ভাই সেজে নিজের স্ত্রীকেই বিয়ে দিলেন স্বামী

ভারতের মধ্য প্রদেশের গোয়ালিয়রে বিয়ের পিঁড়িতে বসা কনের ‘ভাই’ হয়ে পরে কনের আসল স্বামী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই প্রতারণার ঘটনায় কনে ও তার প্রথম স্বামীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
গোয়ালিয়রের নাকা চন্দ্রবদন এলাকার বাসিন্দা রতন শর্মা জবলপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে টিম লিডার হিসেবে কাজ করেন। রতনের পরিবার উপযুক্ত পাত্রী খুঁজছিল। প্রতিবেশী সোনু তিওয়ারি তাদের মোরেনার অজয় চৌহান ওরফে সোনুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
অজয় দাবি করেন, তিনি তার দরিদ্র পালিত বোন দীক্ষা মুদগালের (রাধা) জন্য পাত্র খুঁজছেন। মেয়েটিকে দেখার পর রতনের পরিবার বিয়েতে রাজি হয়।
গত ২৭ এপ্রিল বিয়ের প্রথম আনুষ্ঠানিকতায় অজয় চৌহান ‘ভাই’ হিসেবে অংশ নেন। ৭ মে হিন্দু রীতি অনুযায়ী রতন ও দীক্ষার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়েতে কনের ‘মা’ পরিচয় দিয়ে মায়া দেবী ‘কন্যাদান’ করেন। শিল্পী পারমার, রাঘবেন্দ্র পারমার ও সত্যেন্দ্র চৌহান কনের পরিবারের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। রতনের পরিবার এই বিয়েতে প্রায় ৭ লাখ রুপি খরচ করে।
বিয়ের পর কনে স্বামীর ঘরে এলে সারাক্ষণ মোবাইল ফোনে চ্যাটিং নিয়ে পরিবারের সন্দেহ হয়। এক রাতে রতন স্ত্রীর ফোন চেক করে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে জানতে পারেন, বিয়েতে ‘ভাই’ সেজে আসা অজয় চৌহান আসলে দীক্ষার আসল স্বামী। ২০২৪ সালে আগ্রার একটি আর্য সমাজ মন্দিরে তাদের বিয়ে হয়েছিল এবং তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করছিলেন।
রতন শর্মা অভিযোগ করেন, কয়েক লাখ রুপি, নগদ টাকা ও গহনা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে চক্রটি পরিকল্পিতভাবে ভুয়া বিয়ের ফাঁদ পেতেছিল। পরে রতনের পরিবার কনেকে থানায় নিয়ে অভিযোগ দায়ের করে।
পুলিশ দীক্ষা, অজয় চৌহান, মায়া দেবী, শিল্পী পারমার, রাঘবেন্দ্র পারমার, সত্যেন্দ্র চৌহান ও সোনু তিওয়ারির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। কনেকে ওয়ান-স্টপ সেন্টারে পাঠানো হয়েছে এবং অজয় চৌহানকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
ভোরের আকাশ/নি