ডিএসই, বিএফআইইউ ও বিএসইসি’র যৌথ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

“স্থিতিশীল পুঁজিবাজার: অর্থ পাচার প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধ (AML/CFT) সংক্রান্ত আইনের পরিপালন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি” শীর্ষক একটি কর্মশালা আজ রাজধানীর নিকুঞ্জে অবস্থিত Dhaka Stock Exchange PLC-এর মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করে Bangladesh Financial Intelligence Unit (বিএফআইইউ), Bangladesh Securities and Exchange Commission (বিএসইসি) এবং Dhaka Stock Exchange PLC (ডিএসই)।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ডিএসই’র রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক ও ভারপ্রাপ্ত সিআরও মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূইয়া, এফসিএস। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএফআইইউ’র পরিচালক সৈয়দ কামরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএসইসি’র অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ ওহিদুল ইসলাম।
স্বাগত বক্তব্যে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় পুঁজিবাজার এখন অর্থপাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, সাইবারভিত্তিক আর্থিক অপরাধ, ইনসাইডার ট্রেডিং ও মার্কেট ম্যানিপুলেশনের মতো বহুমাত্রিক ঝুঁকির মুখোমুখি। এসব ঝুঁকি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও আর্থিক ব্যবস্থার সুশাসনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোঃ ওহিদুল ইসলাম বলেন, একটি স্বচ্ছ, সহনশীল ও আস্থানির্ভর পুঁজিবাজার গঠনে AML/CFT কাঠামোর কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, অবৈধ অর্থপ্রবাহ, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি বাজারের স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সামগ্রিক আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ কামরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের জন্য AML/CFT বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশাসনভিত্তিক পুঁজিবাজার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কর্মশালায় চারটি পৃথক ওয়ার্কিং সেশন পরিচালনা করেন বিএফআইইউ’র অতিরিক্ত পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন, বিএফআইইউ’র উপ-পরিচালক মেহেদী হাসান, বিএসইসি’র উপ-পরিচালক মোঃ রফিকুন্নবী এবং বিএফআইইউ’র যুগ্ম পরিচালক শাহ আলম কাজী।
কর্মশালায় পুঁজিবাজারে AML/CFT আইন পরিপালন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার, আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধ এবং বাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কার্যকর তদারকি ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি নিরাপদ, স্বচ্ছ ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তোলা সম্ভব।
ভোরের আকাশ/এনএস