মণিপুরে নাগা-কুকি সংঘর্ষে ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৯

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যটির তিনটি জেলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রাণঘাতী এই সহিংসতায় আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।
রোববার (১১ অক্টোবর) হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন নাগা, দুজন কুকি এবং একজন নেপালি বংশোদ্ভূত। কামজং ও কাংপোকপি জেলায় চারজন করে এবং উখরুল জেলায় একজন নিহত হয়েছেন।
এ প্রাণহানির ঘটনা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।
এদিকে, সহিংসতার মধ্যেই দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং। রাজ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে বৈঠকের পর তিনি জানিয়েছেন।
মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে।
একই সঙ্গে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত শুক্রবার রাতে নাগা-অধ্যুষিত কামজং জেলার চাসাদ থানার কাছে নিরাপত্তা বাহিনী ও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে ৪২ বছর বয়সী এক কুকি নারী নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাসাদ থানার কাছে নির্মিত অবৈধ বাংকার ধ্বংস করতে রাজ্য পুলিশ, ইন্ডিয়ান রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন (আইআরবি) ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) অভিযান চালায়।
এসময় একদল নারী অভিযান ব্যাহত করার চেষ্টা করেন। কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা নিরাপত্তাকর্মীদের নিশানা করে গুলি চালায়। জবাবে নিরাপত্তাকর্মীরাও পাল্টা গুলি চালান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান পাঁচ সন্তানের মা ডমখোনেই তৌথাং।
অন্যদিকে, কুকি সম্প্রদায়ের নারীদের নিয়ে গঠিত নাগরিক সংগঠন কুকি উইমেন ইউনিয়নের দাবি, ২৩ বছর বয়সী কুকি যুবক মাইকেল এনগামমিনলেন হাওকিপকেও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এক কর্মকর্তা তার মৃত্যুর খবর ও পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, উত্তেজনার মধ্যে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা দুই সম্প্রদায়ের সদস্যদের অন্তত ১৪টি বাড়িতে আগুন দেন। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গত শনিবার সকালেও সহিংসতা অব্যাহত থাকে। এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রথম সংঘর্ষস্থল থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে নিংচৌ চিন্ডং গ্রামে এনগাচানসো নিংশেন (৩০) ও লেইশিশান হুংইয়ো (৫০) নামে দুই নাগা গ্রামরক্ষী নিহত হন।
পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে আসা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এ হামলায় জড়িত থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
ভোরের আকাশ/আ.র