রুপার আমদানি সীমিত করল ভারত

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে এবং রুপির মান ধরে রাখতে রুপা আমদানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত। বিশ্বের বৃহত্তম রুপা আমদানিকারক এই দেশটি শনিবার (১৬ মে) এক সরকারি আদেশের মাধ্যমে প্রায় সব ধরনের রুপা আমদানি অবিলম্বে সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে।
ভারত তার অভ্যন্তরীণ রুপার চাহিদার ৮০ শতাংশেরও বেশি আমদানির মাধ্যমে মেটায়। গত ২০২৫/২৬ অর্থবছরে রুপা আমদানিতে দেশটিকে রেকর্ড ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে, যা আগের বছরের (৪.৮ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় অনেক বেশি। মূলত বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় এবং তেলের উচ্চমূল্যের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার।
সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে ৯৯.৯% বিশুদ্ধ রুপার বার এবং আধা-প্রস্তুত সব ধরনের রুপা আমদানি সীমাবদ্ধ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মানে হলো, এখন আর চাইলেই অবাধে রুপা আমদানি করা যাবে না, সরকারের বিশেষ অনুমতি লাগবে।
আমদানিকারকদের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বাজারে রুপার সরবরাহ কমে যাবে, যার কারণে স্থানীয় বাজারে রুপার দাম চড়া হতে পারে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে ভারতের রুপার চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারেও এর দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, সরকার হয়তো শিল্প-কারখানায় ব্যবহারের জন্য সীমিত আকারে রুপা আমদানির অনুমতি দেবে, কিন্তু বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে বা মুদ্রা ও বার তৈরির জন্য রুপা আমদানিকে নিরুৎসাহিত করবে।
ভারতে গহনা ও মুদ্রা তৈরির পাশাপাশি সৌরশক্তি ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পে প্রচুর রুপা ব্যবহৃত হয়। ভারত সাধারণত সংযুক্ত আরব আমিরাত, ব্রিটেন ও চীন থেকে এই রুপা আমদানি করে থাকে। সূত্র : রয়টার্স
ভোরের আকাশ/ইউএম