শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় বৃহস্পতিবার

আগামীকাল বৃহস্পতিবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আলোচিত এই মামলার রায় প্রদান করবেন। ৩০ জন আসামির এই তালিকায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতারা রয়েছেন।
গত বছরের ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের বুক পেতে দাঁড়ানোর সেই অবিনাশী দৃশ্যটি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চূড়ান্ত স্ফুরণ ঘটিয়েছিল। সেই ঘটনার পর দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দীর্ঘ ৫ মাস ২০ দিনের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত ২৭ জানুয়ারি উভয় পক্ষের শুনানি শেষ হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।
এই মামলায় মোট অভিযুক্তের সংখ্যা ৩০ জন, যা বর্তমান ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। মামলার প্রধান আসামি রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ। এ ছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষক, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামানসহ ৮ জন পুলিশ সদস্য এবং ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী। অভিযুক্ত ৩০ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম রায়ের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “জাতিসংঘের রিপোর্টেও আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্পষ্টভাবে এসেছে। আমাদের তদন্তে অপরাধের অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। আমরা যেহেতু ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি, তাই প্রত্যাশা করছি আসামিরা সর্বোচ্চ শাস্তি পাবেন।”
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ সরাসরি গুলিতে মৃত্যুর বিষয়টি প্রমাণ করতে পারেনি। পুলিশের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু গণমাধ্যমকে জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে গুলির আঘাতের পরিবর্তে মাথায় ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতের কথা উল্লেখ রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে তদন্ত প্রতিবেদনে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই তথ্যগত ত্রুটিগুলোর কারণে আসামিরা খালাস পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ঊর্ধ্বতন নির্দেশদাতা হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। কালকের রায়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী ও স্থানীয় পরিকল্পনাকারীদের ভাগ্য।
ভোরের আকাশ/আ.র