবেদনশীল করে তোলে। যদি কোনো উপাদান থেকে অ্যালার্জি বা ফুসকুড়ি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, পণ্যটি ব্যবহার করার আগে বাহুতে বা কানের পিছনে ২৪ ঘন্টা প্যাচ টেস্ট করুন। চুলকানি, লালভাব বা জ্বালা দেখা দিলে সেই পণ্য ব্যবহার করবেন না। গুরুতর অ্যালার্জির ক্ষেত্রে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।ভোরের আকাশ/তা.কা
ইরানে সরকারের বিরুদ্ধে কিছুদিন ধরে সহিংস বিক্ষোভের পর এবার দেশের বিভিন্ন শহরে সরকারের পক্ষে রাজপথে নেমেছে লাখো মানুষ।সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ খামেনীর নেতৃত্বাধীন সরকারের সমর্থনে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিপুল জনসমাগম হয়েছে।কেরমান ও জাহেদানসহ বিভিন্ন শহরের বিক্ষোভে মানুষকে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনীর ছবি বহন করতে দেখা যায়। তাদের হাতে ছিল পবিত্র কোরআন এবং জাতীয় পতাকা।রাষ্ট্রীয় প্রেস টিভি জানিয়েছে, কেরমানের রাস্তায় মিছিলরত জনতা ‘আমেরিকার পতন’ কামনা করে স্লোগান দিচ্ছিল।সরকারি সংস্থাগুলো সোমবার দেশজুড়ে শাসকগোষ্ঠীর সমর্থনে মিছিলের ডাক দেয়। অর্থনৈতিক সংকটসহ বিভিন্ন কারণে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়।পূর্বাঞ্চলীয় শহর বিরজান্দে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির ফুটেজে জনতাকে ‘আমাদের জাতি জেগে উঠেছে এবং দাঙ্গাবাজদের ঘৃণা করে’ ও ‘আমরা বিপ্লবী সৈনিক, আমরা ফেতনাবাজদের ঘৃণা করি’—এমন স্লোগান দিতে শোনা যায়।ফার্স বার্তা সংস্থার বরাতে জানানো হয়, মধ্য ইরানের শহর আরাকে মাইক্রোফোনে একজন বক্তা জনতাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘সবারই সমস্যা আছে, কিন্তু তারা বিদেশিদের হাতে নিজের ভাগ্যের সিদ্ধান্ত তুলে দেয় না। তারা আমেরিকা ও ইসরায়েলের হাতে দাবার চাল তুলে দেয় না।’সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণেএদিকে ইরান সরকার বলছে, তারা বিদেশি মদদপুষ্ট বিক্ষোভ ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ এনেছে। এজন্য দ্রুতই ইন্টারনেট চালু হয়ে যাবে।সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, দেশজুড়ে বিক্ষোভে রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের পর এখন ‘পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে’।তিনি বলেন, বিক্ষোভগুলো ‘সহিংস ও রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের জন্য একটি অজুহাত তৈরি করা যায়’।ইরানকে জবাব দিতে ‘কঠোর উপায়’ বিবেচনা করছেন ট্রাম্পঅন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অভিযানের জবাবে ওয়াশিংটন ‘শক্তিশালী উপায়গুলো’ বিবেচনা করছে, যার মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপও রয়েছে।রোববার (১১ জানুয়ারি) গভীর রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সামরিক বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে, আর আমরা কিছু অত্যন্ত শক্তিশালী বিকল্প বিবেচনা করছি।আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব। তিনি আরও বলেন, “সামরিক পদক্ষেপের হুমকির পর ইরানের নেতৃত্ব ‘আলোচনার জন্য’ যোগাযোগ করেছে এবং একটি ‘বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে’। কিন্তু বৈঠকের আগেই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।”ভোরের আকাশ/মো.আ.
১২ ঘণ্টা আগে