শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু হাসপাতাল, ভেঙে পড়ছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় কার্যত ধ্বংসের মুখে পড়েছে দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলায় স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেঙে পড়েছে চিকিৎসা ব্যবস্থা। এতে জরুরি চিকিৎসার অভাবে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৫৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে ৮৭টি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসাকেন্দ্র। বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত পাঁচটি হাসপাতাল। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) বলছে, স্বাস্থ্য খাতকে লক্ষ্য করে হামলার একটি স্পষ্ট ও ধারাবাহিক প্যাটার্ন দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে দেশটির স্বাস্থ্য অবকাঠামো অকার্যকর করে তোলার কৌশল হিসেবেই হামলা চালাচ্ছে। এতে দক্ষিণ লেবানন ক্রমেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে এবং মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।

গত ২ মার্চ ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়। এর পরপরই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এসব হামলার জেরে ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, অঞ্চলটির অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্র সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে এবং অনেক স্বাস্থ্যকর্মী এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এতে চিকিৎসাসেবা আরও সীমিত হয়ে পড়েছে। জরুরি বিভাগে রোগীর চাপও বেড়েছে কয়েকগুণ।

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ক্যান্সার, ডায়ালাইসিসসহ জটিল রোগীদের উত্তরাঞ্চলে স্থানান্তর করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকর্মীদের ওপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এক দিনেই পৃথক পাঁচটি হামলায় ৯ জন প্যারামেডিক নিহত ও সাতজন আহত হন বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, চিকিৎসাকর্মীদের ওপর এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন এবং তা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে। সংস্থাটি বলছে, এসব ঘটনায় জবাবদিহির অভাব থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত এক মাসে তারা লেবাননে তিন হাজার ৫০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং প্রায় এক হাজার যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। তবে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৪৫ জনে, আহত চার হাজারের বেশি; নিহতদের মধ্যে ১২৫ জন শিশু রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ইউরোপের ১৮টি দেশ যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু, বিশেষ করে স্বাস্থ্যকর্মী ও সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে ইতালি, স্পেন, আয়ারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ। তারা লেবাননের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত যুদ্ধবিরতি না হলে লেবাননের স্বাস্থ্য খাত পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে আরও বড় আকারে মানবিক সংকট ডেকে আনতে পারে। 

খবর আলজাজিরা, মিডিলইস্ট আই ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের

ভোরের আকাশ/এনএস

দক্ষিণ লেবানন

শেয়ার করুন: