মোজতবা খামেনিকে বিশেষ বার্তা দিতে তেহরানে মহসিন নাকভি

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কাছে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের ‘বিশেষ বার্তা’ পৌঁছে দিতে তেহরান সফরে গেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের শততম দিনে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি এ সফর করছেন।
রোববার (৭ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার গভীর রাতে ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছান মহসিন নাকভি। সেখানে তিনি ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনির সঙ্গে বৈঠক করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নাকভি জানান, বৈঠকে ‘সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিষয়সহ’ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সফরের আগে ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নেতার উদ্দেশে বিশেষ বার্তাবাহী একটি চিঠি নিয়ে তেহরানে এসেছেন মহসিন নাকভি। উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তার এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে রোববার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা দুটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সময়ে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও যুদ্ধ অবসানে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনো কোনো পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে নতুন সামরিক অভিযানের হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের ব্যাপারেও আশাবাদ প্রকাশ করছেন। গত বুধবার তিনি বলেন, সপ্তাহের শেষ দিকে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে।
চলমান আলোচনায় ইরানের জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়টি অন্যতম প্রধান অমীমাংসিত ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই অর্থ ইরানের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর পুনর্গঠন ও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সূত্র: আল জাজিরা
ভোরের আকাশ/সু.পা