সৌদি-যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে, কমেছে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা থেকে

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ এক বছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার। প্রধান বিদেশি শ্রমবাজারগুলোর বেশির ভাগ থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মালদ্বীপ ও মরিশাস থেকে রেমিট্যান্স কমেছে।
রেমিট্যান্সের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে সৌদি আরবের অবস্থান ধরে রেখেছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে ৪ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। দেশটি থেকে রেমিট্যান্স ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে রেমিট্যান্স ৪ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।
মালয়েশিয়া থেকে বেড়েছে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার থেকে ৩ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারে।
ইতালি ও ওমান থেকেও রেমিট্যান্স বেড়েছে। ইতালি থেকে ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার এবং ওমান থেকে ১ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।
কুয়েত থেকে রেমিট্যান্স ১ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার এবং কাতার থেকে ১ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সিঙ্গাপুর থেকেও রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
দেশটি থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯৯ কোটি ডলার এলেও পরের অর্থবছরে তা বেড়ে ১ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে রেমিট্যান্স ৪০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৬৭ কোটি ডলার হয়েছে।
ফ্রান্স থেকে রেমিট্যান্স ৩৪ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৪৭ কোটি ডলার এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ২০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২৬ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। গ্রিস থেকেও সামান্য বেড়ে ১৯ কোটি ডলার থেকে ২০ কোটি ডলার হয়েছে।
কমেছে চার দেশ থেকে
সামগ্রিকভাবে রেমিট্যান্স বাড়লেও চারটি দেশ থেকে এর প্রবাহ কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে ৪ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে ৩ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। অর্থাৎ এক বছরে কমেছে ১ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার বা ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
শতকরা হিসাবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স কমেছে মরিশাস থেকে। দেশটি থেকে রেমিট্যান্স ১৪ কোটি ডলার থেকে কমে ৮ কোটি ডলারে নেমেছে, যা ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ কম।
কানাডা থেকেও রেমিট্যান্স প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে ২২ কোটি ডলার এলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে ১১ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
মালদ্বীপ থেকে রেমিট্যান্স ১৪ কোটি ডলার থেকে কমে ১২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবাহ কমেছে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ।
জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই তথ্য জানিয়েছেন।
ভোরের আকাশ/ এনউব