শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

তেল সংকটে বিপাকে চাষী, চাষাবাদ ও আম উৎপাদন ব্যাহত

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেল সরবরাহের ঘাটতির কারণে চাষাবাদ ও আম উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি, সারের দাম বেশি এবং পানির স্তর নেমে যাওয়ায় খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার পর তেল সংকট যেন চাষীদের মরার উপর খাড়ার ঘা এর মতো অবস্থা হয়েছে। বিশেষ করে আম চাষীরা পড়েছেন তেল নিয়ে দুশ্চিন্তায়।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের ভরা মৌসুমে চাষীরা আম পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকার কথা।

কিন্তু সব কাজ ফেলে লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকতে হচ্ছে তেলের জন্য। একই অবস্থা বোরো ধান চাষীদেরও। যেখানে বিদ্যুৎ চালিত গভীর নলকূপ নাই সেসব এলাকায় বিশেষ করে খাল বা নদীর পাশের মাঠগুলোতে যারা ডিজেল চালিত স্যালোমেশিনের উপর নির্ভরশীল তারা পড়েছেন বিপাকে।
চাষীদের অভিযোগ ভ্যানের বড় বড় পাত্রে তেল দেয়া হলেও কৃষকরা পাম্পে গেলে ২ লিটার ডিজেল দেয়া হয়।

তিন বিঘা বোরো ধানে সেচ দিতে ২ লিটার ডিজেলে কিছুই হবে না। এসময় ধানে পর্যাপ্ত সেচ লাগে। তেলের অভাবে সেচ না দিলে ধানের ফলন ভালো হবে না। অন্যদিকে আমচাষীদের অভিযোগে তাদের দিনেই ১০/১২ লিটার জ্বালানি লাগলেও তারা আমের ভরা মৌসুমে মুকুল বাঁচাতে পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না।

জেলার শিবগঞ্জ পৌর এলাকার পিঠালীতলায় একটি আমবাগানে গিয়ে দেখা যায়, বালাই নাশক স্প্রে মেশিন নিয়ে ৩ জন শ্রমিক অলস বসে আছেন। আধা ঘণ্টা পর বাগান মালিক সোহেল রানা ২ টি পাত্রে নিয়ে এলেন ৬ লিটার ডিজেল। বাগানে এসে শ্যালো মেশিনে তেল ঢেলে দেয়ার পর কিছুটা আশ্বস্ত হলেন তিনি।

সোহেল রানার সাথে কথা বলে জানা যায়, তার নিজের ও কেনা ৮ টি বাগান আছে। বেশিরভাগ বাগান তিনি পাতায় কিনেছেন ৩ বছরের জন্য।

ইতোমধ্যেই ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগের পর এখন চিন্তা আম রক্ষা নিয়ে। মেঘলা আবহাওয়া এবং বৃষ্টির পর গাছে বালাইনাশক স্প্রে করতে তার প্রতিদিন ১০ লিটার তেল দরকার হলেও পাচ্ছেন মাত্র ৪/৫ লিটার করে। মাঝে মধ্যে পাম্পে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছেন না। আর খোলাবাজারে তেল পেলেও লিটার প্রতি দিতে হচ্ছে গড়ে ৪০ টাকা করে বেশি। ডিজেলের উচ্চমূল্য ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে আম বাগানে নিয়মিত স্প্রে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
পাশের বাগানে গিয়ে কথা হয় পিঠালিতলা গ্রামের নবাব আলীর সাথে। ক্ষোভের সাথে তিনি বললেন, তেল না পাওয়ায় তার বাগানটিতে তিন দিন ধরে স্প্রে করতে পারছেন না। বৃষ্টির পর আমের গুটি ও মুকুল রক্ষার জন্য বৃষ্টির পরদিনই বালাইনাশক স্প্রে করা দরকার ছিল। এত কষ্ট করে বাগান পরিচর্যা করে তাহলে লাভ কি?

পাশে থাকা অন্য এক চাষী বলেন, প্রয়োজনের সময় সার ও তেল সংকট। আমের দাম কম, আবার ওজনও দিতে হয় মনে ২০ কেজি বেশি। তাহলে আমচাষীরা কেন আম চাষ করবে?

আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। তেল সংকটের কারণে কিছু চাষী ব্যাটারি চালিত স্প্রে মেশিনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। আশেপাশের পাঁচটি বাগানে ১৫ হাজার টাকায় বানানো ব্যাটারি চালিত স্প্রে মেশিনের সাহায্যে আমগাছ গুলো বালাইনাশক স্প্রে করা হচ্ছে।

আমচাষী মনিরুল জানান, ভরা মৌসুমে আম রক্ষার জন্য তেল না পেয়ে বিকল্প হিসেবে ব্যাটারি দিয়ে একটি স্প্রে মেশিন তিনি তৈরী করে নিয়েছেন। মেশিনটি বানাতে তিন ঘণ্টা ব্যাকআপ দেয়ার মত ব্যাটারি দিয়ে বানাতে খরচ পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। এতে খরচ কম হলেও সময় এবং শ্রমিক খরচ বেশি হচ্ছে। সেই সাথে উঁচু গাছগুলোতে এই মেশিন দিয়ে স্প্রে করা যাচ্ছে না। দ্রুত চাঁপাইনবাবগঞ্জের জন্য বেশি তেল বরাদ্দের দাবী এ আম চাষীর।

শুধু আমচাষীরাই নয় বোরো ধানের চাষীরাও তেল সংকটের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সদর উপজেলার রুহুল বাঁধ এলাকার ধান চাষী মহিদুল ইসলাম জানান, নদী থেকে পানি তোলার জন্য শ্যালোমেশিনে ডিজেল দরকার। তেল ঠিক মত পাম্পে পাওয়া যায়না। লাইন ধরতে হয়। তারপরও চাহিদামত পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সেচ ব্যহত হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন পাম্পে ডিজেলের সংকট দেখা দেওয়ায় চলতি বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। পর্যাপ্ত পানি না পেলে বোরো ধানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় সেচ দিতে সমস্যায় পড়ছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ বলছে, সেচ যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পাশাপাশি কৃষকদের পানির অপচয় রোধে সচেতন করা হচ্ছে।

কৃষকেরা জানান, বোরো ধানের জন্য নিয়মিত সেচ প্রয়োজন। ধানের গোড়ায় প্রায় সবসময় পানি রাখতে হয় এবং একদিন পরপর সেচ দিতে হয়। কিন্তু পাম্পে গিয়ে পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় সেচ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কৃষকদের হিসাবে, এক বিঘা জমিতে বোরো ধান উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। সেখানে প্রতি বিঘায় ধান উৎপাদন হয় গড়ে ২৩ থেকে ২৫ মণ।

সদর উপজেলার বোরো চাষি হামিদুল ইসলাম বলেন, তেল পাম্পে গেলে এক লিটার থেকে সর্বোচ্চ দুই লিটার তেল দিচ্ছে। এর বেশি চাইলে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তেল পাওয়া না গেলে বোরো ধানে পর্যাপ্ত সেচ দিতে পারছি না। এসময় বোরো ধানে খুব পানির প্রয়োজন পড়ে।

জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সহ সাধারন সম্পাদক জহিরুল কাইয়ুম বাবর জানান, কোনো পাম্প মালিকই তেলের কৃত্রিম সংকট বা কালোবাজারির সাথে জড়িত নয়। সরবরাহ থাকা সাপেক্ষ তারা আন্তরিকতার সাথে তেল সরবরাহ করছেন।

যদি কোনো পাম্প মালিক কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে তেল কালোবাজারির সাথে জড়িত হয়, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে আম ও বোরো মৌসুম হওয়ায় এ জেলার জন্য তেল সরবরাহ বাড়ানোর দাবিও জানান এ পাম্প মালিক।

অন্যদিকে শিবগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আজম কনক জানান, কিছু এলাকায় খাল বা নদীর পানি তোলার জন্য ডিজেল চালিত শ্যালোমেশিনে এবং আমচাষীদের জন্য স্প্রে মেশিন চালাতে প্রচুর ডিজেল ও পেট্রোল দরকার। সম্প্রতি সিদ্ধান্ত হয়েছে চাষীদের স্বার্থে ও তাদের হয়রানি ও সময় বাঁচাতে কৃষি বিভাগে চাষীরা আসলে তাদের যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে তেলের জন্য কার্ড ইস্যু করা হবে। এসব কার্ড নিয়ে গেলে চাষীরা তাদের চাহিদামতো তেল পাবেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, জেলাজুড়ে ৩৭ হাজার ৫০৪ হেক্টর বাগানে আমের চাষ হচ্ছে এবং বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে ৩৫ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে।

ভোরের আকাশ/এনউব 

তেল সংকট

শেয়ার করুন: