২০২৬-২০২৭ অর্থবছর
আসছে ৯ লাখ কোটির বিশাল বাজেট

নতুন সরকারের প্রথম বাজেট। দেশের অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নতুন বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে সরকার। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে ৯ লাখ কোটি টাকা। আগামী ১১ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বাজেট পেশ করতে পারেন।
দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জাতীয় বাজেটে তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরতে যাচ্ছে। এর আগে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সবশেষ বাজেট দিয়েছিল দলটি।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এবারের বাজেটকে ‘ইতিহাসের সেরা বাজেট’ হিসেবে তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বাজেটের ঘাটতি পূরণে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বহিঃখাত থেকে অর্থায়নের ওপর জোর দিতে বলেছেন তিনি।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগের প্রতিফলন থাকবে আসছে বাজেটে। তবে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট বাজেট প্রণয়নে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সরকার সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমানো এবং ব্যাংক খাতের অচলাবস্থা কাটিয়ে গ্রাহকদের আস্থা ফেরানো হবে এই বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য। এ ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব কাটিয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ সামলানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী, এনবিআর চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রাজস্ব আয়ের আওতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি মানুষকে হয়রানি না করে করের জাল বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রসঙ্গে জানান, দেশের প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে বাজেটের আকার বাড়ানো অপরিহার্য। বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কর্মসংস্থান কমছে। সরকার বাজেটে এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে এবং ব্যবসাবাণিজ্য সহায়ক নীতি গ্রহণ করবে।
২০ এপ্রিল অর্থ বিভাগ থেকে বাজেট পরিপত্র-২ জারি করা হয়েছে। সেখানে তিন বছর মেয়াদি বাজেট পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। যদিও ৯ লাখ কোটি টাকার এই হিসাব এখনো চূড়ান্ত নয়, তবে এটি ৯ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ড. জাহিদ হোসেনের মতো অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা এবং আকাশচুম্বী জনপ্রত্যাশা পূরণ করা।
ভোরের আকাশ/আ.র