বোয়িং কেনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বারোপ হয়নি: বাণিজ্য উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার সময় বাংলাদেশের ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, আলোচনা চলাকালীন এ বিষয়ে একবারও আলোচনা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজার সঙ্গে আলাপচারিতায় এই তথ্য জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা। গতকাল শুক্রবার (১ আগস্ট) গোলাম মোর্তোজা তার ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড পেজে ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে বাণিজ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তিতে দেশবিরোধী কোনো বিষয় নেই এবং চুক্তি হলে সম্মতির ভিত্তিতে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। যদিও শুল্কে কিছুটা ছাড় পেলেও আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। ৩৫ শতাংশ থেকে শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে, তবে এর ফলে দেশের প্রতিযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “২০ শতাংশ শুল্কারোপে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। চুক্তি থেকে কোনো ক্ষতিকর বিষয় নেই, ইনডিরেক্টলি যদি এমন কিছু থাকত, আমরা আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করেছি।”
তিনি আরও জানান, দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ দুই বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য আমদানির পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে দেশে খাদ্যপণ্য আমদানির পরিমাণ ১৫ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার। কম দামে কৃষিপণ্য আমদানি হলে ভোক্তাদের সুবিধা হবে এবং বাজার স্থিতিশীল থাকবে।
এছাড়া, বিমান সেক্টরে ২৫টি বোয়িং বিমানের কেনার বিষয়ে দেশটি তেমন আগ্রহ দেখায়নি বলেও জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, যাত্রী চাপের তুলনায় ২৫টি বিমান কোনো বড় ব্যাপার নয়। বিমান সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আইন ও বিধিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সক্ষমতা না বাড়লে নতুন উড়োজাহাজের কোনো কার্যকারিতা থাকবে না।
অতীতে বিমানের টিকিট নিয়ে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়, সেটি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
ভোরের আকাশ//হ.র