শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ফ্রান্স-ব্রিটেন অভিবাসন চুক্তি ঘিরে তীব্র সমালোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৫, ৫:৩৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ফ্রান্স-ব্রিটেন অভিবাসন চুক্তি ঘিরে তীব্র সমালোচনা
ফ্রান্স-ব্রিটেন অভিবাসন চুক্তি ঘিরে তীব্র সমালোচনা

ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সম্প্রতি ঘোষিত নতুন অভিবাসন চুক্তি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে চালু হতে যাওয়া এই পাইলট প্রকল্প অনুযায়ী, ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো অভিবাসীদের ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হবে। একইসঙ্গে ফ্রান্সে অবস্থানরত কিছু অভিবাসীকে যুক্তরাজ্য গ্রহণ করবে।

যদিও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে, তবে অধিকাংশ মানবাধিকার সংস্থা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক দলগুলো একে মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থি ও অমানবিক বলে মন্তব্য করেছে।

চুক্তি অনুসারে, যুক্তরাজ্যে যেতে ইচ্ছুক অভিবাসীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে এবং যথার্থ কারণ দেখাতে হবে। তবে পুরো পরিকল্পনাটি এখনো ইউরোপীয় কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

UNHCR বলছে, “সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে এটি একটি নিরাপদ ও মানবিক অভিবাসনপথ তৈরি করতে পারে।” তবে ফরাসি দাতব্য সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস এই পরিকল্পনাকে "হাস্যকর ও বিপজ্জনক" বলে আখ্যায়িত করেছে। সংস্থাটি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনপথ উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।

ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের সংগঠন ইতুপিয়া ৫৬ এই চুক্তিকে সরাসরি “মানবপাচার” বলে অভিযোগ করেছে। আর অভিবাসী সহায়তাকারী সংগঠন উবেরজ দে মিগ্রঁ-এর সমন্বয়ক ফ্লোর জুদেত বলেন, “মানুষকে যেন কার্ডের মতো এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাঠানো হচ্ছে। তারা হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শেষ আশ্রয়ের খোঁজে এসেছে। এই চুক্তি তাদের রুখতে পারবে না।”

এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। ব্রিটিশ ডানপন্থি দল রিফর্ম ইউকে-এর নেতা নাইজেল ফারাজ চুক্তিটিকে ‘অসম্মানজনক’ বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, “আমরা যেন আবারও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হয়ে গেছি এবং একজন অহঙ্কারী ফরাসি প্রেসিডেন্টের সামনে মাথা নিচু করছি।”

ব্রিটিশ কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনকও এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “যদি অনুপাত হয় ১৭ জন ঢুকবে, আর একজনকে ফেরত পাঠানো হবে—তাহলে এটি কোনোভাবেই নিরুৎসাহনমূলক নয়।”

ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কালের মেয়র নাতাশা বুশে অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “সীমান্তে অভিবাসী আগমনে আমরা এমনিতেই বিপর্যস্ত। এখন যুক্তরাজ্য থেকে ফেরত পাঠানোদের দায়ও আমাদের নিতে হবে।”

উত্তর ফ্রান্সের রিজিওনাল প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের বের্ত্রঁ এই চুক্তিকে “ফ্রান্সের জন্য ক্ষতিকর ও যুক্তরাজ্যের জন্য লাভজনক” বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষায়, “যুক্তরাজ্য পছন্দসই অভিবাসী বেছে নেবে, আর ফ্রান্স কেবল বোঝা বহন করবে।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতায় আসার পর অভিবাসন ইস্যুকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। পাচারকারীদের দমনে তিনি ৯০ মিলিয়ন ইউরোর তহবিল গঠন করেন এবং একাধিক দেশ—যেমন সার্বিয়া, কসোভো, ইরাক—এর সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

তবে সব উদ্যোগ সত্ত্বেও ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে অভিবাসীদের যাত্রা থেমে নেই। বরং বিপজ্জনক হয়ে উঠছে এই পথ। ২০২৪ সালেই কমপক্ষে ৭৮ জন এবং চলতি বছর অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ভোরের আকাশ//হ.র

শেয়ার করুন: