বন্যা বিধ্বস্ত নেপালের পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৫ বিলিয়ন ডলার

নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪-এ দাঁড়িয়েছে এবং ২,৪৯৮ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ৯টায় প্রকাশিত তাদের অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে যে, বিভিন্ন বন্যা-বিধ্বস্ত জেলা থেকে মানবদেহের অবশেষসহ ৭৩৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ দুর্যোগ মোকাবিলায় বিদেশি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে নেপাল। দেশটির অর্থমন্ত্রী রয়টার্সকে বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে প্রায় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। হিমবাহ ধসে সৃষ্ট এই বিপর্যয়ে বুধবার (২৬ আগস্ট) পাহাড়ি নদীগুলোর ওপর দিয়ে পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রচণ্ড স্রোত নেমে আসে। এ স্রোতে বহু ভবন, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে গেছে।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া জেলার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বৃষ্টি ও কুয়াশার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান আবার শুরু হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় হেলিকপ্টারগুলো উড়ছে এবং অভিযান আবার শুরু হয়েছে। বন্যার পর নেপাল-চীন সীমান্তে সৃষ্টি হওয়া একটি হ্রদ নেপালের লেন্দে খোলা ও ত্রিশূলী নদীর দিকে উপচে পড়তে শুরু করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) পরিস্থিতির ঝুঁকি কিছুটা কমে আসে এবং হ্রদের তলদেশের কিছু অংশ দৃশ্যমান হয় বলে চীনা কর্তৃপক্ষ ও দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, হ্রদের পানি ধীরে ধীরে বেরিয়ে যাচ্ছে এবং এর আকারও ক্রমশ ছোট হচ্ছে।
বন্যাকবলিত এলাকার উজানে থাকা দুটি হ্রদের মধ্যে এটি একটি, যেগুলো নেপাল পর্যবেক্ষণ করছে। একজন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, উভয় হ্রদের পানি পুরোপুরি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত বন্যার ঝুঁকি থাকবে।
দুর্যোগের তিন দিন পর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার করা কিছু মরদেহ এতটাই পচে গেছে যে সেগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। স্বাস্থ্যঝুঁকি ও রোগের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কায় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে এসব মরদেহ দাফন করা হবে। চিতওয়ান জেলা প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে এবং মরদেহগুলো খোলা জায়গায় দাফন করা হবে।
কাঠমান্ডুতে মহারাজগঞ্জ মেডিকেল ক্যাম্পাসের বাইরে জড়ো হয়ে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। সেখানে কয়েকটি মরদেহ নেওয়া হয়েছিল। অনেকেই ফটক ও সীমানাপ্রাচীরে টাঙানো মরদেহের ছবির মাধ্যমে স্বজনদের শনাক্ত করার চেষ্টা করেন।
ভোরের আকাশ/সু.পা