ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ায় ৩ রেলকর্মী নিহত

রাশিয়ার ব্রিয়ানস্ক সীমান্ত এলাকায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তিন রেলকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে পাল্টা রুশ হামলায় ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে শিশুসহ অন্তত ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একটি ট্রেনের ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে তিন রেলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। হামলার পর আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের সুমি শহরে রুশ বাহিনীর হামলায় আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে শিশুসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দাবি, রাতভর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ১১৬টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ধারাবাহিক এসব হামলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে লিথুয়ানিয়া ও লাটভিয়া তাদের আকাশসীমায় সন্দেহজনক ড্রোন শনাক্তের পর সতর্কতা জারি করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ন্যাটোর যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়। বাল্টিক অঞ্চলের আকাশসীমায় এ ধরনের অনুপ্রবেশ ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার জ্যামিংয়ের কারণে ড্রোনগুলো দিক হারিয়ে অন্য দেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বেলারুশকে নতুন করে সতর্ক করেছেন। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মস্কোর সঙ্গে যৌথ কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ নিলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে।
জেলেনস্কির এ বক্তব্য এসেছে এমন সময়ে, যখন রাশিয়া ও বেলারুশ যৌথ পারমাণবিক মহড়া চালাচ্ছে। ইউক্রেনের আশঙ্কা, এই মহড়া ভবিষ্যৎ সামরিক হামলার প্রস্তুতির অংশ হতে পারে।
বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মহড়ায় অংশ নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, রাশিয়া–বেলারুশের পারমাণবিক ট্রায়াড—অর্থাৎ স্থল, সমুদ্র ও আকাশভিত্তিক পারমাণবিক সক্ষমতা—বর্তমান বৈশ্বিক উত্তেজনা ও নতুন হুমকির মুখে ‘ইউনিয়ন স্টেটের সার্বভৌমত্বের নির্ভরযোগ্য গ্যারান্টর’ হিসেবে কাজ করবে।
অন্যদিকে আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কো দাবি করেন, এই যৌথ মহড়া দুই দেশের নিয়মিত সামরিক সমন্বয়ের অংশ এবং এটি কোনো দেশের জন্য হুমকি নয়।
মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ সামরিক মহড়ায় অংশ নেয় রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী, উত্তর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর, দূরপাল্লার বিমান ইউনিট এবং বিভিন্ন সামরিক জেলার সদস্যরা।
রুশ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই তাদের অন্যতম বৃহৎ পারমাণবিক মহড়া, যেখানে প্রায় ৬৪ হাজার সেনা অংশ নিয়েছে।
তবে এই মহড়াকে কেন্দ্র করে ইউক্রেন ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পশ্চিমা মিত্ররা।
ভোরের আকাশ/সু.পা