শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

তিন নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা স্বীকার করলেন বিল গেটস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ৫:৩১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

তিন নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। কুখ্যাত জেফ্রি এপস্টেইনের বিষয়ে পরিচালিত একটি তদন্তের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির কাছে দেওয়া সাক্ষ্যপর্বে এই কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

মাইক্রোসফটের এই সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটিকে বলেছেন, রাশিয়ার দুই নারীর সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। তাদের একজন ব্রিজরুলার মিলা আন্তোনোভা এবং অন্যজন পরমাণু বিজ্ঞানী কারিমা নিগমাতুলিনা।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক অনুলিপেতে দেখা যায়, ১০ জুন মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের কয়েক ঘণ্টাব্যাপী জেরার মুখে বিল গেটস পরবর্তী সময়ে অন্য আরেক নারী বিজ্ঞানীর সঙ্গে তার তৃতীয় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন।

একসময়ের বিশ্বের শীর্ষ ধনী এই ব্যবসায়ী দোষী সাব্যস্ত হওয়া শিশু যৌন নিপীড়ক এপস্টেইনের কোনও অপরাধ বা অপকর্ম কখনও দেখার বিষয়টি সবসময়ই অস্বীকার করে এসেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটানোটা ছিল তার একটি ‌‌‘‘ভুল।’’

মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জবাবে গেটস আবারও কোনও ধরনের যৌন অসদাচরণের কথা অস্বীকার করেন। তবে তিনি এতে একমত হন, কলঙ্কিত এই অর্থায়কের অধীনে কিছু নারী ও কন্যাশিশু নিয়োজিত থাকায়  অজান্তেই হয়তো তিনি কখনও কখনও ভুক্তভোগীদের সান্নিধ্যে এসে থাকতে পারেন।

গেটস বলেন, এটি সম্ভব যে তিনি এবং এপস্টেইনের এক পারস্পরিক বন্ধুর কাছে তিনি গোপন কথা শেয়ার করেছিলেন। ওেই নারীদের একজনের কাছ থেকে তার কোনও যৌনবাহিত রোগ (এসটিডি) ছড়াতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা করছিলেন।

বিল গেটস গত ফেব্রুয়ারিতে তার পরিচালিত গেটস ফাউন্ডেশনের কর্মীদের কাছে দুটি বিবাহবহির্ভুত সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছিলেন। যা পরে এপস্টেইন জানতে পেরেছিলেন। তবে সে সময় বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্যে তিনি বলেছেন, রাশিয়ার ওই দুই নারীর সঙ্গে অবিশ্বস্ততার কথা জানার পর এপস্টেইন তাকে ব্ল্যাকমেইল করার কথা ভাবছিলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০১১ সালে এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা হওয়ার আগেই চিকিৎসা খাতের উদ্যোক্তা ড. অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরোটের সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভুত সম্পর্ক ছিল।

এর আগে কংগ্রেসকে গেটস জানিয়েছিলেন, ওই যৌন অপরাধী কেবল ‘‘আমাদের আলোচিত দুটি সম্পর্কের বিষয়ে সম্পর্কেই জানতেন। ফলে এপস্টেইন যে ড. নেসেলরোটের সম্পর্কের বিষয়েও জানতেন, তা জানতে পেরে গেটস কিছুটা অবাক হন।’’

প্রতিনিধি পরিষদে দেওয়া সাক্ষ্যের অনুলিপি অনুযায়ী, এরপর কংগ্রেস সদস্যরা তাকে ২০১৩ সালের জুলাইয়ে এপস্টেইনের কাছে পাঠানো একটি ই-মেইল দেখান, যেখানে গেটসের প্রসঙ্গে ড. নেসেলরোটের নাম উল্লেখ ছিল।

এর আগে মার্কিন বিচার বিভাগের শেয়ার করা ই-মেইলের প্রকাশিত সংস্করণগুলোতে তার নামটি মুছে দেওয়া হয়েছিল।

ওই বার্তার তাৎপর্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে গেটস বলেন, ঠিক আছে, একটা সময় ছিল যখন ড. জ্যাকবসের সঙ্গে আমার একটা সম্পর্ক ছিল। তাই এটি সেই ক্যাটাগরিতে পড়তে পারে।

স্বেচ্ছায় কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়া গেটস জোর দিয়ে বলেন, এপস্টেইন এই বিবাহবহির্ভুত সম্পর্ক নিয়ে তাকে সফলভাবে ব্ল্যাকমেইল করতে না পারলেও, মনে হচ্ছে তার চিন্তাভাবনা সেই দিকেই এগোচ্ছিল।

গত বছরের ডিসেম্বরে মার্কিন বিচার বিভাগ ‘এপস্টেইন ফাইল’ প্রকাশ শুরু করার পর এই যৌন অপরাধীর সঙ্গে গেটসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অস্বস্তিকর তথ্য ফাঁস হয়। এরপরই এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই ধনকুবের।

ফাইলে জানা যায়, ২০১৩ সালে এপস্টেইনের লেখা এক মেমোতে দাবি করেছিলেন, রুশ মেয়েদের সঙ্গে ঘুমানোর পর গেটস একটি যৌনবাহিত রোগে (এসটিডি) আক্রান্ত হয়েছিলেন। মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা তার তৎকালীন স্ত্রী মেলিন্ডাকে ‘গোপনে দেওয়ার জন্য’ অ্যান্টিবায়োটিক চেয়েছিলেন।

গেটস বারবার এসব দাবি অস্বীকার করেছেন। তবে রুদ্ধদ্বার সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন, একপর্যায়ে তিনি সত্যিই আশঙ্কা করেছিলেন  কোনও একটি যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে হয়তো তিনি সংক্রমিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, যদিও তার সেই উদ্বেগ শেষ পর্যন্ত ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছিল এবং তিনি কখনও কোনও যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হননি। তবে তাঁর কর্মী এবং এপস্টেইনের পারস্পরিক বন্ধু ড. বরিস নিকোলিচের কাছে নিজের এই উদ্বেগ নিয়ে সম্ভবত আমি কিছু বলেছিলাম।

‘‘আমার কখনও এসটিডি ছিল না... আমি বলেছি, এসটিডি হয়েছে কি না তা নিয়ে হয়তো আমি কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করে থাকতে পারি। তবে সেটি আমার মনে নেই। কিন্তু আমার কখনও এসটিডি ছিল না। আমি কখনোই কাউকে গোপনে ওষুধ দিইনি,’’ বলেন গেটস।

২০১৯ সালে কারাগারে মারা যাওয়া এপস্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে গেটস বলেন, চার বছরে মোট ১২ থেকে ১৪ বারের মতো দেখা হয়েছে। এর বাইরে স্কাইপিতে দুবার কথা হয়েছিল।

তিনি বলেন, বৈঠকগুলো মূলত পরোপকার সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য হলেও ২০১৩ সালের আগস্টে সিয়াটলে গেটস ভেঞ্চার্স অফিসে এপস্টেইনের সঙ্গে তার মুখোমুখি বৈঠক হয়েছিল। ড. নিকোলিচের চাকরিচ্যুতির আর্থিক সুবিধা নিয়ে আলোচনার জন্য ওই যৌন অপরাধী সেখানে উড়ে গিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন

হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকাকে ৭৪ দোররার নির্দেশ

গেটস দাবি করেন, সেই মুখোমুখি বৈঠকের সময় এপস্টেইন তার বিবাহবহির্ভুত সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে পরোক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যেখানে ওই যৌন অপরাধী ড. নিকোলিচের পক্ষে কাজ করছিলেন।

‘‘সেখানে এক ধরনের পরোক্ষ ভাষা ছিল। যেমন, হ্যাঁ, আমাদের সবারই বন্ধু হওয়া উচিত। এবং আমি যেমনটা বলেছি, আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এটি মোকাবিলা করেছিলাম এবং বলেছিলাম, দেখো, তুমি যদি মনে করো যে এর থেকে তুমি আরও বেশি টাকা পাবে, তবে তা হচ্ছে না। আর এর অর্থ যদি এই হয়, তুমি বাইরে গিয়ে লোকজনের কাছে এসব বিষয়ে কথা বলবে, তাহলে আমি সেই কষ্ট মেনে নেব এবং এটি মোকাবিলা করব।’’ কংগ্রেসকে বলেন বিল গেটস। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ।

ভোরের আকাশ/এম

বিল গেটস

শেয়ার করুন: