শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

যুদ্ধে কতটা সংকটে ইরানের অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- সংগৃহীত
ছবি- সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের পর এক চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইরান। দেশটির সরকার এখন এক ‘যুদ্ধকালীন যুক্তি’ মেনে অর্থনীতি পরিচালনার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। যেখানে মূল্যস্ফীতিকে দেখা হচ্ছে একটি ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে আর বাজারকে বিবেচনা করা হচ্ছে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চাল, ভোজ্যতেল এবং চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি এখন তিন অঙ্কের ঘরে (শতভাগের ওপরে) পৌঁছে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ অবৈধ মজুতদারি, অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ এবং অর্থনৈতিক অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। গত দুই সপ্তাহে হাজার হাজার আইন লঙ্ঘনের ঘটনা এবং লাখ লাখ রিয়াল জরিমানা আদায় করেছে দেশটির পুলিশ, বিচার বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ ও রেকর্ড মূল্যস্ফীতি

বাইরে থেকে আসা ধারাবাহিক চাপই ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়ার মূল কারণ। মার্কিন সামুদ্রিক অবরোধ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থবিরতা এবং মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে ধসিয়ে দিচ্ছে। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, রাষ্ট্র এখন কেবল দাম নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে না, বরং জোরপূর্বক শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পতন ঠেকানোর চেষ্টা করছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইরানে চালের দাম বার্ষিক ভিত্তিতে বেড়েছে ১৭০ শতাংশেরও বেশি, ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০০ শতাংশ এবং চিনির দাম বেড়েছে ৮০ শতাংশ।

কর্তৃপক্ষ এই নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধিকে একটি ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তাদের দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং সামুদ্রিক অবরোধের কারণে বাণিজ্য রুট ও বিমা খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে ইরানের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এখন মূল্যস্ফীতি কোনও সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিপর্যয় নয়, বরং এটি ‘যুদ্ধক্ষেত্রের পরাজয় বা ফলাফল’। এই ব্যাখ্যার কারণে দেশটির বিচার বিভাগ হুশিয়ারি দিয়েছে যে, বাজারে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

মজুতদারির আড়ালে আসল সংকট কোথায়?

বিভিন্ন প্রদেশে চাল ও ভোজ্যতেলের বড় বড় অবৈধ মজুত জব্দ করার পাশাপাশি শিল্প ও পেট্রোকেমিক্যাল সামগ্রীও উদ্ধার করেছে পুলিশ। সরকারের দাবি, এই মজুতদারির কারণেই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে এবং দাম বাড়ছে। এ জন্য অর্থনৈতিক পুলিশ এবং বিচার বিভাগকে যুক্ত করে একটি যৌথ এনফোর্সমেন্ট সদর দফতর এবং জনসাধারণের অভিযোগের জন্য নতুন ডিজিটাল রিপোর্টিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে।

তবে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি ও অর্থনীতিবিদদের মতে, ‘মজুতদার’ দমনের এই বর্ণনা দিয়ে মূল সংকট আড়াল করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এই অভিযানে মূলত বৈধ ব্যবসায়ীদের টার্গেট করা হচ্ছে। অথচ রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো, যারা আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের ত্রুটিগুলো এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রকৃত উৎপাদন খরচের সঙ্গে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের মিল না থাকায় সাধারণ বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সংকুচিত শ্রমবাজার

ভোক্তা বাজারের বাইরে ইরানের কর্মসংস্থান খাতও যুদ্ধের ধাক্কায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সংঘাতের পর থেকে দেশটিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রায় বন্ধ। ধারণা করা হচ্ছে, গত কয়েক সপ্তাহে ছাঁটাইয়ের কারণে ১০ থেকে ২০ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। কিছু খাতে নতুন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির হার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে, বিপরীতে চাকরির আবেদন পৌঁছেছে রেকর্ড উচ্চতায়।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ডিজিটাল অর্থনীতি বা প্রযুক্তি খাতে। সংঘাতের সময় শুরু হওয়া ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা টানা ১২তম সপ্তাহে পদার্পণ করায় এই খাতে নিয়োগ সম্পূর্ণ বন্ধ এবং গণছাঁটাই চলছে। সংযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে প্রতিদিনের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে কোটি কোটি ডলারে, যা ভঙ্গুর অর্থনীতিকে আরও পঙ্গু করে দিচ্ছে।

নিয়ন্ত্রণের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

চলতি মাসের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য আংশিকভাবে যুদ্ধকালীন খরচকে দায়ী করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মজুতদারি ও অতিরিক্ত মুনাফাখোরি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপর শীর্ষ কর্মকর্তারা এই অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলাকে সরাসরি ‘সন্ত্রাসবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন।

শাসন ব্যবস্থার কট্টরপন্থিরা এখন যুদ্ধকালীন ‘অর্থনৈতিক সদর দফতর’ গঠনের দাবি তুলছেন, যা মূল্য নির্ধারণ এবং সাপ্লাই চেইন সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করবে। তবে সরকারের ভেতরেই কেউ কেউ সতর্ক করেছেন যে, অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ বাজারকে সংশোধন করার চেয়ে আরও বেশি বিকৃত করবে।

আরও পড়ুন

ব্যাংকে না গিয়ে ঘরে বসেই মিলবে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ

অর্থনীতিবিদদের মতে, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি পুরোপুরি বাজারভিত্তিকও নয়, আবার পুরোপুরি রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিতও নয়, এটি একটি মিশ্র ও খণ্ডিত কাঠামো। কোনও কাঠামোগত সংস্কার বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ছাড়া কেবল পুলিশি অভিযান দিয়ে এই দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি ঠেকানো অসম্ভব। আর এর ফলে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটি অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক; যা সাধারণ ভোক্তা, বেসরকারি ব্যবসায়ী এবং রাষ্ট্রের মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বাসকে চিরতরে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে।

সূত্র: আল-মনিটর

ভোরের আকাশ/এনএস

সংকটইরানযুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

শেয়ার করুন: