ট্রাম্পের ‘লোকদেখানো কূটনীতি’ নিয়ে কড়া সমালোচনা বাঘের গালিবাফের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘লোকদেখানো কূটনীতি’ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে পরে আবার আলোচনার কথা বলাকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সৃষ্টির ব্যর্থ কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) প্রকাশিত আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ট্রাম্প ইরানের ওপর পরিকল্পিত একটি সামরিক হামলা বাতিল করেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামো নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে গালিবাফ বলেন, ওয়াশিংটন একদিকে সামরিক হামলার হুমকি দেয়, আবার অন্যদিকে আলোচনার আহ্বান জানায়। তার ভাষায়, এটি নতুন কিছু নয়, বরং একই ধরনের ‘মঞ্চস্থ কূটনীতির’ পুনরাবৃত্তি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “প্রথমে বলা হয়, বড় ধরনের হামলা আসছে। এরপর আবার বলা হয়, থাক, তারা আলোচনা করতে চায়। এভাবেই একই নাটকের পুনরাবৃত্তি চলছে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বাস্তবতা মেনে নেওয়া এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, কূটনৈতিক সমাধান প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোয় ইরান ও এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশের অনুরোধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করা হবে এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকি দূর করা সম্ভব হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছে। তেহরানের দাবি, নৌপথের স্থানাঙ্ক নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হলে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান কার্যত এ নৌপথে চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে এবং এর ওপর নিজেদের সার্বভৌম অধিকার দাবি করে আসছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং তেলের দাম বেড়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত শেষের দিকে এগোচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, “আমার বিশ্বাস খুব শিগগিরই এ পরিস্থিতির অবসান হবে। তারা আর বেশিদিন এভাবে চালিয়ে যেতে পারবে বলে মনে হয় না।” তিনি আরও দাবি করেন, সংঘাতের অবসান ঘটলে জ্বালানির দামও কমে আসবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা