পবিত্র রমজান মাসজুড়ে নামাজে বাইরে লাউডস্পিকার ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা পুনরায় নিশ্চিত করেছে সৌদি আরব।ইসলামবিষয়ক, দাওয়াহ ও নির্দেশনা মন্ত্রী শেখ আবদুল লতিফ আল শেখ জানিয়েছেন, রোজার মাসে মসজিদগুলোতে বাহ্যিক স্পিকারের মাধ্যমে নামাজ সম্প্রচার করা যাবে না।তিনি বলেন, বাইরের লাউডস্পিকারের ব্যবহার কেবল আজান ও ইকামার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। রমজান সামনে রেখে মসজিদ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসলামবিষয়ক মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার একটি পরিপত্র জারি করে।এতে রমজান মাসে মসজিদ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রে উম্ম আল-কুরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সরকারি নামাজের সময়সূচি কঠোরভাবে অনুসরণ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।এর মধ্যে এশার নামাজের নির্ধারিত সময় মানা এবং প্রতিটি নামাজে আজান ও ইকামার মধ্যবর্তী নির্ধারিত বিরতি বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে।মন্ত্রণালয় জানায়, ইফতার আয়োজন কেবল নির্ধারিত আঙিনা বা খোলা জায়গায় করতে হবে। একই সঙ্গে মসজিদের প্রয়োজন অনুযায়ী পানির দান ব্যবস্থাপনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত মজুত না হয়।এ ছাড়া মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরো তৎপর হতে বলা হয়েছে। বিশেষভাবে নারীদের নামাজের স্থানগুলোর প্রতি বাড়তি নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো রমজান মাসে মুসল্লিদের জন্য একটি শান্ত, সুশৃঙ্খল ও আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ পরিবেশ নিশ্চিত করা, পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখা।ভোরের আকাশ/নি. ব
১০ ঘন্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে। এবিসি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) এই ঘোষণা দেওয়া হয়।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের এক বছর পরে এই প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষ হলো।যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) এবং পররাষ্ট্র দপ্তর যৌথভাবে এ সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ করেছে।বৃহস্পতিবার এইচএইচএসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিজেদের মূল লক্ষ্য থেকে সরে গেছে। তারা একাধিকবার মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করেছে।কোভিড মহামারীর সময় ডব্লিউএইচওর ভূমিকা নিয়েই মূল সমালোচনা ট্রাম্প প্রশাসনের। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ডব্লিউএইচও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে দেরি করেছে।তারা এটাও বলছে, মহামারীর শুরুর দিকে কিছু দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বন্ধ করার যে সিদ্ধান্ত ট্রাম্প নিয়েছিলেন, ডব্লিউএইচও ‘অন্যায়ভাবে’ সেটার সমালোচনা করেছে।অন্যান্য যুক্তি হিসেবে এইচএইচএস বলছে, ডব্লিউএইচওতে চীনের মতো কিছু দেশের অর্থনৈতিক অবদান যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কম। তারপরও ডব্লিউএইচওতে কখনো কোনো মার্কিন নাগরিক মহাপরিচালকের পদ পাননি।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ডব্লিউএইচও থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের সমালোচনা করেছেন।তাদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশটি স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বে।‘ইনফেকশাস ডিজিজেস সোসাইটি অব আমেরিকার’ প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড নাহাস এবিসি নিউজকে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটি ভুল। এটি দূরদর্শিতার অভাবও। এই সিদ্ধান্ত আমাদের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার শামিল।তিনি বলেন, জীবাণু সীমান্ত মানে না, তাই নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষায় বৈশ্বিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ অত্যন্ত জরুরি। ভোরের আকাশ/এনএস
১৫ ঘন্টা আগে
ভারতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। কারাগারের ভেতরে থাকা দুজন দুর্ধর্ষ খুনি তাদের প্রেমের সম্পর্ককে এবার বৈবাহিক পরিণতিতে নিয়ে যেতে চলেছেন। কনে প্রিয়া শেঠ বর্তমানে ডেটিং অ্যাপে পরিচয়ের পর এক যুবককে হত্যার দায়ে শাস্তি ভোগ করছেন। বর হনুমান প্রসাদ খুনের দায়ে স্বামী-সন্তানসহ পাঁচজনকে হত্যা করার অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত।কারাগারে ছয় মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক রাখার পর তারা এবার বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন। রাজস্থান হাইকোর্ট তাদের বিয়ের জন্য ১৫ দিনের জামিন দিয়েছে।শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজস্থানের আলওয়ার জেলার বড়োদামেভ এলাকায় এই বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিষয়টি প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়া টুডে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেশায় একজন মডেল ছিলেন প্রিয়া শেঠ। ডেটিং অ্যাপে পরিচয়ের পর দুষ্যন্ত শর্মা নামে এক যুবককে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি। বর্তমানে তিনি সাঙ্গানের ওপেন জেলে সাজা ভোগ করছেন। ছয় মাস আগে একই কারাগারে তার সঙ্গে পরিচয় হয় হনুমান প্রসাদের। সেখানেই দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।প্রিয়া শেঠের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলাটি ২০১৮ সালের। ২০১৮ সালের ২ মে তিনি তার প্রেমিক দীক্ষান্ত কামরা এবং আরেক সহযোগীর সহায়তায় দুষ্যন্ত শর্মাকে হত্যা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুষ্যন্তকে অপহরণ করে তার বাবার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা এবং সেই অর্থ দিয়ে কামরার ঋণ পরিশোধ করার কথা ছিল।পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রিয়া ডেটিং অ্যাপ টিন্ডারে বন্ধুত্ব গড়ে দুষ্যন্তকে বাজাজ নগরের একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নেন। এরপর তার বাবার কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দুষ্যন্তের বাবা ৩ লাখ টাকা জোগাড় করে পাঠান। তবে, প্রিয়া ও তার প্রেমিক কামরার আশঙ্কা ছিল দুষ্যন্তকে ছেড়ে দিলে তিনি পুলিশে খবর দিতে পারেন।এই ভয় থেকে প্রিয়া, কামরা ও তাদের বন্ধু লক্ষ্য ওয়ালিয়া দুষ্যন্তকে হত্যা করেন। পরে তার মরদেহ একটি স্যুটকেসে ভরে আমের পাহাড় এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়। পরিচয় গোপন রাখতে তার মুখে একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয় এবং প্রমাণ নষ্ট করতে ফ্ল্যাট পরিষ্কার করা হয়।পরদিন ৩ মে রাতে আমের পাহাড় থেকে দুষ্যন্তের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ প্রিয়া শেঠ, দীক্ষান্ত কামরা ও লক্ষ্য ওয়ালিয়াকে ওই ফ্ল্যাট থেকেই গ্রেপ্তার করে।এদিকে বর হনুমান প্রসাদ কারাদণ্ড ভোগ করছেন তার প্রেমিকার স্বামী ও সন্তানদের হত্যার দায়ে। বয়সে ১০ বছর বড় তার প্রেমিকার নাম সন্তোষ, যিনি আলওয়ারের একজন তায়কোয়ানডো খেলোয়াড় ছিলেন।২০১৭ সালের ২ অক্টোবর রাতে স্বামী ও সন্তানদের হত্যার জন্য হুনুমানকে নিজ বাড়িতে ডেকে আনেন সন্তোষ। হনুমান প্রসাদ তার এক সহযোগীকে নিয়ে সেখানে যান এবং ছুরি দিয়ে সন্তোষের স্বামী বনওয়ারি লালকে হত্যা করেন।এই সময় সন্তোষের তিন সন্তান এবং বাড়িতে থাকা এক ভাগ্নে ঘুম থেকে জেগে পুরো ঘটনা দেখে ফেলে। ধরা পড়ার আশঙ্কায় সন্তোষের নির্দেশে তার তিন সন্তান ও ভাগ্নেকেও হত্যা করা হয়।সেই রাতে এক ব্যক্তি ও চার শিশুসহ মোট পাঁচজনকে হত্যা করা হয়। আলওয়ারের ইতিহাসে এটি ছিল অন্যতম ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড, যা পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। ভোরের আকাশ/এনএস
১৫ ঘন্টা আগে
‘বাংলাদেশি’ বলে তকমা দিয়ে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশে এক বাঙালি মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওই শ্রমিকের নাম মনজুর আলম লস্কর। ৩২ বছর বয়সী এই যুবক পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা।গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলু এলাকায় তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া বলছে, নিহত মনজুর আলম লস্কর উস্থি থানার অন্তর্গত রাঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবার জানিয়েছে, তিনি প্রায় এক দশক ধরে কোমারোলু এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। দীর্ঘদিন সেখানে থাকার পরও তাকে বারবার ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে এলাকা ছাড়তে হুমকি দেয়া হচ্ছিল। পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে তাকে অপহরণ করা হয় এবং ২৫ হাজার রুপি মুক্তিপণ দাবি করা হয়।এরপর গত মঙ্গলবার মনজুরের স্ত্রীর কাছে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। স্বামীর প্রাণের আশঙ্কায় পরিবার কোনোভাবে ৬ হাজার রুপি জোগাড় করে অনলাইনে পাঠায়। কিন্তু বুধবার রাতে পরিবারকে জানানো হয়, মনজুরকে হত্যা করা হয়েছে।মনজুরের বড় ভাই গিয়াসউদ্দিন লস্কর পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও রাঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত এবং হিন্দুত্ববাদী উগ্রবাদী দুষ্কৃতিকারীরাই এটি ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, ‘যে অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করেছিল এবং তার সহযোগীরাই আমার ভাইকে খুন করেছে।’সংবাদমাধ্যম বলছে, হত্যাকাণ্ডের আগে প্রথমে মনজুরকে ‘বাংলাদেশি’ বলে তকমা দেয়া হয় এবং পরে একটি চুরির মামলায় ফাঁসিয়ে মারধর করে হত্যা করা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা পরে জানতে পারেন। পরিবারের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অবিলম্বে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে বর্তমানে টিডিপি-জেএসপি-বিজেপি জোট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে।গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও রহস্যজনক মৃত্যুর ধারাবাহিক ঘটনার মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটল। উস্থির তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব একে বিজেপি বা তাদের মিত্র দল পরিচালিত রাজ্যগুলোতে সংখ্যালঘু বাঙালি ভাষাভাষীদের চলাচল ঠেকাতে পরিকল্পিত সন্ত্রাস বলে দাবি করেছে।তৃণমূল কংগ্রেস এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। আর কত মায়ের সন্তান প্রাণ হারালে তাদের টনক নড়বে? এই নিষ্ঠুরতা ক্ষমার অযোগ্য।’ভোরের আকাশ/মো.আ.
১৭ ঘন্টা আগে