শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ইরানের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিশ্ব, ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমাধান কোন পথে, তা নিয়ে এখন সবার নজর তেহরানের দিকে। তবে শান্তি প্রস্তাব নিয়ে ইরানের দীর্ঘসূত্রতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব।

মার্কিন প্রশাসনের একটি সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর এখন একটি সংশোধিত প্রস্তাব আসার কথা রয়েছে। পাকিস্তান এই আলোচনার মূল সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছে এবং ধারণা করা হচ্ছে যে, আজ অথবা শুক্রবারের মধ্যে তেহরান তাদের চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার করবে। তবে এই বিলম্ব নিয়ে ওয়াশিংটনের অন্দরে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।

শান্তি প্রস্তাব নিয়ে অনিশ্চয়তা: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সম্প্রতি তার মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তারা দ্রুতই একটি জবাব দেবেন। শেহবাজ শরিফের এই প্রকাশ্য বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তানও এখন তেহরানের উত্তরের জন্য উদগ্রীব। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস থেকে আসা সংকেত বলছে যে তারা অনির্দিষ্টকাল এই অপেক্ষার পক্ষে নয়। কূটনীতিকরা মনে করছেন, এই প্রকাশ্য চাপ মূলত ইরানের ওপর মানসিক চাপ তৈরির কৌশল, যাতে তারা দ্রুত একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বাধ্য হয়। কিন্তু তেহরান তাদের রহস্যময় নীরবতা বজায় রেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

ট্রাম্পের বিরক্তি ও আলটিমেটাম: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যেও এই বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গতকাল যেখানে তিনি বলেছিলেন যে ইরান তাদের নেতৃত্বসংক্রান্ত পরিস্থিতি গুছিয়ে নিতে পারবে, আজ সেখানে তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের উচিত দ্রুত ‘বুদ্ধিমানের মতো’ সিদ্ধান্ত নেওয়া। ট্রাম্পের এই সুর পরিবর্তন প্রমাণ করে যে, তিনি ইরানের কালক্ষেপণকে সহজভাবে নিচ্ছেন না। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির জনসমক্ষে না আসাকে কেন্দ্র করে যে রহস্য তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে ট্রাম্পের প্রশাসন উদ্বিগ্ন। ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদি দ্রুত কোনো ফলপ্রসূ সমাধান না আসে, তবে ওয়াশিংটন আরও কঠোর কোনো সামরিক বা অর্থনৈতিক পদক্ষেপের দিকে হাঁটতে পারে।

মোজতবা খামেনিকে নিয়ে রহস্য ঘনীভূত: ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিলতা নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আরও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা আদতেও সর্বোচ্চ নেতার কাছে পৌঁছাতে পারছেন কি না। খামেনির হদিস না পাওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে এই বিলম্ব এখন বড় ধরনের আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, খামেনি হয়তো বর্তমানে কোনো গোপন আশ্রয়ে রয়েছেন যেখান থেকে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার এমনও হতে পারে যে, তিনি শারীরিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। এই সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা ইরানের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে বলে মনে করছে পশ্চিমা বিশ্ব।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি বাতিল চাইলেন রুমিন ফারহানা

কট্টরপন্থীদের কৌশল ও এক গোলকধাঁধা: অন্যদিকে, একটি রাজনৈতিক মহল মনে করছে এই বিলম্ব হয়তো ইরানের কট্টরপন্থীদের একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। খামেনিকে বিচ্ছিন্ন রেখে সময়ক্ষেপণ করার মাধ্যমে তারা আসলে ট্রাম্পের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। তারা সম্ভবত মনে করছে যে, যত বেশি দেরি হবে, ট্রাম্পের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা তত বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে। এই কৌশলের মাধ্যমে কট্টরপন্থীরা শান্তিচুক্তিতে আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। ইরানের এই কৌশলগত রহস্যময়তা কেবল ট্রাম্পকেই নয়, বরং পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই এক গোলকধাঁধায় ফেলে রেখেছে, যার প্রকৃত উত্তর কারোরই জানা নেই।

বর্তমানে ইরান যে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে বা সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছে, তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে আঞ্চলিক শান্তিতে। যত বেশি দেরি হবে, ততই জল্পনা বাড়বে যে তেহরানের ভেতরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। খামেনির অনুপস্থিতি এবং শান্তি প্রস্তাবের বিলম্বিত জবাব—এই দুই বিষয় মিলিয়ে ইরান এখন একটি বড় ধরনের ক্রান্তিকাল পার করছে। সামনের কয়েক দিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি শুক্রবারের মধ্যে কোনো ইতিবাচক সাড়া না আসে, তবে পারস্য উপসাগরের পরিস্থিতি নতুন কোনো সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এখন দেখার বিষয়, ইরান শেষ পর্যন্ত শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার টেবিলে ফেরে নাকি রণকৌশল পরিবর্তনের পথে হাঁটে।

ভোরের আকাশ/নি

ডোনাল্ড ট্রাম্পইরান

শেয়ার করুন: