যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞান বোর্ডের ২২ সদস্য বরখাস্ত

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থার নীতিনির্ধারণী বোর্ডের ২২ সদস্যকে বরখাস্ত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে সাবেক এক বোর্ড সদস্য ও আইনপ্রণেতাদের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।
ন্যাশনাল সায়েন্স বোর্ড (এনএসবি) মূলত ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (এনএসএফ)-এর নীতিনির্ধারণ ও পরামর্শদাতা সংস্থা হিসেবে কাজ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই বোর্ডেই সাম্প্রতিক বরখাস্তের ঘটনা ঘটেছে। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় চলমান পুনর্গঠনের অংশ, যার আগে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এবং শিক্ষা খাতেও বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে।
বোর্ড সদস্য রজার বিচি জানান, বরখাস্তের কোনো কারণ তাদের জানানো হয়নি। তিনি বলেন, প্রশাসন তাকে ২০২০ সালে ছয় বছরের মেয়াদের জন্য পুনর্নিয়োগ করেছিল। বরখাস্তের ইমেইল ছিল সংক্ষিপ্ত, যেখানে শুধু “আপনার সেবার জন্য ধন্যবাদ” লেখা ছিল।
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত জীববিজ্ঞান অধ্যাপক বিচি আরও বলেন, নতুন বোর্ড গঠন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে এই বোর্ড কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং সংস্থার গবেষণা নীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এদিকে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বিজ্ঞান কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য জো লফগ্রেন একে “বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের জন্য ক্ষতিকর এবং অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত” বলে মন্তব্য করেন।
হোয়াইট হাউস এবং ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এর আগেও সরকারি ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে বহু গবেষণা অনুদান বাতিল করা হয়েছে। গত বছর প্রায় ১ হাজার ৬০০টিরও বেশি গবেষণা প্রকল্প স্থগিত বা বাতিল হয়, যার আর্থিক মূল্য এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও শিক্ষার অন্যতম প্রধান অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালে সংস্থাটি ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে, যা এটিকে বিশ্বের বৃহৎ বিজ্ঞান অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোর একটিতে পরিণত করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বরখাস্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিজ্ঞান গবেষণা ও অর্থায়নের ওপর কতটা পড়বে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।
ভোরের আকাশ/সু.পা