শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

পাচার ৪৪ কোটি টাকা উদ্ধার হলেও ভুক্তভোগীদের হাতে ফেরানোর প্রক্রিয়া জটিল

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

অনলাইনভিত্তিক বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জের (এমটিএফই) মাধ্যমে বিদেশে পাচার ৪৪ কোটি ১৪ লাখ ৬২ হাজার ৩০৩ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ– সিআইডি। ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে এই অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে উদ্ধার হলেও এই অর্থ ভুক্তভোগীদের হাতে ফেরানোর প্রক্রিয়া বেশ জটিল বলে জানিয়েছে সিআইডি।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সংস্থাটির সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদার বলেন, ‘এমটিএফই পঞ্জি স্কিমের’ প্রতারণার শিকার একজন ভুক্তভোগী ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট খিলগাঁও থানায় মামলা করেন। এজাহারে বাদী এমটিএফই অ্যাপে প্রলুব্ধ হয়ে প্রায় দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তবে সিআইডির তদন্তে দেখা যায়, তিনি ছাড়াও অসংখ্য বিনিয়োগকারী কোটি–কোটি টাকা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

ডিআইজি বলেন, মামলাটির তদন্তে জানা যায়, এমটিএফই দ্রুততম সময়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতো। ২০২২ সালের জুন থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এটি। তখন ঘরে বসে সহজে অর্থ উপার্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফেসবুক ও ইউটিউবে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়। ২০২৩ সালের শুরুতে প্ল্যাটফর্মটির দ্রুত পরিচিতি পায়। ব্যবহারকারীদের ভার্চুয়াল ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট দেওয়া হত, যেখানে জমা অর্থ ডিজিটাল ডলার হিসেবে দেখানো হত। তবে এটি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া বা অস্তিত্বহীন। লাভ–ক্ষতির তথ্য কৃত্রিমভাবে তৈরি করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করত তারা। অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের অর্থ এমটিএফই’র মূল ওয়ালেটে জমা করে সেখান থেকে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে ছড়িয়ে দেওয়া হত। এভাবে বাংলাদেশ থেকে বিপুল অর্থ পাচার হয়। এমটিএফই প্রাথমিকভাবে কিছু অর্থ পরিশোধ করে ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন করে। পরে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি তারা হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়।

সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থের একটি অংশ প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ‘একেএক্স’–এ সংরক্ষিত আছে বলে সিআইডির তদন্তে উঠে আসে। পরবর্তীতে ব্লকচেইন বিশ্লেষণ টুল ব্যবহার করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ওই অর্থ এমটিএফই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ বিষয়ে ওকেএক্স এক্সচেঞ্জের লিগ্যাল টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অর্থ ফেরত দিতে রাজি হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি বলেন, ‘ফিরিয়ে আনা টাকা সিআইডির অ্যাকাউন্টে রয়েছে। তবে তা গ্রাহকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া অনেক কঠিন। এখানে আইনের মারপ্যাঁচ আছে। আদালতের অনুমোদন লাগবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে। এই প্রক্রিয়া আসলেই জটিল।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এগুলো বিদেশি অ্যাপ। আমাদের দেশে তাদের কোনো এজেন্ট অবশ্যই আছে। যেদিন আমরা এজেন্ট ধরে ফেলতে পারব, সেদিন তো পুরো মামলারই রহস্যভেদ হবে।’

এমটিএফইতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। অনেকে লজ্জায় কাউকে কিছু বলেননি বা মামলা করেননি। স্বামী টাকা খুইয়ে স্ত্রীকে বলতে পারেননি, ছেলেমেয়েরা তাদের বাবা–মাকে জানায়নি। আবার অনেকেই জানেন না এ ধরনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কোথায় প্রতিকার পাওয়া যায়।’

ভোরের আকাশ/এনউব

পাচার ৪৪ কোটি টাকা

শেয়ার করুন: