জর্ডান সীমান্তের কাছে বড় সামরিক মহড়া চালাবে ইসরায়েল

জর্ডান সীমান্তের কাছে বড় পরিসরে সামরিক মহড়া চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। সোমবার থেকে লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর ইলাত ও আরাভা উপত্যকায় এ মহড়া শুরু হবে। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ খবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আকস্মিক হামলার পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে এ মহড়ার আয়োজন করা হচ্ছে। মহড়ায় আকাশ, সমুদ্র ও স্থলপথে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের বিভিন্ন পরিস্থিতি অনুশীলন করা হবে।
সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মহড়াটি পরিচালনা করবে তাদের ৮০তম ডিভিশন। রোববার থেকেই ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, সামরিক বিমান ও নৌযানের চলাচল বাড়বে।
কয়েক দিন ধরে এই মহড়া চলবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে ঠিক কত দিন মহড়া চলবে, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।
সেনাবাহিনী বলেছে, জর্ডান সীমান্ত ও ইলাত এলাকার ইসরায়েলি বসতিগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করা, সেনাদের প্রস্তুতি বাড়ানো এবং আকাশ ও নৌ সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ওই অঞ্চলের প্রতিরক্ষা জোরদার করাই মহড়ার প্রধান উদ্দেশ্য।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোর যুদ্ধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সেনাদের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা যাচাইয়ের চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এর এক সপ্তাহ আগে অধিকৃত সিরিয়ার গোলান মালভূমিতেও সামরিক মহড়া চালিয়েছিল ইসরায়েল। সে সময় সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, আকস্মিক ও জটিল হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়ানোই ছিল ওই মহড়ার উদ্দেশ্য।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলের পূর্ব সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা নিয়ে সতর্কতা বাড়িয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
গত জুনে ইসরায়েলি সামরিক সূত্র দাবি করেছিল, ইলাতের একটি হোটেল এলাকায় সমুদ্রপথে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকানো হয়েছে। ইসরায়েলের বেসরকারি চ্যানেল ১৫-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জর্ডান সীমান্তের দিক থেকে জেট স্কিতে করে এক ব্যক্তি হোটেল এলাকার দিকে আসছিলেন। ইসরায়েলি বাহিনী প্রথমে সতর্কতামূলক গুলি চালায়। পরে ওই ব্যক্তি থামতে অস্বীকৃতি জানালে তার দিকে গুলি চালানো হয়। এরপর তিনি যেদিক থেকে এসেছিলেন, সেদিকেই ফিরে যান।
তবে এ ঘটনায় ইসরায়েলের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে জর্ডান কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্র: আনাদোলু
ভোরের আকাশ/এনএস