হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি অসহায়: আল-ফারাহ

ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিদেশি শক্তির কাছে সৌদি আরবের সামরিক সহায়তা চাওয়াকে দেশটির অসহায়ত্বের প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন আনসারুল্লাহ প্রতিরোধ আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ সদস্য মোহাম্মাদ আল-ফারাহ। তিনি বলেছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে মুসলিম বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ের রিয়াদের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক বক্তব্যে আল-ফারাহ বলেন, ২০১৫ সালের মার্চে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই সৌদি আরব বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের মধ্যে ভয় ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থাপনাগুলোতে হামলার আশঙ্কা দেখানোর পাশাপাশি লোহিত সাগরে নৌ চলাচল ও বাণিজ্যিক সরবরাহপথ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরির চেষ্টা করেছে রিয়াদ।
তার ভাষ্য, এসব প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য ছিল হুথিদের বিরুদ্ধে চলমান সৌদি আগ্রাসনকে বৈধতা দেওয়া এবং সৌদি আরবের নীতির পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় করা।
আল-ফারাহ বলেন, মক্কায় হুথিদের ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠার পর সানার সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের বাহিনী সৌদি আরবের গভীরে কেবল কৌশলগত স্থাপনা ও সামরিক অবস্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে। ইয়েমেনের ওপর চলমান অবরোধ ও আগ্রাসনের জবাব হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালিত হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, এখন সৌদি আরব হুথিদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ঝুঁকির কথা বলছে। তার দাবি, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিয়ে নতুন করে ভয় তৈরি এবং ইয়েমেনে বিদেশি হস্তক্ষেপের জন্য অজুহাত তৈরিই এর উদ্দেশ্য।
আনসারুল্লাহর এই নেতা বলেন, মিথ্যা ও তথ্য বিকৃতির ওপর নির্ভর করে নেওয়া এ ধরনের কৌশল কোনোভাবেই সফল হবে না। তিনি বলেন, বিশ্বের নেতারা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অধীনস্থ নন এবং তাদের সেনাবাহিনীও তার নির্দেশে পরিচালিত কোনো পুলিশ বাহিনী নয়।
আল-ফারাহর দাবি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ধীরে ধীরে আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে ইয়েমেনের বৈধ অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে সৌদি আগ্রাসন ও ইয়েমেনের ওপর আরোপিত অবরোধ বন্ধের আহ্বানও জোরালো হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, হুথিদের সশস্ত্র অভিযান পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক এবং তা ইসলামী নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। তার ভাষায়, যারা ইয়েমেনের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করে না, হুথিরা কখনো তাদের লক্ষ্যবস্তু করবে না। আল-ফারাহ সৌদি কর্তৃপক্ষকে আন্তর্জাতিক জোট, প্রক্সি বাহিনী ও প্রচারাভিযানের আশ্রয় না নিয়ে সরাসরি হুথিদের মোকাবিলা করার আহ্বান জানান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের সানা প্রশাসন গত ২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। ইয়েমেনের ওপর প্রায় ১২ বছর ধরে চলা ‘অন্যায্য ও স্বৈরাচারী অবরোধের’ জবাব হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সানা জানিয়েছিল। এরপর হুথিদের সামরিক বাহিনী লোহিত সাগরে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি জাহাজকে লক্ষ্য করে একাধিক সফল অভিযান চালানোর দাবি করেছে।
২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরব ও তার মিত্ররা ইয়েমেনের ওপর অবরোধ আরোপের পাশাপাশি দেশটিতে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি পশ্চিমা দেশের সামরিক, রাজনৈতিক ও সরবরাহগত সহায়তায় এ অভিযান পরিচালিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধটিতে ইয়েমেনের কয়েক দশক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে সৌদি আরবের ঘোষিত লক্ষ্য নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি সরকারকে ইয়েমেনে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এখনও অর্জিত হয়নি। সূত্র: প্রেস টিভি
ভোরের আকাশ/এম