হরমুজে হামলার শিকার জাহাজ নাবিকদের শিপিং কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা

হরমুজ প্রণালিতে হামলার শিকার হওয়া একটি জাহাজের নাবিকরা থাইল্যান্ডের একটি শিপিং কোম্পানির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। শ্রম অধিকার লঙ্ঘন এবং অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করার অভিযোগ এনে তারা এই মামলা করেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ মার্চ ওমানের উত্তরে ‘ময়ূরী নারে’ নামের জাহাজটিতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় জাহাজটির তিনজন ক্রু নিহত হন। পরে বাকি ২০ নাবিককে প্রায় এক সপ্তাহ পর উদ্ধার করে থাইল্যান্ডে ফিরিয়ে আনা হয়।
নাবিকদের আইনজীবী কুনপাত সিংহাথং বলেন, মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও জাহাজটিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এর ফলে নাবিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং তিনজন প্রাণ হারান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়া নাবিকদের নিরাপত্তা ভারত, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এসব দেশের বিপুলসংখ্যক নাগরিক আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন খাতে কর্মরত।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ বলেন, “এটি শুধু জাহাজ চলাচলের পরিসংখ্যানের বিষয় নয়। এর পেছনে রয়েছেন নাবিকেরা এবং তাদের পরিবার। চলমান সংঘাতের বড় মূল্য তারাও দিয়ে যাচ্ছেন।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইরানের পাঁচটি প্রদেশে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশ—কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও জর্ডানে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা হামলা চালানো হয়। এতে কুয়েতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, কাতারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পূর্ব সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর একটি জ্বালানি ডিপো লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
তবে আইআরজিসির বিবৃতির কয়েক ঘণ্টা পর কুয়েত সরকার জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দেশটিকে লক্ষ্য করে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১০টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছিল। দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবগুলো হামলা প্রতিহত করে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে কুয়েতে একজন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, জর্ডানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় শহর আজরাকে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এর মধ্যে আটটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়।
বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব না হলেও আজরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে জর্ডানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
ভোরের আকাশ/সু.পা