চীন-তাইওয়ানের নতুন বাকযুদ্ধে উত্তেজনা

চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে চরমে পৌঁছেছে। এবার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের আফ্রিকা সফর ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। চীন প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকে ‘ইঁদুর’ বলে কটাক্ষ করার পর, পাল্টা জবাবে তাইওয়ানের পক্ষ থেকে চীনা কর্তৃপক্ষকে ‘ঝগড়াটে মাছওয়ালা’ বলে আক্রমণ করা হয়েছে।
রোববার (৩ মে) তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, লাই চিং-তে ইসোয়াতিনির রাজা মস্বাতি তৃতীয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পূর্ণ অধিকার রাখে। কোনো দেশই এই অধিকার বাধাগ্রস্ত করতে পারে না।
চীন দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ান তাদের ভূখণ্ডের অংশ। তাই দ্বীপটির কোনো স্বাধীন কূটনৈতিক অধিকার নেই। তবে তাইওয়ান এই দাবি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। গত মাসে তাইওয়ান অভিযোগ করে যে, চীন আন্তর্জাতিক কয়েকটি দেশকে চাপ দিয়ে প্রেসিডেন্ট লাইয়ের বিমানের আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করিয়েছে। ওই সফরে তার ইসোয়াতিনিতে যাওয়ার কথা ছিল, যা শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়নি।
শনিবার (২ মে) লাই চিং-তে ইসোয়াতিনিতে পৌঁছান। সফরটি আগে থেকে প্রকাশ না করে গোপন রাখা হয়, যা কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর এই সফরকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে এবং লাই চিং-তেকে “রাস্তায় ছুটে যাওয়া ইঁদুরের মতো” বলে উল্লেখ করে। এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় নতুন বিতর্ক। এর জবাবে তাইওয়ানের মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল জানায়, লাই চিং-তের কোনো দেশের অনুমতির প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে তারা চীনের ভাষা ব্যবহারকে “মাছওয়ালার মতো ঝগড়াটে” বলে তীব্র সমালোচনা করে। সূত্র: রয়টার্স
লাই চিং-তে ইসোয়াতিনির রাজাকে বলেন, তাইওয়ানের ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত থাকার অধিকার রয়েছে এবং কোনো শক্তিই তা রোধ করতে পারে না। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই কূটনৈতিক উত্তেজনা শুধু চীন-তাইওয়ান সম্পর্কই নয়, বরং বৈশ্বিক কূটনীতিতেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি আগেই এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা