গোপনে চিকিৎসা দিয়েছেন ইবনে সিনার চিকিৎসকরা : ট্রাইব্যুনালে চিকিৎসকের জবানবন্দি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া এক চিকিৎসকের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ অসংখ্য মানুষকে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে গোপনে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের নজরদারি ও বাধার কারণে আহতদের ভিন্ন নাম-ঠিকানা এবং ভিন্ন রোগের তথ্য উল্লেখ করে ভর্তি করা হতো।
বুধবার (২০ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে সাক্ষ্য দেন ডা. হাসানুল বান্না। তিনি ইবনে সিনা হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
ডা. বান্না জানান, “১৮, ১৯ ও ২০ জুলাই এবং ২ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আমরা অসংখ্য আহত ছাত্র-জনতাকে চিকিৎসা দিয়েছি। ১৮ জুলাই দুপুর থেকেই হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ রোগী আসতে শুরু করে। সন্ধ্যার পর পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মীরা হাসপাতালে এসে চিকিৎসায় বাধা দেয়। তারা আহতদের ভর্তি করতে নিষেধ করে এবং রেজিস্টার থেকে রোগীর তালিকা নিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, ১৯ জুলাই সকাল থেকে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কর্মীরা হাসপাতালের গেট অবরোধ করে রাখে। এতে রোগী ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। ওইদিন গুলিবিদ্ধ হন ইবনে সিনা হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট মিতুর স্বামী মোস্তাকিন বিল্লাহ। তাকে বিকল্প পথে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অ্যাম্বুলেন্স বের হতে না দেওয়ায় অন্য হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে ইবনে সিনা ধানমন্ডি শাখায় নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডা. বান্নার দাবি, “১৮ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আহতদের ভিন্ন নামে ও ভিন্ন রোগের তথ্য দিয়ে পোস্ট-অপারেটিভ, আইসিইউ ও বিশেষ কেবিনে লুকিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজ করেছেন।”
জবানবন্দিতে তিনি এসব ঘটনার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের নেতা এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়ী করেন। একই সঙ্গে তিনি ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এদিন ডা. বান্নার পাশাপাশি আরও তিনজন সাক্ষ্য দেন—ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহনাজ পারভীন এবং শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের মা সোনিয়া জামাল। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন সাক্ষীদের জেরা করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম। তাদের সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যান্য আইনজীবী।
ভোরের আকাশ//হ.র