শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

অর্থনীতি ‘পুনরুদ্ধারে’ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হাজার কোটি ডলার চাইল পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চরম অর্থসংকটে পড়া পাকিস্তান তাদের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঁচ বছর মেয়াদে হাজার কোটি ডলারের ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফ্যাসিলিটি’ বা বিনিময় স্থিতিশীলতা সুবিধা চেয়েছে।

গালফ নিউজে বুধবার এক খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে এক বৈঠকে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মাদ আওরঙ্গজেব এই সুবিধা দেওয়ার অনুরোধ জানান।

যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের দূতাবাস বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও প্রস্তাবিত সুবিধার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। মার্কিন অর্থ দপ্তরও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

পাকিস্তান ওয়াশিংটনের কাছে এমন এক সময়ে এই সহায়তা চাইল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় মধ্যস্ততাকারী হিসেবে ইসলামাবাদ গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কও জোরদার করতে চাইছে।

এর অংশ হিসেবে তামা ও সোনার খনিতে মার্কিন বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে ইসলামাবাদ। একইসঙ্গে উভয় দেশ আরো ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের সুযোগ খুঁজছে।

বিনিময় স্থিতিশীলতা সুবিধা হল এমন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে একটি দেশের মুদ্রার মান অন্য কোনো শক্তিশালী মুদ্রা বা নির্দিষ্ট মূল্যের (যেমন সোনা) বিপরীতে প্রায় অপরিবর্তিত বা একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখা হয়। এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ঝুঁকি কমায় এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, হাজার কোটি ডলারের এই সহায়তা অনুমোদন হলে তা হবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির অর্থনীতির জন্য বিশাল এক ‘লাইফলাইন’।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা ইসলামাবাদের কূটনৈতিক গুরুত্ব যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি ওয়াশিংটন ও অন্য মিত্রদের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার আশা জাগিয়ে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত হিসেবে পাকিস্তানকে এখন রাজস্ব ও আর্থিক ব্যবস্থার সংস্কার ও কৃচ্ছ্রতার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে।

সরকারকে রাজনৈতিকভাবে তুলনামূলক নাজুক অবস্থানে থেকেও আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী কর বৃদ্ধি, ব্যয় সংকোচন এবং বিভিন্ন সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে।

এই সময় যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিতে রাজি হলে তা পাকিস্তানের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর পাশাপাশি রুপির ওপর চাপ কমাবে এবং বহুপক্ষীয় অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রয়টার্স লিখেছে, মার্কিন অর্থ দপ্তর এই আবেদনের বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

তবে পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে মার্কিন অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মুহাম্মাদ আওরঙ্গজেব আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতির ওপর তৈরি হওয়া ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন।

তবে এই বিবৃতিতে হাজার কোটি ডলারের আবেদনের কথা কিছু বলা হয়নি।

এর আগে ২০২৩ সালে আইএমএফের কাছ থেকে নেওয়া ৩০০ কোটি ডলার ঋণের খেলাপি হওয়া থেকে পাকিস্তান অল্পের জন্য বেঁচে যায়। পরে তারা ৭০০ কোটি ডলারের ‘এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিট’ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য আলাদা ১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ঋণ পায়।

কিন্তু দেশটির রিজার্ভ এখনো বিভিন্ন ধরনের সাহায্য এবং চীন ও সৌদি আরবের মত বন্ধু দেশগুলোর ডিপোজিট এবং ঋণের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কোনো দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহায়তায় পরিবর্তন হলে বা আইএমএফের ঋণের কিস্তি ছাড়ে দেরি হলে ইসলামাবাদ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। গত এপ্রিলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাড়ে ৩০০ কোটি ডলার ফেরত দিতে হয়েছিল পাকিস্তানকে, যা তাদের রিজার্ভের এক পঞ্চমাংশ।

আরও পড়ুন

শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতা নিয়ে মুখ খুললেন অরিজিৎ সিং

এর ফলে অর্থনীতিতে যে বিশাল চাপ সৃষ্টি হয়েছিল তা পরে সৌদি আরবের কাছ থেকে নতুন করে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ দিয়ে সামাল দিতে হয়।

গালফ নিউজের খবরে বলা হয়, গত কয়েক দশকে দুয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া মার্কিন অর্থ দপ্তর খুব কমই কোনো দেশের জন্য এ ধরনের ‘বিনিময় স্থিতিশীলতা সুবিধা’ অনুমোদন করেছে। ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনা এই সুবিধাটি পেয়েছিল। তার আগে ২০০২ সালে উরুগুয়ে শেষবারের মত এ সুবিধা পায়।

ভোরের আকাশ/এনএস

অর্থনীতিপাকিস্তানযুক্তরাষ্ট্র

শেয়ার করুন: