হৃদয়ের ক্যানভাসে তিন রূপমালা: প্রকৃতি, প্রেম ও প্রতিবাদ

জীবনের নানা অনুভূতি—প্রকৃতির সৌন্দর্য, মানুষের ভালোবাসা, যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের বেদনা এবং আশার আলো—এসবেরই কাব্যিক প্রকাশ ঘটেছে এই কবিতাগুলোতে। শব্দের মায়াজালে মানবতা, অনুভূতি ও জীবনের বহুমাত্রিক রূপ তুলে ধরার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস।
কবিতার চাষবাস
আমাদের পরিচয় বালুচরে
ঘর-গৃহস্থালি কাজে লাগাতে শুকনো
সবুজ তরুলতা কোমল ফুল ফলে
নিপীড়িত মানুষের
দীর্ঘশ্বাস।
এতটুকু ভালোবাসা হৃদয়ের উচ্ছ্বাস
মনের মাঝে মনোরম বেড়ে ওঠা
আবেগের কাব্য লিখলে দোষ কী।
নীলিমার কিছুটা উদারতা ঢেলে নিলে
কার কী বয়ে যায়?
বেদনার মর্মমূলে
উপমা উৎপ্রেক্ষা অনু্প্রাসে
ছন্দের মায়াজালে জড়িয়ে
আঘাতে ক্ষতবিক্ষত তনুমনে
সীমানা ছাড়িয়ে গেলে ক্ষতি কার
টুপটাপ রহমতে ঝরে যদি কবিতার চাষবাস।
ফিলিস্তিনে বেদনার দীর্ঘশ্বাস
নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার লাখো এতিম শিশু,
তাদের দুঃখ বোঝার আজকে নেই যে কেউ।
অনাহারে কাঁদে তারা, পায় না স্নেহ-আদর,
বুকের ভেতর বয়ে চলে শুধুই কষ্টের ঢেউ।
তাদেরও তো ছিল বাবা, ছিল প্রিয় মা,
বটের ছায়ার মতো আগলে রাখত বুক।
বোমার আঘাতে আজ সবই হলো শেষ,
নিমেষেই হারিয়ে গেল আপন সব মুখ।
এখন তারা বড় একা, বড্ড অসহায় যেন
ধুলোবালি মাখা গায়ে শুধুই ছেঁড়া চাদর।
খাবারের খোঁজে ঘোরে ধ্বংসস্তূপের মাঝে,
কেউ ভালোবেসে করে না একটু আদর।
রাত কেটে ভোর হয়, ফোটে না তো আলো,
কান্নায় ভারী হয় রক্তাক্ত আকাশ বাতাস।
কবে শেষ হবে করুণ এই নির্মম পরিহাস?
আজ শুধু ফিলিস্তিনে বেদনার দীর্ঘশ্বাস।
আঁধারে ফোটে ফুল
আকাশে পাখা মেলে
শত পাখি ওড়ে
পাসপোর্ট ভিসা ছাড়া
কত দেশ ঘোরে।
রাঙা ডানা স্থির
থাকে মহাশূন্যে
প্রকৃতির বহু রঙ
শোভা নৈপুণ্যে।
নদী ছোটে সাগরে
তীব্র তরঙ্গে
রুপালি ইলিশেরা
সাঁতারায় সঙ্গে।
নোনা পানি উড়ে গিয়ে
হয়ে যায় মিষ্টি
কালো মেঘ ঝর্ষায়
শুভ্র বিষ্টি।
সূর্য ডুবে গেলে
নেমে আসে সন্ধ্যা
আঁধারে ফোটে ফুল
রজনী গন্ধা।
ভোরের আকাশ/এনএ