শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

৫ মাস আগেই বিপর্যয়ের পূর্বাভাস ছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গত মার্চ মাসে প্রকাশিত দুটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় হিন্দুকুশ হিমালয়ে দ্রুতগতিতে হিমবাহ গলে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল। হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের মানুষের স্বার্থে কর্মরত কাঠমাণ্ডু-ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের প্রতিবেদন দুটিতে বলা হয়েছিল, সমগ্র হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহগুলো দ্রুত থেকে আরো দ্রুততর গতিতে গলছে এবং সহস্রাব্দের শুরুর পর থেকে বরফ হারানোর হার দ্বিগুণ হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের পর থেকে হিমবাহের বরফের পুরুত্ব ২৭ মিটার পর্যন্ত কমে গেছে। প্রতিবেদনগুলোতে ভবিষ্যতে ভাটি অঞ্চলের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জন্য একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়। কাঠমাণ্ডু-ভিত্তিক এ সংগঠনের আঞ্চলিক সদস্যদের মধ্যে ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনসহ অন্যান্য দেশ রয়েছে।

গত বুধবার নেপালে ঘটে যাওয়া আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বিপর্যয় নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন। তাদের অনেকেই বেশ কয়েকটি বিষয়ের যৌথ প্রভাবের দিকে ইঙ্গিত করছেন, যার মধ্যে একটি বিষয় সবচেয়ে উদ্বেগের; আর তা হলো, ৪ হাজার মিটার এবং তার চেয়ে বেশি উচ্চতায় বরফ পড়ার পরিবর্তে বৃষ্টি হচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দেরাদুন-ভিত্তিক ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউট অব হিমালয়ান জিওলজির এক বিজ্ঞানী এনডিটিভিকে বলেছেন, কেন একসময় তুষারপাত হওয়া উচ্চতাগুলোতে এখন বৃষ্টি হচ্ছে এবং কেন হিমবাহগুলো এত দ্রুত পিছু হটছে, তা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন দিয়ে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।

মার্চে প্রকাশিত দুটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বলা হয়, ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহগুলো তাদের মোট আয়তনের প্রায় ১২ শতাংশ এবং আনুমানিক বরফ মজুদের ৯ শতাংশ হারিয়েছে।

প্রতিবেদনের একটিতে ৩৮টি নিরীক্ষিত হিমবাহের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০০০ সালের পর থেকে হিমবাহ ক্ষয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। এটি একটি জোরালো ইঙ্গিত দেয় যে, হিমালয়ের বরফাবৃত অংশের কিছুটা হয়তো এমন এক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছাচ্ছে, যেখান থেকে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া অসম্ভব।

গবেষকরা এখন তদন্ত করে দেখছেন যে, কোনো উচ্চতর স্থান থেকে বরফ-পাথরের ধস এই বন্যার সূত্রপাত করেছে কি না। বিশাল পরিমাণের বরফ ও পাথরের ধ্বংসাবশেষ হয়তো ভোটে কোশি নদীর উপনদী লেনদে খোলায় প্রবেশ করেছিল এবং এর ফলে পানি, পলি ও বড় বড় পাথর নিচে ভাসিয়ে নিয়ে হঠাৎ একটি তীব্র জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছিল।

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অহ টেকনোলজি ইন্দোরের সহযোগী অধ্যাপক মহম্মদ ফারুক আজম বলেছেন, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। কারণ বরফের আস্তরণ কমছে, হিমবাহ পিছু হটছে এবং আরো বেশি পাথুরে বা অনুর্বর এলাকা উন্মুক্ত হয়ে পড়ছে; এগুলো বেশি তাপ শোষণ করে, যা পাহাড়ের ঢালগুলোকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

তিনি আরো বলেন, যদিও সঠিক কারণটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে এটি ক্রমবর্ধমানভাবে হিমবাহ পিছু হটা এবং চিরহিমায়িত অঞ্চল ক্ষয়ের কারণে বরফের আস্তরণ কমে যাওয়ার দিকেই ইঙ্গিত করে।

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের মতে, মেরু অঞ্চলের বাইরে সবচেয়ে বড় বরফের মজুদ রয়েছে হিন্দুকুশ হিমালয়ে, যেখানে ৫৫ হাজার বর্গকিলোমিটারেরও বেশি এলাকাজুড়ে ৬৩ হাজার ৭০০-র বেশি হিমবাহ রয়েছে। এগুলো এশিয়ার ১০টি প্রধান নদী ব্যবস্থার উৎস এবং কোটি কোটি মানুষের খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ ও জীবিকার নিরাপত্তা জোগায়।

আরও পড়ুন

নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮

সংগঠনের মার্চ মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার মিটারের মধ্যে অবস্থিত এই হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ এলাকা উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে।প্রতিবেদনগুলো প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এগুলো হিমবাহের ক্ষতি সুষম না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে। 

সবচেয়ে বেশি শতাংশ আয়তন ক্ষয় হয়েছে পূর্ব হেংডুয়ান শান পর্বতমালায়, যেখানে কিছু অঞ্চল মাত্র তিন দশকে তাদের হিমবাহ এলাকার ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত হারিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় আকারের পরম আয়তন ক্ষয় ঘনীভূত ছিল সিন্ধু, গঙ্গা এবং ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায়, যেখানে এই অঞ্চলের ৭৪ শতাংশেরও বেশি হিমবাহ অবস্থিত।

ভোরের আকাশ/এম

শেয়ার করুন: