শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ইরানের দ্রুতগতির নৌবহর মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের প্রচলিত নৌবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তারা এখন মেশিনগান লাগানো ছোট ছোট নৌকার ওপর নির্ভরশীল। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ছোট ও দ্রুতগতির নৌযানগুলোই বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই তথাকথিত ‘মশা নৌবহর’ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করছে। এর মাধ্যমে তেহরান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখতে চাইছে।

এই কৌশলের সূচনা হয় ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়। ওই সময় পারস্য উপসাগরে তেলবাহী জাহাজকে কেন্দ্র করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ইরানের প্রচলিত নৌবহর বড় ক্ষতির মুখে পড়ে। এরপরই শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজের বদলে ছোট, দ্রুতগতির ও কম খরচের নৌযানভিত্তিক কৌশল গড়ে তোলে ইরান।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নৌকৌশল শুধু ছোট নৌকাতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, নৌ-মাইন, উপকূলভিত্তিক হামলা এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সমন্বিত তৎপরতা।

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সাঈদ গোলকার বলেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর পরিচালিত এই নৌবহর প্রচলিত নৌযুদ্ধের জন্য তৈরি হয়নি। বরং তাদের লক্ষ্য হচ্ছে জাহাজ চলাচলে ভয় ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা, বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত করা এবং খরচ বাড়িয়ে দেওয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এসব দ্রুতগতির নৌকা বাণিজ্যিক জাহাজের খুব কাছে গিয়ে গুলি ছোড়া, সমুদ্রে মাইন পাতা এবং দলবদ্ধভাবে আক্রমণের মতো কৌশল ব্যবহার করে। অনেক নৌকায় মেশিনগান, রকেট ও জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে।

অনেক নৌকা ইরান নিজেই তৈরি করেছে। আবার মাছ ধরা বা বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত নৌযানকেও সামরিক ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কম খরচে তৈরি হওয়ায় এসব নৌকা সহজেই প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। ফলে তুলনামূলক কম ব্যয়ে ইরান বড় ধরনের সামুদ্রিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব নৌযান পানির খুব কাছাকাছি অবস্থান করায় রাডারে শনাক্ত করা কঠিন। ফলে কার্যকর নজরদারির জন্য নিয়মিত ড্রোন, হেলিকপ্টার ও টহল বিমানের সহায়তা প্রয়োজন হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের কাছে এ ধরনের নৌকার সংখ্যা ৫০০ থেকে এক হাজারেরও বেশি।

বিশ্লেষকদের ভাষায়, এটি মূলত সাগরে গেরিলা যুদ্ধের কৌশল। সরাসরি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী নৌবাহিনীর মুখোমুখি না হয়ে ইরান আঘাত করে দ্রুত সরে যাওয়ার পদ্ধতি অনুসরণ করছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ব্যয়বহুল সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাহাজ ডুবানো ছাড়াও শুধু হামলার আশঙ্কাই বাণিজ্যিক পরিবহনে বড় প্রভাব ফেলছে। এতে বীমা খরচ বাড়ছে এবং অনেক কোম্পানি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলার চিন্তা করছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন যেখানে গড়ে প্রায় ৬০টি জাহাজ চলাচল করত, সেখানে এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ১০টিতে। সামগ্রিকভাবে চলাচল ৯০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর পর্যবেক্ষণ দল।

আরও পড়ুন

হিজবুল্লাহর গোলার আঘাতে ইসরায়েলি সেনা নিহত

সম্প্রতি কাতারের দোহা উপকূলের কাছে একটি পণ্যবাহী জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলমান উত্তেজনার কারণে প্রায় এক হাজার ৫০০ জাহাজ ও ২০ হাজার নাবিক আটকে পড়েছেন। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে এবং তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। সূত্র : বিবিসি

ভোরের আকাশ/সু.পা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা

শেয়ার করুন: