টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাতে দেশটির অন্যতম বৃহত্তম ব্যাংক- ‘ব্যাংক অব আমেরিকার’ ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিন পিয়াচেন্তি নিহত হয়েছেন।
গত সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে ম্যানহাটনের ওয়েস্ট ৪২তম স্ট্রিট ও সেভেনথ অ্যাভিনিউ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, ৪৯ বছর বয়সী মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী প্রথমে ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর তিনি এরিন পিয়াচেন্তির ওপর হামলা চালান। গুরুতর আহত পিয়াচেন্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অন্য আহত ব্যক্তির অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
তদন্ত ক, সন্দেহভাজন নারী পামেলা সিসনেরস দুটি বড় ছুরি নিয়ে হামলা চালিয়েছিলেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর পর তাকে অস্ত্র ফেলে দিতে বলা হয়। কিন্তু তিনি পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে তাদের দিকে এগিয়ে যান। পরে টেজার ব্যবহারের চেষ্টা করা হলেও তাকে থামানো যায়নি। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কমিশনার জেসিকা টিশ জানিয়েছেন, হামলাটি প্রাথমিকভাবে পরিকল্পিত বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে না। সিসনেরসের অতীতে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য ছিল। তবে তার বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে আগের কোনো গ্রেফতারের রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
সিসনেরোসের ভাই প্যাট্রিক পেরাল্টা নিউইয়র্কের সংবাদমাধ্যম গোথামিস্টকে বলেছেন, কয়েক দশক ধরে তার মানসিক সমস্যা থাকলেও তিনি আক্রমণাত্মক ছিলেন না।
এরিন পিয়াচেন্তি ছিলেন ব্যাংক অব আমেরিকার বিজনেজ সিলেকশন এন্ড কনফ্লিক্ট ইউনিটের ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি একজন আইনজীবীও ছিলেন এবং ২০২১ সালে ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রায় ১৮ মাস আগে তিনি ব্যাংক অব আমেরিকায় যোগ দিয়েছিলেন।
মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে মাত্র কয়েকদিন আগে কাজে ফিরেছিলেন ৩২ বছর বয়সী এরিন পিয়াচেন্তি। নতুন মা হিসেবে স্বামী ও শিশুকে নিয়ে শুরু করেছিলেন জীবনের নতুন অধ্যায়।
মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামী ও নবজাতক সন্তানকে নিয়ে একটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন এরিন। ছবিতে তাকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়।
ব্যাংক অব আমেরিকা এক বিবৃতিতে এরিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাকে একজন মূল্যবান সহকর্মী হিসেবে উল্লেখ করে তার পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। ফোর্ডহ্যাম ল স্কুলও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে।
টাইমস স্কয়ার নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্র। এমন জনবহুল এলাকায় দিনের বেলায় আকস্মিক এই হামলা নগরীর জননিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত করছে নিউইয়র্ক পুলিশ।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, এনডিটিভি