মালাক্কা প্রণালিতে টোল বসানোর ইঙ্গিত ইন্দোনেশিয়ার

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ মালাক্কা প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দেন।
গত ৮ এপ্রিলের এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট বলেন, হরমুজ প্রণালি যেমন বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলে, তেমনি ইন্দোনেশিয়ার প্রণালিগুলোও পূর্ব এশিয়ার প্রায় ৭০ শতাংশ জ্বালানি ও বাণিজ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।
২২ এপ্রিল এক সম্মেলনে ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া বলেন, মালাক্কা প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য কোনো ফি নেওয়া হয় না, যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। তিনি ইঙ্গিত করে বলেন, “হরমুজ প্রণালির মতো এখানেও যদি ফি নেওয়া যেত!” সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট
মালাক্কা প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব :
বিশ্লেষকদের মতে, মালাক্কা প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। এই রুট বন্ধ হলে বৈশ্বিক সমুদ্র বাণিজ্যের প্রায় ২১ শতাংশ ব্যাহত হতে পারে। এতে জাহাজগুলোকে অতিরিক্ত প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হবে।
ইন্দোনেশিয়ার অন্যান্য প্রণালি—যেমন সুন্দা, লোমবক ও মাকাসার—বন্ধ হলে প্রভাব আরও গুরুতর হবে। তখন বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ২৬ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং জাহাজগুলোকে গড়ে ৭,৮০০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হবে।
মালাক্কা প্রণালিতে টোল আরোপের ধারণা নতুন নয়। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি জলদস্যুতা দমনের খরচ জোগাতে ইন্দোনেশিয়া এমন প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় তা প্রত্যাখ্যান করে। পরে যৌথ টহলের মাধ্যমে জলদস্যুতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও অবস্থান :
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এবং ইরানের পদক্ষেপ এই বিতর্ক নতুন করে উসকে দিয়েছে। তবে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জলপথে একতরফাভাবে টোল আরোপ বা চলাচলে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই।
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনোও জানিয়েছেন, আপাতত এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ইন্দোনেশিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
যদিও আপাতত টোল বসানোর বিষয়টি আলোচনার পর্যায়ে নেই, বিশ্লেষকরা মনে করছেন বিষয়টি পুরোপুরি শেষ হয়নি। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণের নতুন কৌশল ভবিষ্যতে ইন্দোনেশিয়াকে আবারও এ ধরনের চিন্তায় প্রভাবিত করতে পারে।
ভোরের আকাশ/সু.পা