আগামী সপ্তাহে চীন সফরে যাচ্ছেন পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগামী সপ্তাহে চীন সফরে যেতে পারেন বলে শুক্রবার (১৫ মে) এ তথ্য জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। এদিকে তিন দিনের চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২০ মে একদিনের এই সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এটি বেইজিং ও মস্কোর নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ। সফরে বড় ধরনের সামরিক কুচকাওয়াজ বা জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের সম্ভাবনা কম। তবে এখন পর্যন্ত সফরের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি চীন বা রাশিয়া।
শুক্রবার (১৫ মে) ট্রাম্প তার তিন দিনের চীন সফর শেষ করেন। গত নয় বছরের মধ্যে এটিই ছিল কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর। সফরে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য, তাইওয়ান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন।
পুতিনের সফর বাস্তবায়িত হলে একই মাসে বহুপাক্ষিক কোনো প্ল্যাটফর্মের বাইরে বিশ্বের দুই প্রধান শক্তির নেতাকে আতিথ্য দেবে চীন। এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সর্বশেষ বৈঠক করেছিলেন পুতিন ও শি জিনপিং।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জানান, পুতিন খুব শিগগির চীন সফরে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমরা শিগগিরই বিস্তারিত ঘোষণা করব। সফরের প্রস্তুতি চলছে। বলা যায়, প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন, শুধু শেষ মুহূর্তের কিছু কাজ বাকি রয়েছে।”
ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পর রাশিয়া-চীন যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পেসকভ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফর নির্বিশেষে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করছে মস্কো।
তিনি আরও জানান, সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পুরো পরিসর এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। পেসকভ বলেন, “আমাদের আলোচনার মূল বিষয় হবে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।”
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে বেইজিং ও মস্কো ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে। যথাসময়ে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র হলো রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও চীন। পুতিনের সফর নিশ্চিত হলে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে চার দেশের শীর্ষ নেতাই সাম্প্রতিক সময়ে চীন সফর করবেন।
এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গত ডিসেম্বরে চীন সফর করেন। আর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সফর করেন চলতি বছরের জানুয়ারিতে।
ভোরের আকাশ/সু.পা